মুক্তধারা

রান্না জানা মায়ের সন্তানের ভবিষ্যত

ছোটকাল থেকে দেখে আসছি আম্মু ভোরবেলা উঠে নামাজ সেরেই রান্নাঘরের কাজে লেগে পরতেন। রান্না শেষ করে সবার খাবার পর্ব শেষ করে ঘরের কাজ সেরে আবার দুপুরের রান্নার কাজ।

সেই খাবার পর্ব শেষ করে আবার বিকেলের নাস্তা সন্ধ্যায় কিছুক্ষণ বিরতি আবার রাতের রান্না। রাতের খাবার পর্ব সেরে রান্নাঘর পরিপাটি করে ভোরের আগ পর্যন্ত ঘুম।এছাড়াও পরিবারের সদস্য, ঘর বাহির টুকটাক সামলানো ইত্যাদি ইত্যাদি।

খুব সাধারণ চিত্র। নানী দাদী তার দাদী তার দাদী এমনি করেই চলে আসছে যুগ যুগ ধরে। কেউ কেউ গৃহিণী চাকরিজীবী দুটোই একসাথে।

যাই হোক পেটে যখন ক্ষুধা তাই রান্নাতো করতেই হবে। খুব স্বাভাবিক। তবে এই রান্নার ব্যাপারটা মাঝে মাঝে কেমন জানি একটু অন্যদিকে মোড় ঘুরে যায়। রান্নাটা অনেক সময় শিকল শিকল হয়ে দাড়ায়। এতে রান্নার দোষ নেই। দোষটা হচ্ছে পুরোটাই মনমানসিকতার।

জীবনের প্রয়োজনে বিভিন্ন প্রয়োজনে ছোটখাটো সবধরনের কাজেই আমাদের করতে হয়। বাঁচার প্রয়োজনে করতে হয়। সুস্থভাবে বাঁচতে গেলে সবকিছুর একটা পরিপাটি থাকে নিয়ম থাকে। জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত সবকিছুই একটা নিয়মের মধ্যে বাস। সেখানে আমাদের সবকিছুই একটা চালিয়ে মানিয়ে সামলিয়ে নেওয়ার একটা বিষয় থাকে। এতে কমবেশি সবাই ভালমন্দ নিয়েই বাঁচে এবং বাঁচতে হয়।

যাইহোক এবার রান্না নিয়ে বলি। রান্নাটা তাহলে কিভাবে শিকল হয়ে দাড়ায়। আমাদের ক্ষুধা নিবারণে রান্না করতে হয়। তাহলে রান্না কেন শিকল হয়। রান্নার সাথে কেন একজন মেয়ে মানুষের বিচার হয়?

আমরা জীবনের নিয়মে জীবনের ধাপে একেকটা পর্ব পার করি। সেখানে জীবনের ধাপে কোন এক সময় রান্নাটা ছেলে বা মেয়ে যে কারো করতে হতেই পারে। তাই বলে এই রান্নার জন্য তো কোন অজুহাত হতে পারে না।

বাস্তবে এক দম্পতি কে দেখেছি জীবনের প্রয়োজনে স্ত্রীকে চাকরি করতে হচ্ছে আর স্বামী কে ঘরের কাজ সামলাতে হচ্ছে কারণ স্বামীকে বাইরের কাজ করতে ডাক্তার নিষেধ করেছেন অসুস্থতার কারণে। খেয়াল করতাম দেখতাম দুজনেই বেশ স্বাভাবিক ভাবেই সংসার করছেন।

জীবনের প্রয়োজনে খুব সুন্দরভাবেই তারা চলছেন।এই ঘটনায় রান্নাটা নিয়ে মাতামাতি করার কোন প্রয়োজন দেখছি না। খুব স্বাভাবিক যেকোন অবস্থানের প্রয়োজনেই কাজের পর্বগুলো সেরে নিতে হয়। এখানে একটি মাত্র কোন একটা বিষয় নিয়ে মাতামাতি করার প্রয়োজন তো নেই।

আসল কথা হচ্ছে আমাদের মনমানসিকতা বদলাতে হবে। জীবনের প্রতিটা কাজকেই স্বাভাবিক ভাবে গ্রহণ করতে হবে। তবে এখানে একটি বিষয়কে নিয়ে কোন অজুহাত বা মূল্যায়নের বিষয় নিয়ে বাড়াবাড়ি করার দরকার পরে না। কিন্তু আমরা বাড়াবাড়ি করি।

পাত্রী দেখতে গেলে সবার আগে জেনে নেই সে রান্না জানে কিনা। এক্ষেত্রে এটা একটা কমন প্রশ্ন! যত রান্না জানবে সে পাত্রী যেন ততই পারফেক্ট! আচ্ছা পাত্রী কি শুধুই রান্না করবে আর কোন কাজ করবে না?

অবশ্যই করবে আর তার জন্য তাকে আরো অনেক পারফেক্ট শিক্ষিত হওয়া দরকার। ঘর বাহির প্রয়োজনে সেই সামলাবে। জীবনের প্রয়োজনে তাকে সবটার জন্য শক্তহাতে সামলানোর মনমানসিকতা থাকতে হবে। এর জন্য তো তাকে শিক্ষিত হতে হবে। এটা তো খুব স্বাভাবিক। পাত্রী যখন মা হবে তখনতো সন্তানকে সুস্থ সুন্দরভাবে মানুষ করতে হবে আর এর জন্য পারফেক্ট বুদ্ধিমতী মা হওয়া চাই। মা তো মায়েই। মায়ের তো কোন তুলনা হয় না। মা সব সময় সন্তানদের জন্য পারফেক্ট। তবে অনেক সময় সন্তানকে সামলানোর মত বুদ্ধি সব মায়ের থাকে না বা পেরে উঠতে পারে না।

এক্ষেত্রে যদি আপনি কম লেখাপড়া জানা বোকাসোকা রান্না জানা এমন পাত্রীই খুঁজতে থাকেন তাহলে কি হবে বলুনতো আপনার সন্তানদের ভবিষ্যত।

হ্যা অনেক সময় পাত্রী খুঁজতে গেলে অল্প শিক্ষিত বোকা মেয়েই খুঁজে থাকেন অনেকেই। মনে মনে বোকা মেয়েই পছন্দ করেন অনেকেই। অনেকে মুখে না বললেও বাইরের পরিবেশে ঠিকই বোঝা যায় যে পাত্রী হিসেবে কম লেখাপড়া জানা বোকাসোকা আলাভোলা রান্না জানা মেয়েই খুঁজে থাকেন। এক্ষেত্রে বুদ্ধিমতী মেয়ে কেউ পছন্দ করেন না! বেশি শিক্ষিত মেয়ে কেউ পছন্দ করেন না!

বেশি শিক্ষিত অল্প শিক্ষিত বিষয়টা নিয়েও একটু কথা ছিল। কিন্তু এখানে প্রয়োজন নেই মনে করে বললাম না। এই বিষয়টা নিয়ে অন্য কোন টপিক এ তুলে ধরার চেষ্টা করবো।

এটা ঠিক পুরো পারফেক্ট কোন মানুষই হন না। এটা সম্ভবও না। ভুলত্রুটি সুষ্ঠু সঠিক সবটায় আমাদের জীবনের সাথে জড়িত। একটি কথাই বলতে চাই সবার আগে আমাদের মনমানসিকতা বদলাতে হবে। একটু একটু করে মরিচা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। কারণ আমাদের প্রত্যেকের অধিকার আছে সুস্থ সুন্দরভাবে বাঁচার।

লিখেছেনঃ জিলফিকা বেগম জুঁই