সেলুলয়েডের গল্প

চিত্রনায়িকা না হলে একজন ক্রাইম রিপোর্টার হতাম | তারকা জীবন

ঢাকাই চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় অভিনেত্রী পপি। ১৯৯৭ সালে কুলি চলচ্চিত্রের মাধ্যমে রুপালি জগতে পদার্পণ ঘটে তার। এ পর্যন্ত অভিনয় করেছেন ২০০টির মতো চলচ্চিত্রে। অভিনয়ের জন্য শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রী হিসেবে তিনবার পেয়েছেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার। রুপালি জগতের এই নায়িকার সাম্প্রতিক ব্যস্ততা ও বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আজকের আলাপন।

আগে যেমন চলচ্চিত্রে সরব ছিলেন, এখন তেমন নেই…

সেটা নয়! আমার কিন্তু তেমন কোনো সমস্যা নেই। বাচ্চা-কাচ্চা নেই যে, মানুষ করতে হবে। আমি এখনো ফিল্মেই আছি, ফিল্মেই কাজ করছি। এই সময়ে এসে যে কোনো বা যা-তা কাজ করতে চাইনি। একজন শিল্পীর মূল্যায়ন কিন্তু ব্যস্ততা দিয়ে নয়, তার ভালো ভালো কাজ দিয়ে হওয়া উচিত। যার কারণে হয়তো আমার চলচ্চিত্রের সংখ্যাটাও বেশি নয়। কিন্তু এখনো ফিল্ম নিয়ে ব্যস্ত থাকছি, ভালো কাজ নিয়ে ব্যস্ত থাকছি।

চলচ্চিত্র নিয়ে এখন অনেকেই শঙ্কা প্রকাশ করে। এ ব্যাপারে আপনার মত কী?

শঙ্কা তো অবশ্যই কিছু না কিছু একটা আছে। এখন ডিজিটাল যুগ চলে এসেছে। পৃথিবী অনেক বেশি আপগ্রেড এবং টেকনোলজি অনেক বেশি উন্নত। সেই হিসেবে আমাদের বাংলাদেশের ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রি এগুচ্ছে না। ভালো চলচ্চিত্র তৈরি হচ্ছে না বললে ভুল হবে, দেশে ভালো ভালো চলচ্চিত্র কিন্তু তৈরি হচ্ছে। কিন্তু পরিবেশন বা সিনেমা হল ব্যবস্থাপনা ভালো না হলে কোনো কিছু করেই লাভ হবে না। তাই আমার কাছে মনে হয় এক্ষেত্রে গভর্নমেন্টের পৃষ্ঠপোষকতা জরুরি। বাংলাদেশের প্রতিটি জেলায় সিনেপ্লেক্স হওয়া উচিত।

ভালো চলচ্চিত্র আর ব্যবসাসফল চলচ্চিত্র বলতে আপনার অভিমত কী?

আমার কাছে তো মনে হয় ছবি মানেই ছবি। হলে গিয়ে টিকিট কেটে আড়াই থেকে তিন ঘণ্টা ছবি দেখবে এবং ফিল্মি স্যাটিসফাইড হয়ে হল থেকে বের হবে। যেই ছবিটা হলে একজন দর্শককে তিন ঘণ্টা বসিয়ে রাখবে সেটাই বিনোদন।

কলকাতার চলচ্চিত্র বাইরে ওয়ার্ল্ড প্রিমিয়ার হয় কিন্তু এদেশ এ ব্যাপারে পিছিয়ে কেন?

সেটা একটা কষ্টের জায়গা। আমাদের প্রধান খেলা কিন্তু ক্রিকেট নয়। কিন্তু এতে গভর্নমেন্টের পৃষ্ঠপোষকতা রয়েছে। ফিল্ম নিয়ে গভর্নমেন্টের আন্তরিকতার কিন্তু কোনো অভাব নেই; তবে আরও বেশি পৃষ্ঠপোষকতা দরকার। নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য আসলে প্রপার লোক দরকার বলে আমি মনে করি।

প্রেমে পড়েছেন কতবার?

