অনুরণন

হৃদয়ের কাছাকাছি (পর্বঃ১)

ফোনটা কানে ধরতেই সেই চেনা কন্ঠ মালতীর কানে এলো-
চোখটা বন্ধ করো তো মালতী,একবার করো
করেছো তো?

মালতী: হু করেছি,কেনো বলোতো

সাগর: কিছু কি দেখতে পাও

মালতী: হু পাইতো

সাগর: কি দেখছো?

মালতী: তোমাকে

সাগর: তাই,আমি তো কত শত মাইল দূরে?

মালতী: তবুও তোমাকেই দেখি সব সময়।

সাগর: কি করছো এখন?

মালতী: এই তো রান্না করছি

সাগর: একটু দরজাটা খুলে বাহিরে তাকাবে?

মালতী: কি যে বলো,এখন কি আছে দেখবার?

সাগর: দেখোই না একবার।

মালতী অনিচ্ছা সত্বেও দরজা খুলেই অবাক। দরজার সামনে সাগর দাঁড়িয়ে। সাগরকে দেখে খুশিতে আত্মহারা মালতী। সত্যিই কি দেখছে সে, নাকি সারাদিন ওকে ভাবতে ভাবতে মাথা তার এলোমেলো হয়ে গেছে।

সাগর: আসবো?

মালতী: দরজা ছেড়ে দাঁড়ায়,হ্যা অবশ্যই।

কি কথা বলবে খুঁজে পাচ্ছে না আজ, একটা সংকোচ কাজ করছে।

মালতী: কি করে? মানে কেনো হঠাৎ কিছু না বলে এলেন?

সাগর : আরে আমি তো একটা কাজে এসেছিলাম। গত সন্ধ্যায় হঠাৎ করেই সিদ্ধান্ত হয় আর রাতেই রওনা।

মালতী : এভাবে এলেন যদি বাধন থাকতো, কি বলতাম ওকে? আমি তো খেই হারিয়ে ফেলতাম।

সাগর: আজ আপনি আপনি চলছে কেনো,আমাকে সামনা-সামনি কি খুব বুড়ো বুড়ো লাগছে?

মালতী: এভাবে সামনা-সামনি দেখা হবে মোটেও ভাবিনি।

সাগর: ভাবো নি বলেই তো এলাম যেনো ভাবতে শুরু করো।
সাগর উঠে মালতীর পাশে গিয়ে বসলো,মালতীর হাত নিজের হাতে নেয়। আলতো স্পর্শে কেঁপে উঠে মালতী। চোখের উপরের চুলগুলো সযত্নে সরিয়ে রেখে হাত খোপাটা খুলে দিলো সাগর। চুলগুলো এলোমেলো ছড়িয়ে গেলো

মালতী: কি করছো?

সাগর: রোজ এলোচুলে তোমাকে দেখতে চাই, আজ আর স্বপ্নে নয়, জাগরনে তোমায় দেখবো।

মালতী: দেখলে তো,এবার সরো আমি আসছি।

সাগর: একদম না, আমার সামনে থেকে একটুও উঠবে না,আমি যতক্ষণ থাকবো তুমিও থাকবে আমার পাশে, মন উজার করে তোমাকে ভালোবাসবো…….।

বাধন ফিরবার আগেই মালতী নিজেকে গুছিয়ে নিতে আয়নার সামনে দাঁড়ায়। শাড়ীর প্রতিটা পাট অগোছালো,ঠোঁটের এক কোনে লাল হয়ে আছে,সিঁদুর কপালের অনেকটা জায়গা নিয়ে ছড়িয়ে আছে। চুল সেতো বড্ড এলোমেলো। নাহ্ এভাবে বাধনের সামনে যাবে না সে, তাই সোজা সওয়ারের নিচে দাঁড়িয়ে যায়।মনে নেই কত সময় সেভাবেই দাঁড়িয়ে ছিলো,যখন চেতন ফিরলো মালতী দেখলো সে কাঁপছে। বিকেলে মুষুল ধারায় বৃষ্টি হয়েছে আজ, তাই পানিও বেশ ঠান্ডা।

তাড়াতাড়ি নিজেকে পরিপাটি করে নেয় মালতী। গুছিয়ে শাড়ী পরাটা সে খুব ভালো জানে। যত্ন করে লাল টিপ পরলো কপালে,সিঁথিতে সিঁদুরটা আজ অনেক লম্বা করে পেছনে টানলো,সিঁথির সিঁদুর যতো লম্বা করে দেওয়া হয় স্বামীর আয়ুষ্কাল ততো বেশী হয় এমন শুনেছে মালতী। কিন্তু আজ সিঁথিতে সিঁদুর যেনো অন্যকারো নামে উঠছে। আজ কার দীর্ঘায়ু কামনা করছে মালতী!?

কলবেল বেজেই চলেছে,ইস একটু অপেক্ষা করা যায় না,কি এতো তাড়া বুঝিনা?
আসছি আসছি।
ছুটছে মালতী।

(চলবে……)

লিখেছেনঃ সাজিয়া আফরিন