অনুরণন

হৃদয়ের কাছাকাছি (পর্বঃ২)

মালতী ছুটতে ছুটতে দরজার সামনে এসে দাঁড়িয়েছে, বেল বেজেই যাচ্ছে। দরজা খুলবে ঠিক তখনই যেনো একটা জোরে ধাক্কা খেলো। কিছু বুঝে উঠার আগেই আর একটা ঝাকুনি আর কানে আসছে বহুদূর থেকে কেউ তাকে যেনো ডাকছে।

মালতী? বাধনের ডাকে এবার ধরমর করে লাফিয়ে উঠে বসলো মালতী। বাধন সামনে দাঁড়িয়ে, কে খুলে দিলো তাকে? আর সেই বা এখন বিছানায় কেনো?এসব ভাবতেই বাধন বললো- উঠো,দেখো কত বেলা হয়ে গেছে। ওহ্ তাইতো ঘরে রোদ এসে ঢুকেছে।

মালতী বিছানা থেকে নেমে আয়নায় নিজেকে দেখে,না সব তো ঠিক আছে, শুধু টিপ নেই। কারন রাতে শুতে যাওয়ার সময় টিপটা কপাল থেকে তুলে আয়নায় লাগিয়ে রেখেছিলো। আয়না থেকে টিপ নিয়ে পরতে পরতে মালতী ভাবে তাহলে কি স্বপ্ন ছিলো সব?

মাঝে মাঝেই এভাবে সে স্বপ্নে এসে হানা দেয়,আর আজ তো সেটাও পার করে গেছে। মালতী চায়নি আর তাকে মনে রাখতে কিন্তু সে না চাইলে কি হবে,নিয়তি তো চেয়েছে।

বাধন: কি হলো আজ যে ঘুম থেকে জেগে প্রথমেই আয়না দর্শন? মেয়েরা এতো আয়না দেখে কেনো বলোতো?

মালতী একটু হেসে ঘর থেকে বেরিয়ে যায়। বাধনের খাবার রেডি করে দিতে হবে,সে বেরুবে আজ তাড়াতাড়ি,বলেই রেখেছে কাল রাতে।

মালতী বাধনের বিয়েটা হয়েছে পারিবারিক ভাবে, তবে বিয়ের আগে দু,তিন বার কথা হয়েছিলো বাধন আর মালতীর। বাবা কাকুদের পছন্দ বাধনকে। পরিবার ভালো,ছেলের রেজাল্ট,চাকুরী,আর বিয়ের পর মেয়ের পড়াটাও চালিয়ে নিবে আর খুব বেশী ডিমান্ডও ছিলোনা তাদের। সব মিলিয়ে মালতীর পরিবার তো মহাখুশি।

খুব কাছের দিন দেখেই বিয়ের দিন ঠিক হলো। এতো দ্রুত সব হয়েছিলো যে মালতী তার পছন্দের বিষয়ে বাড়ির কাউকে বলতেও পারেনি। আর বলবার কোন সুযোগ ও ছিলো না,কারন বাঁধা ছিলো তাদের দুজনের ধর্ম। তাছাড়া মালতী কখনই সাগরের চোখে তার জন্য কিছু দেখেনি। দেখেনি সাগরকে তার দিকে কখনও গভীর ভাবে তাকাতে। তাহলে কোন ভরসায়,কার কথা বলবে? ভালোলাগা তার মনের গভীরে লুকিয়ে ছিলো সযত্নে।

মালতীকে দেখবার পর বাধন তখনই দিন ঠিক করতে বলে দিয়েছিলো। মালতী ঠিক করে তাকিয়েছিলো কিনা ওর দিকে সেটা আর মনে নেই। তবে শুনেছিলো দেখতে সুদর্শন,শিক্ষিত আরো অনেক কিছু,তবুও মালতীর দ্বিমত ছিলো। মন যে তার সাগরকে খোঁজে। দুবার ফোন করে বাধন মালতীর পছন্দ জানতে চেয়েছিলো। কিন্তু মালতীর চোখে তখন বিষাদের ছায়া সে বলতে পারেনি কিছুই।

একদিন স্বপ্নের মতো করে সব আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে যখন বাধন তার মুখোমুখি তখন হঠাৎ হু হু করে কেঁদে উঠলো মালতী। এতো কাছে থেকেও হারিয়ে গেলো চীরতরে। না পাওয়ার কষ্ট আজ আর মানতে চায় না মন। সব কান্না যেনো আজ সাগরকে হারাবার কষ্টে। নিজের উপর খুব রাগ হচ্ছে কেনো সে বলতে পারেনি?

একবার তো জানাতে পারতো নিজের কথা। কিন্তু একসাথে থেকেও বলতে পারেনি, বুঝাতে পারেনি। আর অভিমানও হচ্ছে সাগরের উপর। তবে তাকেই বা দোষ দিয়ে কি লাভ? মন না চাইলে কেউ তো আর কাউকে ভালোবাসি বলবে না। আজ কেনো জানি অর্থহীন মনে হচ্ছে সব কিছু। মালতী নিজেকে ক্ষমা করতে পারছে না কোন ভাবেই।

মালতীর এমন কান্না দেখে বাধন যার উপর নাই অপ্রস্তুত,বিদায় বেলায় এতো কাঁদলে ঠিক ছিলো,কিন্তু এখন কিসের কান্না বোঝা মুসকিল তার জন্য।

বাধন : কি হয়েছে মালতী, কোন কিছুর জন্য খারাপ লাগছে? কোন সমস্যা? বাড়ির জন্য খারাপ লাগছে?

মালতী কেঁদেই চলেছে।

বাধন: তুমি যদি না বলে এভাবে কেঁদেই যাও তাহলে আমি বুঝবো কি করে? বলো কি হয়েছে?

মালতী কথা বলতে পারছে না। কষ্ট, রাগ,অভিমান সব তাকে পেয়ে বসেছে। আর কি বলবে তাকে? বিয়ের আগে তো চেয়েছিলো জানতে তখন কেনো বললো না মালতী?

আচ্ছা সাগরের কথা বাধনকে না জানালে তাকে কি ঠকানো হবে? কাউকে এভাবে ঠকানো কি ঠিক? সাগরের কথা আজই কি বলবে,মালতী কি করবে বুঝতে পারছেনা,,?

(চলবে……)

লিখেছেনঃ সাজিয়া আফরিন