অনুরণন

হৃদয়ের কাছাকাছি (পর্বঃ৬)

সাজু প্রথম রোদেলাকে দেখেছিলো কিছুদিন আগে একটা মিটিং এ গিয়ে। তখন থেকেই সাজু ওকে পাবার জন্য অস্থির। আজ শেষ পর্যন্ত অপেক্ষার শেষ হলো। রোদেলার ইচ্ছা সে দূরের কোন শহরে যাবে, সাজুর তাতে কোন আপত্তি নাই। এমন সুন্দরী, সুহাসিনী কিছু চাইবে আর সেটা হবে না তা তো হয় না। তবে ইতি, রোদেলার চেয়ে শতগুন সুন্দর তাতে কোন সন্দেহ নাই সাজুর। তাই তো ইতিকে সারাজীবনের মতো ঘরে এনে রাখা।
সাজু আনমনে টিভির দিকে তাকিয়ে আছে।

রোদেলা: টিভি কি দেখছেন নাকি শুধু শুধু তাকিয়ে আছেন?

সাজু: হু,শুধু তাকিয়ে আছি

রোদেলা: কেনো আপনি কি লজ্জা পাচ্ছেন?

সাজু মনে মনে ভাবে,সুন্দরী মেয়েরা একটু দেমাগী আর বেশরম টাইপের হয়। এতো দিন কোন মেয়েই সাজুকে এভাবে বলার সাহস পায়নি। সাজু যা বলেছে মাথা এদিক ওদিক করে শুধু শুনেছে।

সাজু: লজ্জা পাবো কেনো? তোমার কোন কাজ থাকলে করো।

রোদেলা: কাজ তো আপনার সাথে-সাথে থাকা।

সাজু : তাহলে তাই থাকো। আর শোন রোদেলা, আমার স্ত্রী তোমার চেয়ে সুন্দর,শিক্ষিত, আর ব্যক্তিত্বসম্পন্ন মহিলা। আমি তার প্রত্যেকটা গুনে মুগ্ধ। আমি তার পাশে নিজেকে অযোগ্য মনে করি। সে যখন ঘুমায় আমি তার মুখের দিকে তাকিয়ে থাকি আর ভাবি সে আমার সাথে কতটা অসুখী তারপরেও সবসময় প্রশান্তির ছায়া চোখে মুখে।

জানো রোদেলা? আমি বুঝি সে সুখী না আমার সাথে,সে কেনো কোন মেয়েই আমার সাথে সুখী হবে না জানি। কিন্তু আমি তার মুখের দিকে তাকালে সব ভুলে যাই,আমি ওকে ভীষন ভালোবাসি,তাই তো নিজের স্বার্থে ওকে কষ্ট দেই।

রোদেলা: কিসের কষ্ট আপনার মতো মানুষের পাশে? কিসের কমতি?

সাজু: তোমাকে আজ বলতে ইচ্ছে করছে তাই বলছি- ইতিকে যখন প্রথম দেখলাম রাস্তায়, আমি ওকে পেতে অস্থির হয়ে উঠলাম। আমি যখন থেকে নিজে উপার্জন করা শুরু করেছি তখন থেকেই আমার কি এক আকর্ষন কাজ করতো সুন্দরী মেয়েদের প্রতি। আমি তাদের সাথে সময় কাটাতাম। এবার আমি খবর নিলাম ইতির বাড়ির। ওর বাবা নাই,অসুস্থ মা। ইতি টিউশনি করে মায়ের চিকিৎসা খরচ চালানোর চেষ্টা করে যেটাতে সে কুলিয়ে উঠতে পারতো না। আমি সেই সুযোগ নিলাম তাকে প্রস্তাব দিলাম তার মা’র সমস্ত খরচ ভার আমার, আমি তার জন্য যা করার করবো যদি সে আমাকে বিয়ে করে। তার সামনে কোন পথ খোলা ছিলোনা,কারন ডাক্তার বলে দিয়েছিলো ভালো চিকিৎসার জন্য দেশের বাহিরে নিয়ে যেতে। ইতি চায়নি তার একমাত্র অবলম্বল তার মা’কে হারাতে। তাই সে আমার প্রস্তাব মেনে নিয়েছে তার মাকে বাঁচাতে।

রোদেলা: খারাপ কি,আপনি তো তার ভালোই করেছেন,ভালো রেখেছেন।

কিন্তু এটা বলেন-আপনার স্ত্রী এতো রুপবতী,গুনবতী তারপরেও কেনো আপনি বাইরে এভাবে রাত কাটান?

সাজু: রোদেলা এটা আমার খারাপ দিক আমি জানি,কিন্তু ছাড়তে পারি না। আমিতো জানি আমি কি করছি। আমি কখনই কোন মেয়েকে স্পর্শ করিনি। কখনই না। আমি সুন্দরে মগ্ন সবসময়। আমি তাদের নিয়ে ঘুরে বেড়ায়, তাদের সাথে গল্প করি একটু ভিন্নতা আনার জন্য। আমি তাতেই আনন্দ খুঁজে পাই। কোন নারীর কাছে যাওয়ার ক্ষমতা নেই আমার রোদেলা।

আমি কাউকে আমার সমস্যা বুঝতে দিতে চাইনা। আমার পরিচিত জন যারা আমার এই খারাপ দিকটার কথা জানে তারা মনে মনে আমাকে ইর্ষা করে আর বাহিরে কারো সামনে ঘৃনা করার অভিনয় করে। কানাঘোষা করে আমার চাহিদা নিয়ে। আর আমি সেটাকে ধরে রাখবার জন্য একের পর এক সুন্দরীকে আমার সঙ্গী করি,তবে শয্যাসঙ্গী না। মানুষ আমাকে কোন ভাবেই যেনো দূর্বল মনে না করে তাই আমার এই শখটাকে এখনও ধরে রাখা।

আমি ইতিকে ভীষন ভালোবাসি আমি চাইনা কেউ আমার ব্যক্তিগত দূর্বলতার সুযোগ নিয়ে ওর কাছাকাছি আসুক।

একজন পুরুষ যখন অসহায় বোধ করে তখন তার পাশে কাউকে পাওয়া যায় না। আমার পাশে আমি ইতিকে পেয়েছি কিন্তু ওর চোখে চোখ রাখতে পারিনা আমি।

রোদেলা আমি কাল তোমাকে চা বাগান দেখার সব ব্যবস্থা করে দিবো তুমি দেখে নিও। আমি সকালেই বেরিয়ে যাবো। তোমার ফিরতি টিকিট দেখো টেবিলে রেখেছি,তুমি নিয়ে নিও। এখন তুমি নিশ্চিন্তে ঘুমাও।

আর একটা কথা -তুমি অবশ্যই সুন্দর আর খুব ভালো মেয়ে,তবে ইতির মতো না। ইতির সৌন্দর্য শুধু তার রুপের না তার মনেরও। এতো কিছুর পরেও সে আমার অসুস্থ মা আর আমার পরিবারকে এখনও ভালোবাসায় বেধে রেখেছে।

(চলবে………)

লিখেছেনঃ সাজিয়া আফরিন