মুক্তধারা

কোন কোন ডিভোর্সী আড়ালে

ডিভোর্সী শব্দটা যেন সমাজে একটা সমালোচনার অংশ। এই শব্দটা যার জীবনে জড়িয়ে যায় অবশ্যই তার কাছে এটা একটা নতুন অভিজ্ঞতার অংশ। সেটা যেমনি হোক যাই হোক।
ডিভোর্স এর কারণে কেউ অনেক সুখি হয় আবার কেউ দুখী হয়। কেউবা মনে করে সে স্বাভাবিক জীবন ফিরে পেয়েছে। একেক জনের কাছে একেক রকম।
তবে কাউকে কাউকে তো নানান ধকল সামলাতে হয়। এই ধকল সামলাতে গিয়ে মা-বাবা, ভাই বোন বা কোন বন্ধু পাশে থাকেন। তবে অবশ্যই নিজের চেষ্টাতো থাকতে হবেই।

সময়ের সাথে অনেক কিছুই বদলে যায়। তাই একটু শক্ত ভাবে ধৈর্য ধরে সময়ের সাথে লড়াই করতে হয়। অবশ্যই কারো জন্য কারো জীবন থেমে থাকে না। সময়ের সাথে জীবনের সাগর পাড়ি দেওয়া আপনা আপনিই হয়ে যায়। তাই নিজেকে শক্ত হাতে সামলে রাখতে হয়।
যার জীবনে অনিচ্ছায় ডিভোর্স হয় তার অবশ্য সব কিছু সামলে নিতে ভালোই ধকল যায়। কেউ না কেউ শক্ত ভাবে সময়ের সাথে নিজেকে গুছিয়ে নেয়। কেউ বা আত্মহননের পথ বেছে নেয়।তবে সবকিছু মিলেতো একটা গন্ডগোল বাঁধেই।

সমাজের বেশিরভাগ লোকই এই ডিভোর্সীর পিছে লেগে যায়। তারা কোনো কারণে সম্ভবত ঝামেলা করার সাহস পায় যারা সমাজে এই সমস্যার সৃষ্টি করেন তারাই ভাল জানেন তারা কেন এমনটা করেন। এইসব লোকদের কারণে ডিভোর্সীরা আড়াল হয়ে যান। কোন কোন ডিভোর্সী আবার বিপদে পরে যান। আবার কোন কোন ডিভোর্সী ভুল পথে পা বাড়ান।

নিজের জীবন গোছাতে নিজের চেষ্টায় নিজেই দায়িত্ব নিতে হয়। কারো ভাগ্যে সহযোগীতা করার মত শুভাকাঙ্খী থাকে আবার কারো থাকে না। কিন্তু সময়ের সাথে নিজেকে গোছাতে হয়। ডিভোর্স এর পর জীবন গোছানোর এক রকম যুদ্ধ শুরু হয়।

সমাজে আইন ছাড়াও আর কোন অংশ থেকে ডিভোর্সীরা সহযোগীতা পেয়ে থাকে?অনেক সময় আইনের সাহায্য কেউ পায় না আবার কেউ চায় না। আবার কেউ কেউ ঝামেলা মনে করে এসবে জড়ায় না।
তাহলে কি চাইলেও আইনের মাধ্যমে ডিভোর্সীরা তাদের আাশানুরুপ সহযোগীতা পায়? নাকি ডিভোর্স শব্দটাকে মানুষ খুব সিম্পল বলে মনে করে।আর যদি সিম্পল মনে করেই থাকে তাহলে এত সমালোচনা কেন? আর এই বিষয় নিয়ে কেউ কথা বলতে আসলে তাকে সবাই গালি ছুড়ে দেয় কেন? যারা গালি দেয় তাদের মাঝে কি ডিভোর্সী নাই? নাকি তাদের মাঝে কারো ডিভোর্স না হওয়ার গ্যারান্টি আছে।

না হলে এত গালি আসে কিভাবে? এত সমালোচনা কেন? এত মুখোশধারী কেন? যখনি জানতে পারে কোন মেয়ের ডিভোর্স হয়েছে তখন তার পিছু নেয় কেন?
যদিও সমাজে ভাল মন্দ দুই লোকেই আছে। তবে মুখোশধারী লোকের সংখ্যাটা মনে হয় বেশি।ডিভোর্সীর সামনে এক রূপ সমাজে আরেক রূপ।
অবশ্যই সেই ডিভোর্সীকে অনেক সাবধানে চলাফেরা করতে হয়। কারণ ডিভোর্সী জানে তার প্রতি সময়ে সময়ে বিপদ।হয়তো তাকে প্রতিনিয়ত ডিভোর্স শব্দটা লুকিয়ে রাখতে হয়। যারা এই শব্দটা জানে তাদের কাছ থেকে ডিভোর্সীকে সব সময় আড়াল হয়ে থাকতে হয়।

এত সমস্যা তো আর কেউ দেখতে আসে না। শুধু সমালোচনা করার সময় মুখে খই ফোটে।যারা সমালোচনা করেন তারা আয়নার সামনে দাড়িয়ে সমালোচনা করেন দেখি। অবশ্য কারো কারো বোধগম্য হবে না হয়তো তারা মানুষরূপে অমানুষ জন্য।

লিখেছেন: জিলফিকা বেগম জুঁই