মুক্তধারা

মন জাদু

জিলফিকা বেগম জুঁইঃ আকাশ থেকে পৃথিবীতে চলে আসলো এক অদৃশ্য মানব। সে কিছুদিনের জন্য পৃথিবীতে বেড়াতে এসেছে। তাকে কেউ দেখতে পায় না কারণ সে অদৃশ্য।

তাই সে কখনো গাছে কখনো বাসে বা বিমানে ঘুরতে লাগলো । ভেবে নিল সে বেশ কিছুদিন বাংলাদেশে থেকে যাবে।

একপথে সে আনমনে হেঁটে চলছে। হঠাৎ সে দেখতে পেল এক ব্যক্তি ক্ষুধায় কাতর। পাশের ড্রেনে খাবার পরে আছে। ক্ষুধার্ত ব্যক্তি সেই খাবারের দিকে তাকিয়ে আছে আর মনে মনে কষ্ট পাচ্ছে।

অদৃশ্য মানবের খুব ইচ্ছে করল জাদুমন্ত্র করে তাকে খাবার দিতে। কিন্তু সে পারল না কারণ এই জাদু সে জানে না। তবে মন জাদু সে জানে। এই জাদু দিয়ে সে মন পরিবর্তন করে দিতে পারে।

ভাবলো আশেপাশে কারো মন পরিবর্তন করে দেয়া যায় কিনা । যে খাবার ফেলে না দিয়ে পাশে ক্ষুধার্ত ব্যক্তিটাকে দিবে।

অমনি একটা লোক খাবার ফেলতে এসেছিল তখনি অদৃশ্য মানব লোকটার মন পরিবর্তন করে দিলো। তিনি খাবার না ফেলে দিয়ে ক্ষুধার্ত ব্যক্তিকে দিয়ে দিলো।
অদৃশ্য মানব ভাবল কি আজব দুনিয়া মনটাকে নিজ থেকে ঠিক করে নিলেই তো পারে! এসব ভেবে অদৃশ্য মানবের মনটা খারাপ হয়ে গেল। আবার সে আনমনে পথ চলতে লাগলো।

এবার সে দেখতে পেল এক বৃদ্ধ ঠেলাগাড়ী ঠেলতে গিয়ে বড্ড ক্লান্ত,তাই সে বসে হাপাচ্ছে। একটু পানি পেলে হয়তো তৃষ্ণা মিটতো। আশেপাশে সবাই ব্যস্ত কে দেখে কার দিকে।

বৃদ্ধের পাশেই এক হোটেল আছে সেখান থেকে এক ছেলে এসে বৃদ্ধকে ঠান্ডা এক গ্লাস পানি দিল। এটাও সেই অদৃশ্য মানব মন জাদু করেছে।

সে পথ চলতে লাগলো। এবার যা দেখলো চোখ একেবারে ছানাবড়া। এক স্বামী তার বউকে বেদম মার মারছে রাস্তায় সবার সামনে। কিছুক্ষণের মধ্যেই লোকটি স্ত্রীকে মারার জন্য সবার সামনে দুঃখ প্রকাশ করে স্ত্রীকে ডাক্তারের কাছে নিয়ে গেল কারণ স্ত্রী মার খেয়ে অসুস্থ হয়েছে বলে। এটাও সেই মনজাদুর খেলা। স্ত্রী সেই ভীত মনে একটু একটু সাহস পেল।

চারদিকে এত সমস্যা দেখে দেখে মন জাদু মানবের মনটা খারাপ হয়ে গেল। সে ভাবল এই জাদুটাতো কিছু সময়ের জন্য থাকে পরে আবার আগের অবস্থায় ফিরে আসে । সমস্যা এখানেই যে সমাধানটা স্থায়ী হচ্ছে না । কি করবে সে ভেবে পাচ্ছে না।

কোথায় সে ঘুড়েফিরে মন ভাল করবে তা না হয়ে মনটা খারাপ হয়ে যাচ্ছে এত সমস্যা দেখে। এসব ভাবতে না ভাবতেই কানে ইভটিজিং এর সাউন্ড চলে আসলো। ইস কি বাজে সাউন্ড করছে ছেলেগুলো।

মেয়েটা না শোনার ভান করে চলে যাচ্ছে কিন্তু ছেলেগুলো থামছেই না। মুহূর্তের মধ্যেই একটি ছেলে বলল, এই তোরা থাম ও আমাদের বোনের মত। আর অমনি ছেলেগুলো সব থেমে গেল। ওইতো এটাও মনজাদুর খেলা।

কিন্তু সমাধানতো স্থায়ী হল না। এমনটা আবারো চোখে পরলো কিন্তু সে মন জাদু করলো না শুধু তাকিয়ে রইল হতাশ মনে।
সমাজের দৃশ্যমান মানুষগুলো যেভাবে হতাশ থাকে ঠিক সেইভাবে অদৃশ্য মানবও হতাশ মনে চেয়ে রইল।