মুক্তধারা

হাজারো পুতুলদের কথা (পর্ব: ১)

সে ভাবে একটু একটু করে সে কিভাবে শেষ হয়ে গেল। সে বুঝে উঠতে পারে না সে জীবিত না মৃত। সে নিজের অস্তিত্ব খুঁজে পায় না। সে কি আসলেই বেঁচে আছে। নাকি বেঁচে নেই। কবে যেন সে হারিয়ে গেল। কিভাবে যেন সব শেষ হয়ে গেল।

মৃত মানুষ বেঁচে থেকে কিভাবে চলাফেরা করে। তা নিশ্চয় পারে না। কিন্তু সে বুঝতে পারে মৃত হয়েও তাকে চলাফেরা করতে হয়। অনেকটা পুতুলের মত। যেন ব্যাটারিচালিত পুতুল।

চলার শক্তিটা কিভাবে সে পায়। সেই শক্তিটা কি তবে মানসিক চাপ। মানসিক চাপে সে চলাফেরা করে। কোন মানসিক চাপ। সামাজিক না পারিবারিক চাপ।হয়তোবা নিয়মের চাপ। নিয়তির বাধ্যতা।

হ্যাঁ নিয়তির বাধ্যতা। নিয়তি মেনে নিতেই হয়। তবে চাপ কেন? মানসিক চাপ কেন? প্রতিনিয়ত তাড়া করে কারা? কে তাকে মৃত বানালো। কিভাবে সে জীবন্ত মৃত হল। মন শরীর আবেগ সবকিছু মিলেই তো সে মানুষ। তবে এই মানুষটার তো বেঁচে থাকার অনেক অংশ থাকে। সেটা সময় সীমাবদ্ধতা হলেও অসীম।

সেই অসীমতা সে অনুভব করতে পারে না কেন? কেন? কেন? কেনই বা সে মরে গেল। সে কি আর বেঁচে উঠে বাঁচতে পারবে না। নাকি মৃত থেকেই তাকে বাঁচতে হবে। অনেকটা ব্যাটারিচালিত পুতুলের মত। কেন? সে তো মানুষ হয়ে বাঁচতে চায়। সে তো মানুষ। সে তো পুতুল না।

আর মৃত মানুষটাকে নাকি আরো কারা কারা মারতে চায়। তারা কারা? যারা মারতে চায়। তারা মনে করে সে তো মৃত। তাকে মেরে ফেললে তো সবাই মৃতই জানবে। তাই তাদের তো কোন ভয় নাই। তারা হয়তো বা ভয় পায় না।

জীবিত মানুষকে মারলে নিজে মরার ভয় হয়। কিন্তু মৃত মানুষকে মারলে মরে যাওয়ার কোন ভয় থাকে না। একটু ভয়ও থাকে না। সবাই বলবে হয়তো ভুল করে মৃত মানুষটাকে মেরেছে। এতে বা দোষের কি?

হ্যাঁ তারা এটাই বলবে। কিন্তু তাদের বেলায় অন্যকিছু অনুভব করতে পারবে যদি তাদের ক্ষেত্রে এমনটা হয়। হ্যাঁ যদি হয় এমনটা তবেই বুঝবে পুতুল এর মত চলতে হয়।

অনেক বছর হয়ে গেল এখনও সে বেঁচে উঠতে পারেনি। পারবে হয়তো কোন এক সময় বা পারবে না। কেউ পারে কেউ পারে না।

নাকি তারা মানুষ নামের পুতুল। এমন পুতুলদের যখন মরণ হবে তখন কি তারা নিশ্চিহ্ন হয়ে বেঁচে যাবে। পুতুলদের মত চলাফেরা করা থেকে বেঁচে যাবে। তারা কি মানসিক চাপ থেকে বেঁচে যাবে।নিশ্চিহ্ন হবে জন্য হয়তো বেঁচে যাবে। জন্মজন্মান্তরে বেঁচে যাবে। আজীবনের জন্য বেঁচে যাবে।

কিন্তু এই পুতুলদের অভিনয় থামবে কবে। এদের অভিনয়ে কোন সমস্যা হয় না জন্যই কি এদের অভিনয় থামানোর দরকার হয় না। নাকি দরকার পরেই না।
পুতুলদের কি দোষ। পুতুলরা কি অন্যায় করল। সে তো নিজেকে প্রকৃতির চাদরে আবৃত করে রেখেছিল যতন করে। কেউ বা অবহেলার চাদরে খোলা খোলসের মত পরেছিল।

কিন্তু তাদের অনিচ্ছায় নিয়তি হয়ে থাকলে তাদের দোষ কোথায় বা তাদের বাধ্য করানো হলে। সত্যিই কি পুতুলরা অপরাধী। পুতুলদের অভিনয়ে পৃথিবীর কি কোন সমস্যা নেই। নাকি এদের অভিনয়ে পৃথিবী তৃপ্ত। অভিনয়ের আড়ালে ভাল কিছু কি পৃথিবীর অনুভব হয় না। সে অভাববোধ কি পৃথিবীর নেই।

হয়তো পৃথিবী নিষ্ঠুরতার পথ ধরেছে। সেই পথেই হাঁটছে। কারণ পৃথিবীকে যে ধ্বংস একদিন না একদিন হতে হবে তাইতো সে এ পথেই চলছে।

লিখেছেন : জিলফিকা বেগম জুঁই।