মুক্তধারা

বয়স যখন ত্রিশ এবং একা থাকার একাকীত্ব

নিঃসঙ্গই যেন সঙ্গী। টেরই পেলাম না কবে থেকে যেন আমি একা হয়ে গেছি। আচ্ছা,একা তো মানুষ বাঁচতে পারে না। তবে আমি বেঁচে আছি কি করে। একা বেঁচে আছি কি করে।

রক্তের সম্পর্কের আপনজন আছে আমার। তাদের তো আমি অনেক ভালোবাসি। অনেক বেশি ভালোবাসি। তবে আমার মনের ভেতরে একাকিত্ব অনুভূতি টের পাই কেন। আশেপাশে আমার ভালোবাসার মানুষেরা আছে। তারপরও আমার একাকিত্বের কারণ বুঝে উঠতে পারি না।
প্রতিটি দিন তো আমার অনেক ভালোভাবেই কাটে। মন্দ তো কিছু দেখি না। তবে মনের ভেতর এত হু হু করে কেন।
কান্নাও যেন কখনও কখনও নিজেকে সঙ্গ দিতে চায় না। মাঝে মাঝে পাথর হয়ে যাই কেন? কান্না সঙ্গ না দিলে তখন আরো বেশি কষ্ট। তখন কান্নাকেই যেন খুঁজে ফিরি।

যখন কোন একদিন ঘরের দরজা লাগিয়ে ঘন্টা জুড়ে কাঁদতে পারি তখন কিছুক্ষণ পর অনেক হালকা লাগে। যদিও কাঁদতে খুব একটা বেশি পারি না। কবে থেকে যেন সব কিছুই খুব সহজ ভাবেই নিতে শিখলাম নিজেও জানি না।
কি আর বলব বয়স তো আর কম হল না। ত্রিশ বছর বয়স এটা অনেক বেশি মনে হয় আমার কাছে। কারণ এখন মানুষ গড়ে ৫০/৬০ বছর বাঁচে। তাই সেই হিসেব করতে গেলে আমার কাছে ত্রিশ অনেক বছর বয়স।

পেছনের দিনগুলো সুখ দুঃখ মিলেই অতীত। অতীত তো অতীতই। বর্তমানে যে কবে থেকে নিঃসঙ্গতা পেয়ে বসল টেরই যে পেলাম না। শিশু থেকে বৃদ্ধ সবটাই তো মানুষের ভলমন্দ নিয়ে বেঁচে থাকার অধিকার আছে।
আজ যেন মনে হচ্ছে সেই অধিকার থেকেও আমি বঞ্চিত। ভালমন্দ কোনটাই যেন আমার মাঝে নেই। হায় কবে থেকে যে আমি এমন হয়ে গেলাম।
আশেপাশে এত মানুষ তবুও কেন নিজেকে এত একা একা লাগে। মন কি আমার সত্যিই খুব একা হয়ে গেছে। এ একাকিত্বের কি শেষ নেই। আমি কি এই নিঃসঙ্গতা থেকে মুক্তি পাবো না?

জীবনের সকল অধ্যায়েই তো ভাল মন্দ সবটা মিলেই তো চলে এবং চালিয়ে নিতে হয়। মানিয়ে নিতে হয়। জীবনকে উপভোগ করতে হয়।এই আর কি।
কি কারণ সেই যা আমাকে সবটা থেকে বঞ্চিত করে আজ এই আমি একাকী। তার জন্য কি আমিই দায়ী। নাকি নিয়তি দায়ী। নিয়তির বা কি দোষ। নিয়তি তো নিয়তির মতোই চলে। এ নিয়ে বলার কিছুই নেই আমার।

ত্রিশ বছর বয়সে কেউ চাকরিজীবী কেউ বেকার কেউ বা পাক্কা সংসারী।এই বয়সটাতে আসলে আমাদের কোন অধ্যায়ে থাকা উচিত।উচিত বললেই কি তা সম্ভব। সব সময় হয়তো সম্ভব নয়।
যেমন -যখন ২৫/২৬ বছর বয়সে থাকি তখন হয়তো বুঝতে পারি না যে সে সময়টাতে কি ভাবে মূল্যায়ন করা উচিত বা সামনের দিনগুলোর জন্য কিভাবে নিজেকে তৈরি করা উচিত।

হয়তো অতীতের ভুলে আজকের ভুক্তভোগী। আজকের এই নিঃসঙ্গতা। কলম ডায়েরী হয়তো মাঝে মাঝে সঙ্গ দেয়।
যদিও এই ত্রিশ বছর বয়সে একাকিত্বের চাপে অতীত বর্তমান ভবিষ্যত কোনটাই মিলছে না বা মিলাতে পারছি না। তারপরও প্রতিটি দিন ভাল থাকার যুদ্ধ চলছেই তো চলছেই। যদিও এই যুদ্ধের কোন অস্ত্র সঙ্গ শক্তি কোনটাই আমার নেই।
তারপরও নিজেকে ভালোবাসি। সেই ভালোবাসায় যত্নশীল হয়ে শূণ্য হাতে সামনে চলি।

এই ত্রিশ বছরে এসে মনে হচ্ছে বেঁচে থাকাই যেনো এক অন্যরকম যুদ্ধ। যুদ্ধ হয়তো করতে হয় কখনো কখনো।
বিপদ পরিস্থিতি এইসব শূণ্য হাতের মানুষকে যুদ্ধ করতে শেখায় হয়তো।তাই হয়তো আপনা আপনি যুদ্ধ পর্ব চলছেই তো চলছেই। আজকের আমি একা এটাই হয়তো আজ আমার বড় শক্তি বাঁচার প্রেরণা।

লিখেছেনঃ জিলফিকা বেগম জুঁই