সেলুলয়েডের গল্প

সংসারের টানে শোবিজ ছেড়ে বিদেশে নায়িকারা | তারকা জীবন

শোবিজ অঙ্গনে অনেক তারকা আসেন আবার অনেকে চলেও যায়। এর মধ্যে কিছু তারকার আর্বিভাব হয় দাপুটে। অল্প সময়েই তারা দর্শকদের মনে শক্ত স্থান করে নেন। তবে চিরকালই অনিশ্চিয়তার স্থান হিসেবে পরিচিত মিডিয়া। এখানে আজ যে রাজা কাল তার অবস্থান কোথায় হবে সেটা বলা খুবই মুশকিল।

বিশেষ করে চিত্রনায়িকাদের ক্ষেত্রে বিষয়টি বিরল নয়। সেই কারণেই এমন অনেক ঘটনা ঘটেছে যা সবাইকে রীতিমতো অবাক করেছে। তেমনি একটি বিষয় হল চিত্রনায়িকাদের বিয়ে করে দেশান্তরি হওয়ার ঘটনা। সর্বশেষ এমন উদাহরণ তৈরি করেছে বহু জনপ্রিয় সিনেমার নায়িকা রোমানা। শুধু তিনিই নন এমন ঘটনা ঘটিয়েছেন আরো অনেকেই। তাদের নিয়েই আজকের এই বিশেষ প্রতিবেদন।

শাবনূর: বাংলাদেশের চলচ্চিত্রাঙ্গনে একটি অধ্যায়ের নাম শাবনূর। নায়িকা হিসেবে চলচ্চিত্রে দীর্ঘ দেড় যুগ একচেটিয়া আধিপত্য বজায় রেখেছিলেন। তিনি বাংলাদেশ চলচ্চিত্রে উপহার দিয়েছেন অসংখ্য জনপ্রিয় সিনেমা। তার মা হওয়ার সপ্তাহ দুয়েক আগে জানা যায়- তার বিয়ের খবর। এর আগে যতবারই বিয়ের গুঞ্জন উঠেছে শাবনূর অস্বীকার করেছেন।

২০১০ সালে বজলুর রশীদ চৌধুরীর ‘বধূ তুমি কার’ সিনেমাতে শাবনূরের বিপরীতে অভিনয় করেন অনিক। সেই সূত্রে তাদের পরিচয় এবং বিয়ে। তবে জনপ্রিয়তা হারানোর ভয়ে শাবনূর বিয়ের বিষয়টি পুরোদমে চেপে যান। তবে স্বামীর জন্য অস্ট্রেলিয়া পাড়ি জমান শাবনূর। এর পর থেকে নতুন কোনো সিনেমায় তাকে দেখা যায়নি।

যদিও শাবনূর এর আগেও চাইনিজ বংশোদ্ভূত অস্ট্রেলিয়ান নাগরিক জ্যাকুলিনকে বিয়ে করেছিলেন এবং তাকে বাংলাদেশও ঘুরিয়ে নিয়ে গেছেন কিন্তু এই বিয়ের কথাও শাবনূর বরাবরই অস্বীকার করেনে।

ইপশিতা শবনম শ্রাবন্তী: মডেলিং আর অভিনয়ের মাধ্যমে জনপ্রিয়তা লাভ করেন শ্রাবন্তী। এরপর ‘রং নাম্বার’ সিনেমায় অভিনয় করে তার ক্যারিয়ার চাঙ্গা করে তোলেন। হঠাৎ কণ্ঠশিল্পী পার্থ বড়ুয়ার সঙ্গে প্রেমে জড়িয়ে পড়েন তিনি।

সেই সম্পর্ক একসময় বিয়ে পর্যন্ত গড়ায়। তারপর ভালোই চলছিল তাদের সংসার । হঠাৎ করে নিজেদের মধ্যে মনোমালিন্য ও দ্বন্দ্ব সৃষ্টি হয়। তারপর পার্থ বড়ুয়া চলে যান আগের সংসারে। আর শ্রাবন্তী দীর্ঘদিন একাকি বসবাস করেন।

