অনুরণন

হৃদয়ের কাছাকাছি (পর্ব: ৪)

প্রায় প্রায় বাইরে যেতে হয় সাজুকে কাজে। যদিও কাজগুলোর জন্য তার না গেলেও চলে। কিন্তু সে যেতে চায়। এতো বছরে তার কোন পরিবর্তন আনতে পারেনি ইতি। আজও সে তার মতো বের হচ্ছে ।

ইতি- আজ কোথায় যাচ্ছো।

সাজু- একটা কাজে শহরের বাইরে।

ইতি- ক-দিনের কাজ? কবে ফিরবে?

সাজু- বলতে পারছিনা কাজ শেষ হতে কদিন লাগবে।

ইতি- আমরা তো সবাই মিলেও যেতে পারি,একটু বেড়ানো হয়। আগে বললে আমি কোন কাজ রাখতাম না।

সাজু- পিয়াসা বড় হোক তখন দেখা যাবে।

ইতি: কাল বাসায় সবাইকে আসতে বলেছি জানোই তো।তুমি থাকবেনা সেটা কেমন দেখাবে বলো?

সাজু: আমার থাকার কি এমন দরকার আছে বুঝি না।আর আমার যাওয়াটা খুব দরকার। এখন বেরুবো, একেবারেই সময় নাই।

সাজু বেরিয়ে গেলো,ইতি তাকিয়ে থাকে মানুষটার দিকে। ইতি জানে কেনো তার বাইরে যাবার এতো আগ্রহ।

ইতির মনে পরে গেলো সেদিনের কথা। এইতো কিছুদিন আগে এক দিনের জন্য বাইরে যাওয়ার কথা বলে সাজু কোথায় গিয়েছিলো ইতি সেটাও জানে। শহরের সবচেয়ে সুন্দরী মেয়েটা নাকি তার নজরে পরেছিলো। কথাটা যদি অন্যভাবে তার কানে আসতো তাহলে যে করেই হোক অন্য সময়ের মতো হজম করে নিতো। কিন্তু এবার আর হজম করার উপায় ছিলো না,কারন অফিস স্টাফ রফিকের বউটা ফোন করে খুব সাজিয়ে গুছিয়ে জানলো সাজু কোথায় কার সাথে? মেয়েটার রুপের প্রশংসা এতো করলো যেনো ইতিকে শুনানোর জন্যই তার বলা। নিজের কাছে নিজেকে ভীষন ছোট মনে হচ্ছিলো। রফিক যখন তার বাড়িতে এসব বলেছে তখন আর বিষয়টা গোপন নেই। তাই কথাটা মেনে নেওয়া সহজ ছিলোনা।

সাজু বাড়ি ফিরে ইতির সামনে দাঁড়িয়ে কিছু বলার আগেই ইতির রাগে শক্ত হয়ে যাওয়া হাতটা সাজুর গালে গিয়ে পরে। রাগ,লজ্জা, অপমান সব যেনো ইতিকে শেষ করে দিচ্ছিলো।

ইতি: এতো তাড়ার কি ছিলো,আরো কটা রাত কাটাতে পারতে? এমন সুন্দরীরা তো সব সময় ফ্রি থাকে না।

সাজু একটুও রেগে যায় নি সেদিন। সে যেনো সব সময় তৈরি থাকে এমন কিছুর জন্য আর সে তো,জানে কি করে ইতিকে শান্ত রাখতে হয়।

সাজু: প্লিজ ডিয়ার এটা কেমন রাগ তোমার? সব জানো তুমি। সব জেনেও কি রাগ করতে হয়?

ইতি: তুমি পারবে আমাকে এভাবে দেখতে? তুমিও তো সব জানো।

সাজু: ইতি কথা বাড়িও না, আমার কাছে তুমি কি সে ভালো করেই জানো। আর আমি আমার কথা আগেই তোমাকে বলেছি।

ইতি: বলেছো? কি বলেছো? কতটা বলেছিলে?

সাজু: তোমার সব চাওয়া কি পুরন করছি না আমি? পিয়াসাকে চেয়েছো আমি দিয়েছি, আরও অনেক কিছু।

ইতি: স্বামীকে পাওয়ার চেয়ে বড় পাওয়া আর কি?

সাজু: ভুলে যেওনা তোমার সাথে আমি সব কথা বলে তবেই বিয়ে করেছি। বলেছি তুমি আমাকে মেনে নিবে আর তোমার অসুস্থ মা’র দেশ-বিদেশে চিকিৎসা করার ভার সহ তার সব কিছু আমি বহন করবো। তুমি নিজেই রাজি হয়েছিলে আমি জোর করিনি।

ইতি: তোমাকে মেনে নেওয়া মানে তোমার যোগ্যতা, তোমার পেশার সাথে আপোষ করা,আর আমি সেটা করেছি। তোমার চরিত্রের সাথে, তোমার সমস্যার সাথে আপোস করিনি।

সাজু: ঠিক আছে তুমি চাইলে বলো আমি তোমাকে মুক্ত করে দিবো। তোমাকে ধরে রাখবো না,কিন্তু ভেবে দেখো তোমার মা’র কি হবে? তার চিকিৎসা বন্ধ হয়ে যাবে,তুমি চাইলেই এখন আর একটা চাকুরী খুঁজে নিতে পারবে না। পিয়াসার যে দায়িত্ব নিয়েছো সেটা কি ছেড়ে দিতে পারবে? জীবনটা অনেক কঠিন ইতি। তুমি নিজের স্বার্থে তোমার অসুস্থ মা’য়ের কথা ভুলে যাচ্ছো। ইতি তুমি খুব স্বার্থপর হয়ে গেছো।

ইতির দুচোখ বেয়ে নোনা পানি গড়িয়ে পরে, চিৎকার করে বলতে ইচ্ছে করে আমি স্বার্থপর না সাজু। আমি আমাকে নিয়ে ভাবলে কবেই তো তোমাকে ছেড়ে চলে যেতাম,অথবা তোমাকে বিয়ে করতাম না।

আনমনে ভাবতে ভাবতে ইতির চোখ থেকে পানি গাল বেয়ে গড়িয়ে পরে……..

(চলবে….)

লিখেছেনঃ সাজিয়া আফরিন