অনুরণন

হৃদয়ের কাছাকাছি (পর্ব : ৫)

রফিক আর বাদল সারদিন অফিসে হাসি গল্পে মেতে থাকে। হাজার রকমের গল্প তাদের পেটে জমা থাকে। আর অফিসে থাকেই বা কতক্ষণ? কাজের বাহানায় বাহিরেই কাটে তাদের বেশীরভাগ সময়। আজ অফিসে থাকবে তাই এসেই শুরু হয়েছে তাদের গল্প।

রফিক – বুঝলেন বাদল ভাই ওরকম সুন্দরী বউ থাকলে আমি কোন দিকে ঘার ঘুরাতাম না।

বাদল – আমি তো ভাই তাহলে বউ এর উড়নার নিচে ঘাপটি মেরে থাকতাম।

রফিক – হা হা হা,ঠিক ঠিক বাদল ভাই। আরে আমাদের কপাল দেখেন। আমারটা তো মা কালীর কালার নিয়েই এসেছে।

বাদল – কি যে বলেন রফিক ভাই,ভাবীর চেহারা তো কাটা কাটা, আর আমার টার রং যা হয় একটু চলে কিন্তু চেহারা পুরাই বার্মিজ। কোনই আলাদা সৌন্দর্য নাই।

রফিক -আরে ভাই অন্যেরটারে কাটাকাটাই মনে হয়,কিন্তু সেটাই যে নিজের বেলায় গলার কাটা হয়ে বিধে যায়। না যায় গিলা না যায় বের করে ফেলা।

বাদল – হা হা হা। ভালো বলেছেন রফিক ভাই।তবে বসের বউ মাশাআল্লাহ্।

রফিক – আরে ভাই তারপরেও বসের মন ভরে না। চম্পা-চ্যামেলি না হলে তার চলে না। আরে বাবা তার কিসের অভাব?

বাদল – অভাব নারে ভাই অভাব না,সভাব ওটা। কি বলেন শায়লা ম্যাডাম?

শায়লা – আপনারাও আর গল্পের কিছু পান না। আমি আর কি বলবো ? আপনাদের তো হূর এনে দিলেও বলবেন কেনো যে রিমির মতো চোখ না,শেলীর মতো নাক না?

রফিক- বাদল ভাই, এইতো এখন মনে পরে গেলো নামটা। কিছুদিন ধরে রিমির কথা খুব শুনছি- সুন্দরী,সেই দেখতে। জানেন কিছু?

শায়লা- আচ্ছা এতো খবর কোথায় পান আপনারা? সারাদিন শুধু এসব নিয়েই আছেন।

বাদল- জানতে হয়, প্রমোশনের জন্য সব জানতে হয়, বসরে খুশি করতে পারলেই ব্যস্।

শায়লা- তাই নাকি?! খুব ভালো তো

রফিক- শায়লা ম্যাডাম কি প্রমোশন চান না,নাকি?

শায়লা- যত বাজে বকেন আপনারা দুইজন। যান কাজ করেন।

সাজুর কানে এসব কথা যে যায় না তা না, প্রতিটা লাইন ওর কানে পৌঁছায়। সে এসব শুনেও শোনেনা। পুরুষ মানুষের এমন রটনা না থাকলে তাকে পুরুষ মনে হয় না সাজুর কাছে।

তবে শায়লার সাথে সেই রাতটার কথা সাজুর এখনও মনে পরে। প্রথম দেখাতেই মনে ধরেছিলো সাজুর। মনে হয়েছিলো মেয়েটা ওরকম না। মেয়েটাকে সুযোগ দিলে ভালো কিছু করে দেখাতে পারবে। তাই সাজু ওকে সুযোগ দিয়েছিলো সঠিক পথে ফিরে আসার।

যাক সে সব। আজ আর কোন কিছু ভাবার সময় নাই সাজুর, কিছুক্ষনের ভিতর বের হতে হবে তাকে।

(চলবে……)

লিখেছেনঃ সাজিয়া আফরিন