মুক্তধারা

সোনার কপালী মেয়ে বেখেয়ালি

ও মেয়ে তুমি বড় লোকের বেটি। তোমার বাপ দাদার মেলা মেলা সম্পত্তি। দেখতে তুমি বেশ অনন্য তোমার রূপের নেই কোন জুড়ি। চোখ ধাঁধানো রূপ আর অনেক অনেক সম্পত্তি।

তাই সম্বন্ধ আসলে তোমার যেন কিছুই লাগে না। বিয়ে পাকাপাকি করার ক্ষেত্রে কোন সমস্যাই যেন নাই। এক কথায় তোমাকে যেকোন ছেলেপক্ষই পছন্দ করে। বিয়ে হল তোমার এক রাজপুত্রের সাথে।

বেশ সুখের সংসার তোমার। সুখের রাজ্যে জীবন শুরু হল তোমার। জীবন এত সুখের আগে জানতে আর এখনও জানছো। কারণ তুমি বড় লোকের মেয়ে গো। কোন অভাব নেই তোমার। সব ঠিকঠাক চলছে।

হঠাৎ দেখো তোমার সন্মানটা শুধু সৌজন্যের সময়ে বোধ করতে পারো। অন্য সময়টা যেন সুখহীন সুখহীন অনুভব হয়। অনেক সৌজন্যতার ভীড়ে তোমার সুখ যেন কোথায় হারিয়ে গেল। মনে যেন অশান্তি ভর চেপে বসে। তবে কি এইসব বিনিময়ে তোমার সুখ।

তুমি বলে কি তুমি কিছু নেই। কেন তুমি তোমাকে খুঁজে পাওনা। এত কেন তোমার হতাশা। ভালোবাসা কি তবে তোমার সম্পত্তিকে।
হ্যাঁ তুমি বলে কিছু নেই এখানে। কারণ তোমার সম্পত্তি কে তারা ভালোবেসে ছিল। এই সৌজন্যতার ভীড়েই তুমি মূল্যবান। সৌজন্য আছে জন্যই তোমার এত সুখ এত সন্মান এত ভালোবাসা। তবে সুখ হারিয়ে কেন এত হতাশা।

নিজেকে কি মূল্যহীন ভাবতে শুরু করেছো?
তার জন্য কি কষ্ট পাচ্ছো?

চিন্তা করো না সৌজন্য যতদিন আছে ততদিন তোমার সুখ শান্তি ভালোবাসা সন্মান সবটায় থাকবে কারণ তারা সৌজন্য পাচ্ছে!
কোন এক সময় বা কোন অনাকাঙ্খিত ঘটনায় সৌজন্যের নিয়মটা থাকে না।

ভেবেছো মেয়ে তখন তোমার কি হবে?
পারবে সব সামলাতে?

পারবে এই যৌতুকের অভিশাপ থেকে নিজেকে মুক্ত করতে?
পারবে সেই অভাবহীন জগতে ফিরে যেতে?

পারবে?
পারবে?

কখনো কি ভাবোনি কিভাবে নিজেকে আগলে রাখতে হয়?
কখনো কি চিন্তাও করো নি জীবনে যেকোন সময় অনাকাঙ্খিত কিছু ঘটে যেতে পারে?

ভাবোনি?
ভাবোনি?

নাকি সব সময় নিজেকে ভেবেছো তুমি সোনার কপালী?
একটি একটি করে তুমি জেগে উঠো।বাস্তবতায় নিজেকে সবার আগে চিন্তা করো। দায়িত্ব কর্তব্যের পাশাপাশি নিজেকে ভালোবাসতে না পারার থেকে বড় ব্যর্থতা আর কিছুই হতে পারে না।

লিখেছেন জিলফিকা বেগম জুঁই