মুক্তধারা

এলোমালো ভাবনা

মাঝে মাঝে আমার খুব উলটা পালটা বকতে ইচ্ছে করে, কেউ শুনল কী না শুনল না। কিংবা মাঝে মাঝে আমার ভীষন এলোমেলো লিখতে ইচ্ছে করে, কেউ পড়ল কী না পড়ল না-তাতে কিছু যায় আসে না।

আজ হঠাৎ মনে পড়ল, অনেকদিন আকাশ দেখি না-সংসারের চাপে, সংসারের ভিতর আর বাইরের মানুষগুলোকে খুশি করার চাপে; নিজের খুশি কী ছিল, যেন সেটাই ভুলে যেতে বসি আমি,তুমি, আমরা-সবাই!

আজ অনেকদিন পর, হয়তো  সবার অগোচরে একটু একলা থাকতে পারছি বলে, নিজে কী চাই, নিজের কী প্রয়োজন সেটা বুঝতে পারলাম,হয়তো জানতে পারলাম। কিন্তু জানাতে পারলাম আর কই? দোকলা থাকলে, নিজের মনের খবর নেয়ার সময় না থাকে আমার, না থাকে তার। তখনকার খবর নেয়ার বিষয়টা যে শুধু আমার মাঝেই সীমাবদ্ধ থাকতে পারে না,তখনকার খবর গুলো হয়ে যায় আমাদেরকে নিয়ে অথবা  সবাইকে নিয়ে।

মাঝে মাঝে নিজেকে বোঝার জন্য হলেও সময় দিতে হয়, সুযোগ দিতে হয়। সবকিছু পেয়ে যাওয়া হয়ে গেলেই যে জীবনের চলার পথটা খুব মসৃণ হয়ে যায়, তা নয়..সবকিছু পাওয়ার মাঝেও অনেক না পাওয়া থাকে ,সেটা জানতে পারা তো দূরের কথা, অনুধাবন করার মতও আজ কাল আর সময় কারো হয় না। জীবনের ব্যস্ততা, যাপনের ব্যস্ততা-তাকে প্রতি মুহূর্তে মরিচিকার পিছনে ছুটতে বাধ্য করে। না পাওয়ার শঙ্কায় তার মন যখন বার বার বিধবংসী হতে চায়, তখনই কেন যেন অজানা আতংকে তার পা টলমল করা ওঠে, ভয় হয়, আচমকা এই বুঝি ফসকে যায়। কিছুতেই কেন যেন মনের গহীনে আর তার পৌঁছানো হয় না।

‘আত্মতৃপ্তি’ বলে যে একটা অনুভূতি আছে,তা আমরা প্রায়শ ভুলে যাই-আমরা সারাক্ষণই শুধু ভাবতে থাকি- লোকে কী বলবে, কখন বলবে, কোথায় বলবে। আমরা এটা ভাবি না, আসলে আমি কী বলব, আমরা কী বলব—আসলে আমি কী বলতে চাই! লোকে কখনো আমাকে তুষ্ট করতে পারবে না, লোকের কথায় আমার শুধু চিড়ে কেন, মুড়িও যে ভিজবে না—এই রূঢ় সত্যটা উপলব্ধি করার ক্ষমতাও অনেকের মাঝে জন্ম- জনমান্তরেও কেন যে গড়ে ওঠে না, ভেবে এখন আর অবাক হয় না কেউ, কারণ এটাই যেন আমাদের নিয়তি, এটাই যেন আমরা আজ চরম সত্য বলে মেনে নিয়েছি !

অর্থ, মোহ, লোভ ,লালসা-চারদিকে শুধু ছুটে চলা আর ছুটে চলা-এগুলাকে হঠিয়ে, ঐতিহ্য, সংস্কৃতি, কৃষ্টি, সভ্যতা কে ছাপিয়ে; চেনা গন্ডির বাইরের জীবনটাকে টপকে যতক্ষণ পর্যন্ত না অজানার পথ থেকে নিজের মনোবাসনা কে কুড়িয়ে এনে সবার সামনে উপস্থাপন করা যাবে,ততক্ষণ পর্যন্ত না অন্তরের অন্তস্থল থেকে সুখের দেখা মিলবে,না হৃদয়ের গহীনে মিলবে শান্তির পরশ। মনের মুক্তি ই আসল মুক্তি, মনের চাওয়াটা ই বড় চাওয়া-এ কথা বুঝতে না পারলে,বুঝাতে না পারলে জীবনের মূল্য কোথায়?

আর এই চরম সত্যটাই এখন নিজেকে অনুধাবন করতে হবে, নিজেকেই বুঝতে হবে—নিজের আত্মতুষ্টি নিজেকেই সংরক্ষণ করে জায়গামত গুছিয়ে নিতে হবে, যেন পরবর্তীতে জীবন নিয়ে আর কোন ‘না পাওয়া’ না থাকে,আর না থাকে বিন্দুমাত্র আফসোস। মন একজনের একটাই, তা অন্য কারো সাথে ভাগ করা যায় না, একের মনের শান্তির খবর, কল্যাণের খবর, চাহিদার খবর  অন্যে কোনদিন আপনা থেকেই জানতে পারেনা, দেখতে পারে না কিংবা শুনতেও পারে না।নিজের জীবনকে তাই আর সবার থেকে আলাদা করে নিজেকেই উপভোগ্য করে তুলতে হবে, নিজ হাতে তৈরী করে, সাজিয়ে নিতে হবে।

এলোমালো ভাবনা
লিখেছেনঃ সুস্মিতা জাফর