অনুরণন

হৃদয়ের কাছাকাছি (পর্বঃ ৩)

আজ ইতির বাসায় সব বন্ধু বান্ধবীদের পরিবার নিয়ে যাওয়ার কথা কিন্তু বাধন যেতে চাইছেনা। অনেক বছর পর এবার সবার সাথে দেখা হবে, ভাবতেই খুশি লাগছে মালতীর। নাস্তার টেবিলে বসে বাধন পেপার পড়ছে। মালতী খুব চাইছে বাধন তার সাথে যাক।

মালতী: তুমি কি আমার সাথে সত্যিই যাচ্ছো না?

বাধন: না, তুমি ঘুরে এসো,আমার আসতে এমনিতেই রাত হবে হয়ত।

মালতী: আমারও কেনো জানি একা যেতে ইচ্ছে করছে না ইতির বাড়িতে। কতবার করে বলে গেলো,না গেলে খুব মন খারাপ করবে।

বাধন: যাওয়া উচিত,এতো দিন পর সবার সাথে দেখা হবে। আর তাছাড়া তুমি ওর কাছের একজন। বাড়িতেই বা কি কাজ তোমার? তুমি না গেলে সে কষ্ট পাবে।

মালতী: সবাই ফ্যামিলি নিয়ে যাবে,আর আমি একা, কেমন লাগবে তাই ভাবছি।

বাধন: ঠিক আছে যাও,আমি চেষ্টা করবো,দেখি কি হয়?

কথা বলতে বলতে মালতী কত কিছু ভাবছে,কতদিন পর এমন একটা দিন এলো। কারো তো এভাবে সময় হয়না। ইতি না বললে এটা হতোও না। তবে ইতির কথা ভাবলেই মালতীর মনটা খারাপ হয়ে যায়। এতো মিষ্টি একটা মেয়ে। কলেজে সবাই বলতো ইতির মতো আমরা কেউ না। অসাধারন গুনের অধিকারী ছিলো মেয়েটা। অথচ আজ কি দেখতে হচ্ছে।

ইতির বড় ননদ পিয়াসার জন্মের সময় মারা গেলো,ইতি খুব চেয়েছিলো বাচ্চাটাকে তার কাছে রাখতে। ননদ জামাই খুব একটা আপত্তি করেনি তাতে। ইতির চোখ ভরা স্বপ্ন ওকে নিয়ে। খুব ঘটা করে মেয়ের নাম রাখলো পিয়াসা। পিয়াসা তার ভালো থাকার অবলম্বন, তাকে নিয়েই ব্যস্ততার যেনো শেষ নেই, আর হবেই না বা কেনো,সাজুর সময় কোথায় ওকে দেবার? সবসময় বাইরে বাইরে। ইতি কি চায় সেটা সে কখনই জানতে চায় নি। সাজু ভাবে ইতির কিসের কমতি,মা না হতে পারার অভাব ছিলো পিয়াসা সে অভাব পুরন করেছে,যার দাবী কখনই ওর বাবা করতে আসবে না। যখন যা মন চাইছে সব পাচ্ছে আর কি চাহিদা থাকতে পারে একটা মেয়ের?

মানুষ এমন স্বার্থপর কেনো হয়। এ কেমন মানসিকতা? কেনো যে মানুষ টাকা দিয়ে সব কিনতে চায়? আর কেনইবা মানুষ দারিদ্রতার কাছে হার মানে!! কখনও কখনও কিছু মানুষ তার প্রিয় মানুষের জন্য নিজের সব কিছু ত্যাগ করে নীরবে,ইতি তেমনই এক জন। যার কথা ভাবলে মাঝে মাঝে খুব কষ্ট হয় মালতীর।

(চলবে…)

লিখেছেনঃ সাজিয়া আফরিন