২০১০ সালের নভেম্বরে বেসরকারি চ্যানেল এনটিভির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা খোরশেদ আলমকে বিয়ে করেন শ্রাবন্তী। এরপরই মিডিয়া থেকে প্রায় উধাও হয়ে যান তিনি। ২০১১ সালে জুন মাসে তাদের সংসারে আসে এক কন্যাসন্তান। রাবিয়াহ আলম রায়া` নামের এ কন্যাসন্তানকে নিয়েই এখন আমেরিকায় বসবাস করছেন তিনি।

শায়না আমিন: মেহেরজান খ্যাত চিত্রনায়িকা শায়না আমিন। তিনি বিজ্ঞাপন ও টিভি নাটকেও প্রচুর কাজ করেছেন। ২০১১ সালে আসাদুজ্জামান সেতুকে প্রথম বিয়ে করেন। তারপর হঠাৎ করেই মিডিয়া থেকে নিজেকে গুটিয়ে নেন শায়না। পাড়ি জমান যুক্তরাজ্যে।

কিছুদিন পরই দেখা যায় মাসুদ রানা নামের এক প্রবাসীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে ছবি তুলে তা ফেসবুকে শেয়ার করেতে। জানা যায়, ওই মাসুদ রানাকে চলতি বছরের এপ্রিলে বিয়ে করেছেন শায়না। বর্তমানে লন্ডনে নতুন সংসার নিয়ে ভালোই দিন কাটাচ্ছেন এ অভিনেত্রী। আর অপেক্ষায় দিন গুনছেন নতুন অতিথির জন্য।

রিচি সোলায়মান: অভিনেত্রী রিচি সোলায়মান অভিনয় করে দারুণ সুখ্যাতি পেয়েছেন। ২০০৮ সালের ১৪ ডিসেম্বর আমেরিকা প্রবাসী বাঙালি রাশেক-উর- রহমান মালেককে বিয়ে করেন তিনি। এরপর থেকে আমেরিকাই তার আসল ঠিকানা। রাশেক নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগে কর্মরত আছেন।

২০১০ সালের অক্টোবরে রিচি-রাশেক দম্পতির কোলজুড়ে আসে এক ফুটফুটে সন্তান। তার নাম রায়ান রিদোয়ান মালিক। স্বামী-সন্তান নিয়েই রিচির সুখের সংসার। বিয়ের পর সূদূর আমেরিকাই হয়ে উঠেছে রিচির স্থায়ী ঠিকানা। বছরের অধিকাংশ সময়ই স্বামীর সঙ্গে থাকেন তিনি।

মোনালিসা: মডেল ও অভিনেত্রী মোনালিসা। আমেরিকায় একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিতে গিয়ে এক আত্মীয়র বাসায় উঠেন তিনি। সেখানে থেকেই ১২-১২-১২ তারিখে যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী ফাইয়াজ শরীফকে বিয়ে করেন এ অভিনেত্রী।

এরপরই মিডিয়া থেকে দূরে সরে যান মোনালিসা। অবশ্য বিয়ের কিছুদিন পরই তাদের দাম্পত্যজীবনে ফাটল দেখা দেয়। একাধিকবার বিচ্ছেদের সুরও বেজেছে তাদের সংসারে।

রোমানা : জনপ্রিয় অভিনেত্রী রোমানা খান প্রথম উপস্থাপক আনজাম মাসুদকে বিয়ে করেছিলেন। সে বিয়ে স্থায়ী হয়নি। আনজামের সঙ্গে বিচ্ছেদের পর সংসার গড়েন সাজ্জাদ নামে ঢাকার এক ব্যবসায়ীর সঙ্গে। সেখানেও তাদের বিচ্ছেদ ঘটে।

বছর খানেক আগে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান রোমানা। সেখানে গিয়ে ব্যবসায়ী এলিন রহমানের সঙ্গে পরিচয় হয় তার। এরপর এলিন রহমানের সঙ্গে তৃতীয়বারের মতো বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন এ অভিনেত্রী।