মুক্তধারা

হাজারো পুতুলদের কথা (পর্বঃ ২)

পুতুলরা! পুতুলদের কি হবে। কে এদের অভিনয় থামাবে। সবটা তো মানিয়ে নিতেই হয়। হায় হায় পুতুলরা কেঁদে কেঁদে নিশ্চিহ্ন হয়ে যায়। শেষ হয়ে যায়। একটি পুতুল যায় আবার আরেক টি পুতুল আসে। এই যাওয়া আর আসা।

হায়রে পুতুল তোর যে পুতুল হয়েই জন্ম হয়েছে। একটু মানুষের স্বীকৃতি পেলে তুই হেসে মরতিরে পুতুল। তা তো এই পৃথিবী বোঝেনা। হয়তো বুঝবে না। তাই তোকে লড়াই করে যেতে হবে। এ যে বেঁচে থাকার লড়াই।

পুতুল আজ খুব সুন্দর করে সেজেছে। তাকে আজ রূপসী গৃহলক্ষ্মীদের মত লাগছে। সে এখন বধূদের অনুভব বোঝে। যখন বধূ হয়েছিল তখন সে বোঝেনি যে, সে নাকি কারো বধূ হয়েছে। হ্যাঁ, একদিন সে বধূ হয়েছিল। তা ছিল অভিনয়। তাকে জোর করে বধূ সাজিয়ে দেওয়া হয়েছিল তাই সে বোঝেনি বধূদের অনুভব।

সে পুতুলদের মত বধূ হয়ে সেজে বসেছিল। এক সময় প্রকৃতির লীলাখেলায় পুতুলের বধূ সাজে কলংকের দাগ পরে গেল। রূপসী গৃহলক্ষ্মীদের মত তাকে আর দেখতে লাগলো না।

দেখতে শুধুই মানুষরূপী পুতুল। সে মানুষদের মত হেসে খেলে বেড়ায়। খায় দায় ঘুমায়।

কিন্তু নিজের অস্তিত্বকে খু্ঁজে পায় না। বোঝে না সে বেঁচে আছে না মরে গেছে। কিন্তু সে একাকিত্ব অনুভব করে। হয়তো সে জীবন্ত মৃত মানুষ বলে।

কেনো জানি আজ তার হঠাৎ বধূ সাজতে ইচ্ছে করলো। তাই সে বধূদের মত সেজেছে। হঠাৎ এ তার মনে হলো তার যেন সুন্দর একটা সোনার সংসার আছে। কি আশ্চর্য! সে সংসারকে তার অনেক আপন মনে হচ্ছে। সে যেনো অনুভব করতে পারছে সংসারে তার উপস্থিতি।

একটা উঠান, কি সুন্দর ঝকঝকে উঠান।চারপাশে ঝোপঝোপ লতাপাতা সাজিয়ে সুন্দর গাছ।এই গাছগুলোর জন্য উঠোনটা আরো বেশি সুন্দর লাগছে। সামনে ছোট্ট পরিচ্ছন্ন একটা পুকুর। পুকুরের চারপাশে উচু করে লম্বা ঘাসগুলো কি সুন্দর হেলেদুলে নাচছে। যেন পুকুরের পাশে তাদের ভাল লাগছে বলেই নাচছে। আর পুকুর তাদের নাচ মুগ্ধমনে দেখছে। ঝকঝকে উঠোনের পাশেই কি সুন্দর একটা ঘর।

সে ঘরটার কাছে যেতে পারছে না কেন। হঠাৎ এ পুতুলের মনে হলো সে তাহলে এতক্ষণ সেই সোনার সংসারের কল্পনায় ডুবে ছিলো।একি এটা তো তার ভুল স্বপ্ন।
কিছু পুতুলদের হয়তো স্বপ্ন দেখতে নেই। দেখতে তাদের মানা। যদি ভেবে বসে তাহলে যে তাদের ভয়ংকর কিছু দিবে হানা। তাই এই স্বপ্ন দেখা মানা।

কিন্তু মন যদি স্বপ্ন দেখে সেখানে দোষ কি তার। নাকি দোষটা মনের। হয়তো জীবন্ত মৃত মানুষ বলেই স্বপ্ন আপনাআপনি চলে আসে। কারণ স্বপ্ন তো মানুষরাই দেখে। তারা স্বপ্ন দেখে। স্বপ্ন দেখে বেঁচে থাকে। কিছু স্বপ্ন পূরণ হয় আবার কিছু অপূরণ রয়ে যায়।

পুতুলদের কখনও কখনও বলা হয় নতুন করে বাঁচার জন্য। হ্যাঁ তা ঠিক। মানুষ জন্যই তাকে নতুন করে বাঁচার স্বপ্ন দেখতে হয়। কারণ সে যে মানুষ।এটা তো মিথ্যে নয়। তাই তাকে স্বপ্ন দেখতেই হয়। কিন্তু নিজের অস্তিত্বকে খুঁজে না পেলে কি করে দেখবে সে স্বপ্ন।

কলংকের ভারে যে সে প্রতিনিয়ত শেষ হচ্ছে। কখনও আঘাতে জর্জরিত হয়ে দলে পিষে যাচ্ছে। এত আহত হতে হতে হয়তো একসময় বেঁচে যাবে বা মরে যাবে। কিন্তু লড়াই তো চালিয়ে যেতেই হবে।এটাই সত্যি নির্মম সত্যি।কলংকের ভারেই তাকে লড়াই করতে হবে।হ্যাঁ হবে।লড়াই করতে হবে।

লিখেছেন: জিলফিকা বেগম জুঁই