মুক্তধারা

হাজারো পুতুলদের কথা (শেষ পর্ব)

আজ পুতুলের ভয় হচ্ছে। এই অন্ধকার রাতে বাইরে প্রচন্ড ঝড় হচ্ছে।শাঁ শাঁ বাতাস। যেন মনে হচ্ছে মাথার উপর কিছু ভেঙ্গে পরবে। ঘরের চালে আম গাছের ডালটা বার বার বারি দিচ্ছে। বাতাস যত জোরে তত জোরেই যেন প্রচন্ড শব্দ করে বারি দিচ্ছে।

পুতুল অন্ধকার ঘরের এক কোণে বসে ভয়ে জড়সড় হয়ে কান্না করছে। রাত তখন ১২:১৫। ঘর থেকে সে বেড়িয়ে কারো বাড়িতে যাবে সে উপায়ও নেই।এত রাতে চিৎকার করলেও বাইরে কেউ শুনতে পাবে না। কারণ ঝড়ের প্রচন্ড শব্দে যেন সব ভেঙ্গেচুরে যাচ্ছে। পুতুল ভয়ে কাঁদতে কাঁদতে ভাবছে এই ঝড়ে যদি সেও ভেঙ্গেচুরে যেত তাই বুঝি ভাল হত।

এমন সব কথা ভাবছে আর কাঁদছে। এক সময় ঝড় থেমে গেল। সাথে পুতুলের কান্নাও থেমে গেল। বিদ্যুৎ চলে গেছে তাই সে ঘরে মোম জ্বালিয়ে একা বসে আছে। মোমের দিকে তাকিয়ে কি যেন সব ভাবছে।

তবে মোমকে তার খুব আপন মনে হচ্ছে। এই আপন মোমের সামনে পুতুলের চোখ বেয়ে বেয়ে এক সাগরের জল গড়িয়ে পরছে। নিঃশব্দ কান্না। নিঃশব্দ রাত।ঘড়ির কাটার টিকটিক আওয়াজ। এই টিকটিক আওয়াজে পুতুলের মনে হয় তার অস্তিত্ব আছে। অনুভব হয় তার বুকের আওয়াজ ধুকধুক ধুকধুক। একটু পরে সে ক্লান্ত হয়ে ঘুমিয়ে পরে। এই ঘুমেই যেন সে সব শান্তি ফিরে পায়।

কিছু কিছু পুতুলদের এভাবেই ঘুমাতে হয়। হয়তো তাদেরকে পুতুল ভাবা হয় জন্য।

পুতুল বড় সুন্দরী বড় রূপসী মেয়ে। যে পথে সে হাটে যেন লতাপাতা আঁকিয়ে দিয়ে যায়। পড়ালেখা নিয়ে ব্যস্ত ছিল সে।

এক ছেলে তাকে পাগলের মত ভালবেসে ছেলে নিজের পরিবারকে বাধ্য করলো মেয়েটিকে সেই বাড়ির বউ করতে। নাটকীয় ভাবে হয়ে গেল তাদের বিয়ে। তারা ভালই সংসার করছিলো।হঠাৎ মেয়েটি পাগল হয়ে মারা গেল। শ্বশুর বাড়ীর লোক তড়িঘড়ি করে তার কবর দিলো।

মেয়েটির মারা যাওয়ার কিছু কারণ ছিল। কারণগুলো আড়ালেই ছিল। প্রমাণিত ভাবে কিছু প্রকাশ আর হয়নি। তাই ব্যাপারগুলো আড়ালেই রয়ে গেল।
( ১৬ বছর আগের পরিচিত রূপসী সেই মুখ। তখন জানতাম না সেই ক্লাসমেট এর কথা আজ আমি লিখবো। জানার কথাও না।)

যাইহোক মেয়েটির জীবন সংগ্রামের সমাপ্তি এখানেই ঘটলো। তারপর মেয়েটির জায়গায় আর কেউ আসবে হয়তো বা আসবে না।

ব্যাপারটা এমন একটি পুতুল যাবে আর একটি পুতুল আসবে। এটাই হয়তো অনেকটা নিয়ম হয়ে দাড়িয়েছে। কিন্তু লড়াই প্রতিটা পুতুলেই করে। কোন এক সময় তাদের লড়াই থেমে যায়। সমাপ্তি ঘটে লড়াই এর। কেউবা জয়ের চিহ্ন আঁকিয়ে দিয়ে যায়।

এভাবেই চলে নিয়তির খেলা। এই পুতুলদের নিয়ে কথা বলা তো আদিকাল থেকেই চলে আসছে । তাদের নিয়ে লেখা ভাবনা কোন অংশে কম নয়।
পুতুলদের কিছু কিছু ঘটনা আদালতের যে কাগজে বর্ণিত থাকে সেই কাগজগুলো কাগজকাটা পোকা খেয়ে নিশ্চিহ্ন করে। তবে সেই পুতুলদের সমস্যা নিশ্চিহ্ন হয় না। যেন মনে হয় সবাই সমস্যাচর্চা করেই চলছে।

লিখেছেন: জিলফিকা বেগম জুঁই