মুক্তধারা

পরিবার এবং নীল দুনিয়া

পারিবারিক বন্ধন কথাটা ভাবতেই চোখের সামনে ভেসে উঠে এক সুখি পরিবার। মা- বাবা ভাই বোন সব সদস্যরা মিলে সুখের বন্ধন। এখন একক পরিবারের সংখ্যাটা বেশি। আগে অবশ্য যৌথ পরিবারের ধরনটা বেশিই ছিল। যে যে অবস্থানেই থাকি না কেন দিন শেষে আমরা আপন পরিবারের কাছেই ফিরে যাই।
ফিরে যাই তো বটেই তবে যেখানে ফিরে যাই সেখানে কি আপন মনে বাস করতে পারি? এমন নয়তো যে মনটা অন্য জায়গায় আর শরীরটা পরিবারের সদস্যদের আশেপাশে।

আজকালের চিত্র তো তাই বলে! কেউ কেউ এমনভাবে নীল দুনিয়ায় ডুবে যাই আশেপাশে কি অবস্থায় আছি কার পাশে আছি খেয়াল থাকে না। এমনও হয় আমাদের নিজেদের ঘরের কি অবস্থা বা কি রং তাই ভুলে যেতে বসেছি। বাবা মা র সাথে তো কথা বলার সময়ই বের করতে পারি না। ভাবখানা এমন যে সময় পাচ্ছি না কথা বলতে।

আমরা কিভাবে সময় কাটাই সেদিকে কি কারো খেয়াল আছে।ঘুম থেকে উঠেই যদি নীল দুনিয়ায় ডুবে যাই আর ঘুমের আগেও যদি এমনটা হয় তারপর ঘুমিয়ে যাই।সারাদিন নানান কাজে ব্যস্ত থাকি। পড়াশুনা ক্যারিয়ার এসব ব্যস্ততা তো আছেই। আর নীল দুনিয়া বাকিটা সময় যেন দখল করে থাকে। নীল দুনিয়া আপন, না বাবা মা পরিবার আপন। অবশ্যই বাবা মা পরিবার।

ইন্টারনেটে যদি কোন কাজ থেকে থাকে তা আমরা রুটিনমাফিক করতে পারি।তারপর নিজের খেয়াল পরিবারের খেয়াল এসব তো দায়িত্ববোধ কর্তব্যবোধ থেকে সম্পর্কের অবস্থান ঠিক রাখতে পারি।কিন্তু তা না করে আমরা নেটেই পরে থাকি যেন।ভাল লাগছে না মনে করে নেটে ঢুকে পরলাম লেগে পরলাম ফেসবুক চ্যাটিং এসব নিয়ে। লাইক কমেন্ট শেয়ার নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পরলাম। চোখের পলকে সময় শেষ হয়ে গেল খেয়াল করলাম না। খেয়াল করলাম না পরিবার আমাকে কি বলছে কি শিখাচ্ছে বা আমার কখন কি করা উচিত।যেনো নেটেই ডুবে থাকি সারাক্ষণ। ভাল লাগছে না নেট অন করলাম। যখনই ভাল লাগছে না মনে হচ্ছে তখনই নেট অন করলাম ডুবে গেলাম নীল দুনিয়ায়।

আমার ভাল লাগা মন্দ লাগা মা- বাবার সাথে শেয়ার করতে পারি। অবশ্যই মা-বাবা আমার মনের সব কথা বুঝতে পারবেন এতে আমার মনটা অনেক হালকা লাগবে। তখন পারিবারিক সুখের বন্ধনটা উপভোগ করতে পারব ভাল থাকতে পারব।এটা নিশ্চয় নীল দুনিয়া দিতে পারবে না।

এই যোগাযোগ মাধ্যমে আপনার আমার কোন কাজ থাকলে তা আমরা রুটিনমাফিক সেরে নিতে পারি। কিন্তু নিজ দোষে পারিবারিক সুখ থেকে বঞ্চিত হতে পারি না।

পরিবারের সদস্যরা মিলে একসাথে গল্পগুজব চা আড্ডা হতে পারে। হতে পারে ছুটির সময় গুলোতে পরিবারের সদস্যরা মিলে দূরে কোথাও ঘুরে আসা।এতে অনেক ভাল সময় উপভোগ করা যাবে।একদিকে যেমন বন্ধনের দৃঢ়তা ঠিক থাকবে অপরদিকে তেমনি পারিবারিক সুখ উপভোগ করাও সম্ভব।

এখন আমরা অনেক কিছু নিয়েই ব্যস্ত হয়ে পরেছি।কিন্তু ব্যস্ততার পিছে এত বেশি ছুটছি যে কোনকিছু খেয়াল করার সময় নেই সেদিকেও যেন একধরনের ব্যস্ততা পেয়ে বসেছে। যেন খেয়াল করার সময় নেই কারো ছুটছি তো ছুটছি। এমন হচ্ছে না তো আমাদের নিজেদের অজান্তেই কাছের মানুষেরা কষ্ট পাচ্ছে। সম্পর্কের বন্ধনে চিড় ধরতে বসেছে আন্তরিকতা কমে যাচ্ছে।

এমন হচ্ছে না তো আমরা নিজেরাই নিজেদের দোষে আপনজন থেকেও বড্ড একা নিঃসঙ্গ হয়ে পরছি। কথার কথা ভবুন তো নীল দুনিয়া হঠাৎ বন্ধ হয়ে গেলে তখন কি করবেন ? তখন এই নিঃসঙ্গ একাকিত্ব কি করে ঘুচাবেন?

শুধু শুধু নিজেদের অজান্তে আপনজনদের আর কষ্ট না দেই। জীবনের সকল অধ্যায়ের মধ্যে পারিবারিক বন্ধনের অধ্যায়ে অবশ্যই অবশ্যই যত্নশীল হই। এতে পরিবার ভাল থাকবে পরিবারের সদস্যরা ভাল থাকবে আমরা সকলে ভাল থাকব।

পারিবারিক সুখের বন্ধনে আমরা যেন সকলে ভাল থাকি। প্রয়োজনে নেট ব্যবহার করতেই পারি তবে এর উপর যেন অতিরিক্ত নির্ভরশীল না হই সেদিকে আমাদের প্রত্যেকের সচেতনতার দরকার।

লিখেছেনঃ জিলফিকা বেগম জুঁই