প্রেমে তো অনেকবার পড়েছি। আমি যেই কাজটা করছি সেটাই প্রেম; মানে আমার প্রফেশন। এটাতে তো নিয়মিতই পড়ছি।

বিভিন্ন সময় আপনার প্রেম, বিয়ে নিয়ে নানা গুঞ্জন শোনা গেছে…

আমরা সেলিব্রেটি যারা আছি বা মিডিয়ায় যারা কাজ করি, তাদের নিয়ে তো সবাই লিখবে। বাড়তি কথাও বলবে, যেন দর্শকদের কিউরিসিটি তৈরি হয়। এটাই কিন্তু মিডিয়ার মেইন কাজ। আর ব্যক্তিগত লাইফে প্রেম করার সময় কোথায় বলেন? আমরা যে হারে কাজে ব্যস্ত থাকি সেটা সম্ভব হয়ে উঠে না। এই সময় যদি কেউ রোমান্টিক ডায়ালগও দেয় তখন মনে হয় না সেটা শুনি বা পাত্তা দেই।

বিয়ে নিয়ে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কী?

হ্যাঁ, সবাই আমার বিয়ে নিয়ে অনেক টেনশনে থাকেন। যারা ভালোবাসেন তারাও অনেক টেনশনে থাকেন যে, পপি কবে বিয়ে করছেন বা পপিকে কবে বিয়ে দেব! আসলে আমি এখনো বিয়ের ব্যাপারে ডিসিশন নিইনি। কারণ বিয়ে ব্যাপারটা অনেক বড় ডিসিশন। আমি ঘন ঘন প্রেমেও পড়ি না। আজকে বিয়ে করলে দেখা গেল দুই দিন পর সেট হলো না, ডিভোর্স হয়ে গেল। তাই আমি বিয়েকে খুবই ভয় পাই। লাইফে এই ক্রাইসিসগুলো আমি ফেস করতে চাই না। আমি জেনে-বুঝে একটু সময় নিয়ে এই ডিসিশনটা নেব। আর যখন নেব যারা আমার ওয়েল উইশার আছেন, আমার দর্শক আছেন, ইন্ডাস্ট্রির মানুষগুলো আছেন, তাদের অবশ্যই জানাব। আসলে বিয়ে ব্যাপারটা কিন্তু কোনো ক্রাইম নয়। সেক্ষেত্রে এটা লুকিয়ে করার কিছু নেই।

পছন্দের কেউ আছে কি?

না, আপাতত পছন্দের কেউ নেই।

ভারতীয় বা বিদেশি ছবিতে কোনো অভিনয়ের প্রস্তাব পেয়েছেন কিনা?

নিরানব্বই বা দুই হাজারের দিকে সবাই জানে আমি বোম্বের একটি ছবিতে সাইন করেছিলাম, পার্থ ঘোষের। মহেশ ভাটের একটা প্রোডাকশনও ছিল। কাজ করার কথা ছিল। তবে সেসব ছবিতে কাজ করা সম্ভব হয়নি।

চিত্রনায়িকা না হলে কি হতেন?

চিত্রনায়িকা না হলে একজন ক্রাইম রিপোর্টার হতাম। কারণ ওটার মধ্যে একটা থ্রিল বা এক্সাইটমেন্ট কাজ করে। আবার আমার ঘোরাঘুরি করা খুব পছন্দের। তাই এক সময় মনে হতো পাইলট হব।

রাজনীতিতে আসার কোনো ইচ্ছা আছে?

আমাদের ফ্যামিলিতে রাজনীতিতে ইনভলবমেন্ট আছে। কিন্তু ব্যক্তিগতভাবে তেমন আগ্রহ নেই। নেতা হওয়ার কোনো ইচ্ছা নেই। তবে অভিনেত্রী হিসেবে ভালো ভালো কাজ করার ইচ্ছা রয়েছে।