মুক্তধারা

সমাজ দুর্ভাগ্যবশত নিয়মিত আহাজারি

এই সমাজ মানুষদের নিয়েই সমাজ। তবে মানুষদের মধ্যে তো একটা ব্যাপার আছেই ছেলে মানুষ আর মেয়ে মানুষ। পুরুষ নারী সব মিলেই সমাজ। এই দুই জাতের বুদ্ধি উনিশ বিশ হতেই পারে। না হয় ধরলাম দুই জাতের বুদ্ধি আকাশ পাতাল তফাৎ।বিশাল তফাৎ এদের ক্ষমতার। হতেই পারে এই বুদ্ধি বা ক্ষমতার কমবেশি তফাৎ।

এই মানুষদের যে একসাথে বসবাস করতে হয় এটা তো স্বাভাবিক ব্যাপার। সমাজে ভাল মন্দ মিলেই এই আমাদের জগত। শৃঙ্খল বিশৃঙ্খল সমাধান সমস্যা সব সব ধরনের ব্যাপার থাকেই এবং স্বাভাবিক বটেই। ভালভাবে বাঁচার চেষ্টা ভালভাবে বেঁচে থাকার চেষ্টা সব মিলেই চলে জীবন।

একটা কথা বেশি শোনা যায় এটা পুরুষ শাসিত সমাজ।এদের ক্ষমতা ও বুদ্ধি অনেক। তো ভাল কথা সমাজকে সুন্দরভাবে পরিচালনার কাজেই তারা তাদের ক্ষমতা ব্যবহার করুক। একটা পরিবার পরিচালনা থেকে তারা সব ধরনের তাদের সাধ্যে বা দায়িত্বে সব ঠিকঠাক পরিচালনা করেন।যুগের পর যুগ করেও আসছেন এই ক্ষমতার সুষ্ঠু পরিচালনা।

কিন্তু কিছু কিছু পুরুষ এই পুরুষ শাসিত শব্দটা বিষিয়ে তুলছে। কিছু সময় তারা ক্ষমতার অপব্যবহার করছে।অবশ্য কিছু নারীরা এই পুরুষ শাসিত শব্দটাকে অনেকটা নারীশাসিত ভাবেও সমাজে বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি করছেন। দুদিক থেকেই যদি সমস্যা হয় তাহলে তো কম বেশি দুই জাতেরই দোষ।

মা খালা নানী দাদীদের সময় আর এখনকার সময় বিশাল তফাৎ। তাদের সময়ে সমাজে এত বিশৃঙ্খল ছিল না যতটা না এখন। যাই হোক আগে পরে কম বেশি সমস্যা থাকেই। মেয়েরা নাকি তাদের অধিকার বেশি বেশি চায়। কখনও কখনও শোনা যায় এটা নাকি মেয়েদের অতিরিক্ত বাড়াবাড়ি। সব ব্যাপারে নাকি মেয়েদের মাতামাতি মাখামাখি। অবশ্য কিছু মেয়ে অতিরক্ত বাড়াবাড়ি মাতামাতি মাখামাখি করে তাদের অধিকার নিয়ে।

আর কিছু কিছু মেয়ে সমাজে স্বাভাবিক ভাবে বাঁচতে চায়।মা-বাবার কোলের শিশু মেয়েটি সেই শিশুকাল থেকে বৃদ্ধ কাল পর্যন্ত যে ধাপগুলো আছে প্রতিটা ধাপেই সে স্বাভাবিক দায়িত্ববোধ নিয়ে বাঁচতে চায়। যখন সোজা সরল স্বাভাবিক মেয়ে কোন একটা ধাপে গিয়ে ছিটকে যায়। তারপর তার গল্পটা অন্যভাবে দাড়ায়।তার সামনে শুধু একটি লড়াই এসে দাড়ায় সে লড়াই হচ্ছে বেঁচে থাকার লড়াই।এ সমাজে টিকে থাকার লড়াই।

আমরা কি জানি সেইসব ছিটকে যাওয়া মেয়েদের প্রতিটি দিনের কথা। আমরা কি জানি তাদের মনের মরণ ব্যাথা।আমরা জনপ্রতি একজন একজন করে কি তাদের পাশে দাড়াই? প্রতি একজন করে যদি তাদের পাশে দাড়াই তাহলে কি তাদের সমস্যা থেকে যাবে নাকি তারা সমাজে খুব স্বাভাবিক সহজে টিকে যাবে। নাকি সহজ সুন্দরভাবে তারা বাঁচতে পারবে।

সহজ সুন্দরভাবে বাঁচতে পারার জন্য মানুষ মানুষের পাশে এসে দাড়ালে কি যথেষ্ট নয়। একটি মানুষ একটি মানুষের পাশে এসে দাড়াবে তাতেও তো অনেকটা সমাধান হয়ে যায়। তবে আমরা সবাই চুপ থাকি কেন? বোবার মত দাড়িয়ে থাকি কেন? যে যেভাবেই পারি বিপদে মানুষের পাশে এসে দাড়াই না কেন?

ইচ্ছে থাকলেই প্রত্যেকেই তার সাধ্য অনুযায়ী মানুষের বিপদে পাশে এসে দাড়াতে পারে।বিপদগ্রস্ত মানুষের মনে সাহস যোগাতে পারে। তবেই অনেকটা সমস্যা মুক্ত সমাজে আমরা শান্তিতে বাস করতে পারি।
আমাদের বিবেক কোথায়? আমরা সাহায্যের হাত বাড়াতে এত পিছপা কেন? এত সব কেন র উত্তর আমাদের নিজের কাছেই আছে। আমরা নিজেই নিজের সাথে প্রতারণা করি। বিবেক কে মেরে ফেলি।নিজের অস্তিত্ব বলে আর কিছু থাকে না আমাদের মাঝে।

ছেলে মানুষ মেয়ে মানুষ শাসন বারণ এসব নিয়ে ব্যস্ত আমরা। আমরা যে শুধুই মানুষ এটা ভুলে যাই। এটা আমরা বার বার ভুলে যাই হাজার বার ভুলে যাই। তাই তো যে কারো বুকে খুব সহজেই ছুরি মারতে পারি। কারো গায়ে আগুন লাগাতে পারি। মারতে মারতে মানুষকে মেরে ফেলতে পারি। চুরি ডাকাতি খুন ধর্ষণ একের পর এক কুকর্ম চালিয়ে যেতে পারি।

ছি! আমরা এত খারাপ এত জঘন্য। এইসব কাজে আমরা এতটুকুও ক্লান্ত না।এতটুকুও না। যেন জঘন্য কাজের প্রতিযোগী আমরা।হায় রে আমরা মানুষ নামের অমানুষ।

সমাজ দুর্ভাগ্যবশত নিয়মিত আহাজারি
লিখেছেনঃ জিলফিকা বেগম জুঁই