মুক্তধারা

কটু কথার মূল্য

কথা, কথা আর কথা। সারাদিন আমরা অজস্র কথা বলি, দরকারে- অদরকারে। আর কথা বলা শেষ হয়ে গেলে ভুলে যাই -কি বলেছিলাম। এইসব কথার মাঝখানে আমরা প্রায়শই এমন কিছু কথা বলে ফেলি বা হয়তো মজা করে বলা বা অযথাই বলা। কখনো কি ভেবে দেখেছেন আপনার সেই অযথা কথা শ্রোতার মনে কি প্রভাব ফেলেছে?

উদাহরণ সরূপ, একজনকে হুট করে বলে ফেললেন, “তোমাকে না গাঢ় রঙে মানায় না, গায়ের রং চাপা তো, হালকা রং পরো, সুন্দর লাগবে ”
বক্তা কিন্তু বলে শেষ। তারপর!

শ্রোতা যদি অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাসী হয়ে থাকেন তাহলে কথা কানে তুলবেন না, তবে এই নেগেটিভ কথার প্রভাব এত দ্রুত শেষ হবে না। বহুবছর পরও শ্রোতার এই কথা মনে থাকবে। আর যদি শ্রোতা আত্মবিশ্বাসী না হয়ে থাকেন তাহলে তো কথাই নেই, ক্ষণে ক্ষণে মুহূর্তে মুহূর্তে তাকে সেই অযথা কথাটি পীড়া দেবে। আমরা তার মন ঠিক করার জন্য তখন যত কথাই বলি না কেন, হৃদয়ের সেই দাগ এত সহজে মুছবে না।

এখন মনে করি আসলেই শ্রোতাকে গাঢ় রঙে মানায় না এবং বক্তা সাদা মন থেকেই মন্তব্য করেছেন। তাহলে কথাটি যথেষ্ট সুন্দর ও পজিটিভ ভাবেও বলা যায়। যেমন:”আমার মনে হয় তোমাকে হালকা রঙে আরও সুন্দর লাগবে”। অথবা পুরোপুরি নিউট্রালভাবেও বলা যায়, যেমন:”মাঝে মাঝে হালকা রং ট্রাই করে দেখতে পারো”।

এখানে আমার নিজস্ব কিছু কথা আছে-
প্রথমত, হয়ত কাউকে গাঢ় রঙে মানায় না, কিন্তু সে নিজেকে সেই রঙে দেখতে পচ্ছন্দ করেন, তাহলে আমাদের কি কোনো প্রয়োজন আছে এই মন্তব্য করার??? না নেই।

দ্বিতীয়ত, আমরা কেউই স্বয়ংসম্পূর্ণ নই, আর আমার কোনো প্রয়োজন নেই আরেকজন মানুষের ব্যক্তিগত ইচ্ছাকে খর্ব করে তাকে নিখুঁত দেখানোর। তৃতীয়ত, আমাদের মনে রাখা উচিত এই কথা আমি ফেরত পাবো।

আমি ছোটবেলা থেকে মা এর মুখে একটা কথা শুনতাম,”দুনিয়াটা আয়না, আয়নার সামনে হাসলে হাসিমুখ দেখা যায় কাঁদলে মলিন মুখ, তেমনি ভাবে আসলে সুন্দর কথা বলবা, দুদিন পর তোমার সুন্দর কথা তোমাকে কেউ ফিরিয়ে দিবে। আবার আজ কটুকথা বলবে দুদিন ওর তোমার কটু কথা কেউ না কেউ তোমাকে ফেরত দেবে।”

যেকোনো ধর্মগ্রন্থই নিন না কেন, কুরআন, গীতা, বাইবেল, অথবা মনীষী বা সুফিবাদ। সবখানেই আপনি এই বানী পাবেন যে, “আমরা যেন আমাদের কথাকে বুঝে এবং ভেবে প্রয়োগ করি।কারন শব্দের ক্ষত সবচেয়ে গভীর আর দীর্ঘস্থায়ী”।

পরিশেষে তিনটি কথা বলবো,
১. কটু কথা বলার আগে একবার ভাববেন যে এটা অব্যর্থ তীরের মত ফেরত আসবে।
২. ভালো কথা মন থেকে বলবেন, চাটুকারিতার জন্য নয়।
৩. আর ভালো না বলতে পারলে মৌন থাকুন।

সুস্থ থাকুন, নিজেকে ভালো রাখার জন্য দয়া করে অন্যকে কটু কথা বলা থেকে বিরত রাখুন।

লিখেছেনঃ আফরিন পারভেজ