রঙ বাক্স

চুলের A to Z | লাইফ স্টাইল

মাথার চুল পড়ে যাওয়া এক অস্বস্তিকর অভিজ্ঞতা। দিন দিন মাথার চুল পাতলা হয়ে যাচ্ছে অর্থাৎ ঝরে যাচ্ছে বা টাক পড়ে যাচ্ছে এমন ব্যক্তির সংখ্যা অনেক। চুল ঝরে যাওয়া বা টাক পড়া দুভাবে হয়ে থাকে:

এক. পুরো মাথার চুল পড়ে যায়। মাথার তালু বা চামড়া অতিসহজেই দেখা যায়।
দুই. মাথার কিছু কিছু অংশে গোল গোল আকারে চুল পড়ে যাওয়া।

মাথার চুলের আনুমানিক সংখ্যা প্রায় ১ লাখ, এর মধ্যে ৭০ থেকে ১০০টি চুল প্রতিদিন ঝরে যায়। অর্থাৎ প্রতিদিন ১০০টি চুল পড়া স্বাভাবিক। কিন্তু যখন এই ১০০টির বেশি চুল পড়ে তখনই মাথার তালু খালি হয়ে যেতে থাকে।

সার্বিকভাবে পুরো মাথার চুল যেসব কারণে ঝরতে পারে:

চুলে টান লাগা: প্রচলিত একটি ধারণা আছে রাতে শোয়ার আগে টান টান করে বেণী বেঁধে ঘুমালে চুল তাড়াতাড়ি লম্বা হয়। এটি সম্পূর্ণ ভুল ধারণা। চুল কতটুকু লম্বা হবে তা নির্ভর করে জেনেটিক হরমোন ও পুষ্টির ওপর। বরং উল্টোটাই হয়ে থাকে। যে চুলগুলো আরও কিছু দিন মাথায় থেকে তারপর ঝরে যাওয়ার কথা তা আরও আগেই ঝরে যায় অতিরিক্ত টান লাগার কারণে।

প্রসব পরবর্তী: সন্তান প্রসবের দুই থেকে পাঁচ মাস পর হঠাৎ চুল পড়ে যেতে পারে। মাথা প্রায় খালিই হয়ে যায়। ২ থেকে ৬ মাস ধরে এ প্রক্রিয়া চলতে থাকে। তবে আশার বিষয় এ চুল আবার সম্পূর্ণ গজিয়ে থাকে।

নবজাত অবস্থায় : নবজাতকের মাথার চুল জন্মের পর থেকে ৪ মাসের ভেতর অনেকটা ঝরে যায়। এতে মা-বাবা ভয় পেয়ে যান আমার সন্তানের মাথার চুল কি কম হবে? না এতে ঘাবড়ানোর কিছু নেই। ৬ মাস বয়সের সময় আবার চুল গজায়। কখনও কখনও পুষ্টিহীনতার কারণে চুল গজাতে একটু দেরি হতে পারে।

জ্বরের পর: কঠিন কোন জ্বর যেমন নিউমোনিয়া, টাইফয়েড হওয়ার ২ থেকে ৪ মাস পর হঠাৎ চুল ঝরতে শুরু করে এবং প্রায় পাতলা হয়ে যায়। গজাতে একটু দেরি হতে পারে।

মানসিক কারণে: মানসিক রোগ বা দুশ্চিন্তা যদি বেশি থাকে তবে চুল পড়ে যায়।

ওষুধে: কিছু কিছু ওষুধে যেমন ক্যান্সারের ওষুধ, যে চুলগুলো মাত্র গজাচ্ছে সেগুলোও ঝরিয়ে দেয়।

অনাহার: ওজন বা মেদ কমানোর জন্য অনেকে হঠাৎ খাওয়া-দাওয়া একেবারেই ছেড়ে দেয়। হঠাৎ করে খাওয়া-দাওয়া কমানোর কারণে চুল পড়ে যেতে পারে যেমনটি হয় অপুষ্টিজনিত কারণে।

এ্যানড্রোজেন হরমোন: পুরুষ হরমোনের প্রভাবে ২০ থেকে ৩০ বছর বয়সে পুরুষদের কপালের দুই দিকে এবং মাথার মধ্য অংশে টাক পড়ে। যাকে বংশগত টাকও বলা হয়।

এ জাতীয় বংশগত টাক ঠেকাতে এবং টাক পড়া স্থানে কিছু চুল গজাতে পারে এমন ওষুধ এখন বাজারে পাওয়া যায়। যার বৈজ্ঞানিক নাম ফিনাস্টেরয়েড। চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের তত্ত্বাবধানে এ জাতীয় ওষুধ শুধু ছেলেদের জন্য। মেয়েরা খেতে পারবে না।

মাথার চুল পাতলা হয়ে যাওয়ার অন্যতম কারণ হচ্ছে খুশকি:

মাথা চুলকালে গুঁড়ো গুঁড়ো খোসা দেখা যাওয়াটাকে খুশকি বলে। তবে কখনও কখনও খোসা দেখা যায় না, মাথায় শুধু তেলতেলে ভাব থাকে। এই কুশকি যদি নিয়ন্ত্রণে রাখা যায় তবে মাথার চুল আছে তাকে হয়ত আরও ১০ থেকে ২০ বছর টিকিয়ে রাখা যাবে। অন্যথায় ৫ মাস থেকে এক বছরের মাথায় টাক পড়ে যাবে। তবে একটি বিষয় জেনে রাখা ভাল, খুশকি বা তেলতেলে ভাব বেশিরভাগ ক্ষেত্রে হরমোনের (এনড্রোজেন) প্রভাবে হয়ে থাকে। সুতরাং এমতাবস্থায় খুশকিকে নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব কিন্তু খুশকি হবে না এটা সম্ভব নয়। যেহেতু এনড্রোজেন হরমোন কমানো উচিত নয়। চুল সব সময় পরিস্কার পরিচ্ছন্ন রাখুন তাহলে কিছুটা হলেও খুশকি সমস্যা দূর হবে।

মাথার গোল টাক: এ অবস্থায় রোগী কোন এক দিন ঘুম থেকে উঠে দেখে যে মাথায় কিছু কিছু অংশে গোলাকার টাক পড়েছে। আক্রান্ত স্থানের ত্বক মসৃণ, কোন চুলকানি বা লালা ভাব নেই, কোন খোসাও নেই। প্রচলিত ধারণা হচ্ছে তেলাপোকা চুল খেয়ে ফেলেছে। না, এটি সম্পূর্ণ ভুল ধারণা। এ অবস্থা বেড়ে গিয়ে সম্পূর্ণ মাথায় এমনকি শরীরের লোমও ঝরে যেতে পারে। প্রাথমিক অবস্থায় আক্রান্ত স্থানে স্টেরয়েড ইনজেকশন দিয়ে আকারে বেড়ে যাওয়াটাকে রোধ করা যায় এবং নতুন চুল গজাতে থাকে। প্রতি মাসে একবার ইনজেকশন দিতে হয়।