মুক্তধারা

আমি তুমি ও আমাদের পরক্রিয়া

আমি আর বাবু যখন একসাথে ঘুরতে বের হই তখন সে অন্য কোন মেয়ের দিকে তাকালে খুব জেলাস ফিল করি মাঝে মাঝে ইনসিকিউড্ ফিল করি। এটাই স্বাভাবিক আর এটাই মানুষের সহজাত প্রবৃত্তি। এটা না হওয়াটাকেই হয়ত অস্বাভাবিক মনে হবে। তার পরও খুব সহজ ভাবে তাকে বলি ” খুব সুন্দর তাই না”? এতে সে কিছুটা হলেও তার ভুল বুঝতে পারে আর আমিও চেষ্টা করি বিষয়টাকে হালকা করে নিতে। আমি মনে করি তাছাড়া দুই জনের সম্পর্কটা খোলামেলা বা বন্ধুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে না।

যে কোন সম্পর্ক শুধু দায়িত্বের বেড়াজালে বন্দি না রেখে বন্ধুত্বে বেধে রাখা দরকার। যে কোন একটা সম্পর্ক টিকে রাখার জন্য এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এতে নিজেদের ভালোলাগা না লাগা গুলো সামনে চলে আসে।

স্বামী- স্ত্রী একে অপরের সাথে বন্ধুত্বপূর্ন আচরন করলে কেউ কারো কাছে কিছু লুকানোর সুযোগ পায় না। তারপরেও আমরা নিয়মের বাইরে চলি, চলতে চাই। যার কারনে শুরু হয় ভুল বোঝাবুঝি, পারিবারিক দন্দ্ব। আর তা থেকে দূরত্ব তারপর নিজেদের সময় পার করার জন্য আলাদা কিছু খোঁজা। সেই বেতিক্রম বিষয়গুলোর ভিতর এখন সবচেয়ে আলোচিত “পরকীয়া”। পরকীয়া আশাহীন এক সম্পর্ক, যেটা দূর্বার আকর্ষন করার ক্ষমতা রাখে।

নিজেদের পছন্দে বিয়ের পরেও দেখা যায় আমরা অভিযোগ করি তুমি আর আমাকে আগের মতো ভালোবাসোনা। এটা স্বামী বা স্ত্রী দুই জনের দিক থেকেই এরকম কথা আসতে পারে। তবে বেশীরভাগ স্ত্রীর অভিযোগ এটা। বিয়ের পর প্রেমিকা থেকে যখন কেউ স্ত্রী তখন পুরো পরিবার,আর সন্তান নিয়ে ব্যস্ত, ভাবনা তখন পুরো পরিবারের সন্তুষ্টি। এটা করতে গিয়ে নিজেই একসময় কাছের মানুষের কাছে থেকে দূরে সরে যায়। আগের মতো সময় দিতে পারেনা বা নিজের প্রতি যত্ন নেওয়া বা আগের মতো করে নিজেকে কাছে উপস্থাপন করতে পারেনা। যার ফলে দুজনের মাঝে দূরত্ব বেড়ে যায়,আগের মতো হয়তবা আকর্ষন আর থাকে না।যেটা শুধু পরিস্থিতির কারনে তৈরি।

এইরকম পরিস্থিতি থেকেই অনেকে পরকীয়ায় জড়িয়ে যায়। ফোন, ইন্টানেটে এখন সহজেই যোগাযোগ করা সম্ভব। একে অপরের কাছে গল্পের ছলে নিজেদের ভাল লাগা না লাগার কথা বলছে, এসব থেকে তৈরি হচ্ছে দূর্বলতা। কাছের মানুষ থাকার পরও একাকিত্ব বোধ থেকে দুরের না দেখা মানুষটি আপন হয়ে উঠছে। কারন কাছের মানুষগুলো একে অপরকে সময় দিচ্ছেনা।

# একটু সময় বের করে যদি নিজেদের মতো করে কাটানো যায়

# বাইরে ঘুরতে যাওয়া,একসাথে বাইরে খাওয়া

# নিজেকে প্রিয়জনের কাছে সুন্দর ভাবে উপস্থাপন করা।

# বিভিন্ন বিষয় নিয়ে যেমন-বই, সিনেমা ধর্মীয় বিষয় নিয়ে আলোচনা করে সময় পার করা।

# প্রতিবেশী বা অন্য কারো প্রতি দূর্বলতা চোখে পরলে খোলা মেলা কথা বলা,বা এটার ফলে কি ধরনের সমস্যা তৈরি হতে পারে সেটা নিয়ে কথা বলা।

# সব সময় সাংসারিক প্রয়োজনীয় কথা না বলে বিভিন্ন বষয়ে কথা বলে প্রিয় জন কে তার গুরত্ব বুঝতে দেওয়া

# নিজেদের অপূর্নতা নিয়ে কথা বলা।

# ধর্মীয় বিষয় গুলো নিয়ে আলোচনা,

# বাচ্চাদের সাথে বা পরিবারের আর সব সদস্যদের সাথে মাঝে মাঝে গল্প বা আড্ডার ছলে পারিবারিক বন্ধন শক্ত করা।

এই ভাবে একে অপরের প্রতি সচেতন হলেই পরকীয়ার মতো কিছু কিছু অনাকাঙ্খিত পরিস্থিতি এড়ানো সম্ভব।

পরিবারিক বন্ধন আর তার গুরুত্ব পরিবার থেকেই শিক্ষা নেয় মানুষ। তাই আজ যে পরিবারে পারিবারিক বন্ধন নেই আগামীতে সেই পরিবারের সন্তানরা নিজেদের আনন্দ খোঁজার জন্য নিষিদ্ধ বিষয় গুলোর প্রতি আগ্রহী হবে, দূুর্বার আকর্ষণ করে এমন যে কোন দিকে ঝুকে পরবে।

লিখেছেনঃ সাজিয়া আফরিন