অনুরণন

৭১’এর ছবি (পর্বঃ ৪ ও ৫)

৭১’এর ছবি (পর্ব-৪)

নাহিল বাড়ি ফিরে আগে চা খায় সে যত রাতই হোক না কেনো,ছবির হাতের চা সে মিস করতে চায় না। তাই ছবিও জানে বলে যখনই নাহিল ফিরে সে চা নিয়ে হাজির হয়। নাহিল বাসায় ফিরে আজ চায়ের জন্য অস্থির। মেয়েটা কেনো যে যায়। ওকে না দেখলে ওর সাথে ঝগড়া না করলে নাহিলের দিন একদম পার হয়না আর রাত তো কাটেই না। আজ নাহিল জইনিং লেটার হাতে পেয়েছে, খবরটা আগে ছবিকে দিবে তার পর বাড়ির সবাই কে। ছবিকে ফোন করে নাহিল।

নাহিলঃ কিরে কেমন আছিস?

ছবিঃ বিকেলেই তো এলাম, তখন যেমন দেখেছো।

নাহিলঃ একদম সে রকমই থাকবি এবং সে রকমই ভাল ভাল ফিরবি। রিনি কেমন আছে? চকলেট পছন্দ হয়েছে?

ছবিঃ হু ভাল আছে চকলেট নিয়েই বসেছে এখন। তুমি চা খেয়েছো?

নাহিলঃদিলি কই চা বানিয়ে।

ছবিঃআমি কি আছি?

নাহিলঃ চলে আয় তো রিনিকে নিয়ে। কেনো মেয়েটাকে কষ্ট দিচ্ছিস? ও আচ্ছা শোন, তোকে যে কারনে ফোন দিয়েছি,জয়নিং লেটার হাতে পেয়েছি। আগামী সপ্তাহে জয়েন করবো, চলে আসিস তাড়াতাড়ি। আর এবার বল এতো দিন পরে মেয়েটাকে পেয়েও কেনো মন খারাপ তোর?

ছবিঃ আমার মনে হয় আর যাওয়া হবেনা। কাল আমাকে দেখতে আসবে,তার পর কি হবে জানি না।

নাহিলঃছবি তুই কি চাস বলতো?

ছবিঃ আমি আর রিনি আমাদের মতো করে বাঁচতে চাই।

নাহিলঃএই ভাবে কি বাঁচতে পারব?

ছবিঃ ভাইয়া তুমি কিন্তু সময় মতো জয়েন করো।

নাহিলঃ সে তো আমাকে করতেই হবে। তুই না বললেও

ছবিঃ তবুও বললাম,রাখছি।

নাহিলঃ হু।

৭১’এর ছবি (পর্ব-৫)

মৌমিতা রিক্সার জন্য দাঁড়িয়ে আছে। ঠিক পিছন থেকে কেউ বললো হাই। মৌমিতা পিছনে তাকিয়ে ছেলেটিকে দেখতে পায়।
হাই আমি সাদিক,ছেলেটি বলে।

মৌমিতাঃ জি আমি

সাদিকঃ আর কি কি জানো?

মৌমিতাঃ পাশের বাসায় থাকেন, কিছু একটা পড়েন।

সাদিকঃ হ্যা কিছু একটা তো পড়ি। তো কোথায় যাচ্ছো?

মৌমিতাঃ ক্লাসে

সাদিকঃ সেদিনের কথায় কি তুমি কিছু মনে করেছো? আমি আমার মনের কথাটা বলেছি হতে পারে একটু আর্লি।

মৌমিতাঃ আমার দেরি হচ্ছে, আজ আর সময় নাই, তবে আপনার মনের কথা আপনি বলতেই পারেন যাকে খুশি এ আপনার অধিকার। আমি কি করবো সে আমার ব্যক্তিগত বিষয়।
মৌমিতা হাটতে শুরু করে। সাদিক মনে হয় দাঁড়িয়ে আছে। কিছুদূর আসতেই দেখা নাহিলের সাথে।সেও বাড়ির পাশের রাস্তায় দাঁড়িয়ে।

মৌমিতাঃ নাহিল ভাই ছবি কবে আসবে?

নাহিলঃ জানি না কবে।পড়া লেখার চিন্তা আছে নাকি তাই আসবে?

মৌমিতাঃ একটু হেসে চলে যায়।

নাহিল দাঁড়িয়ে আছে হিরন আসবে তাই তার অপেক্ষায়,ছেলেটা ফাজিল একটা,কোন সময় জ্ঞান নাই। কতো কাগজ পত্র রেডি করতে হবে, অথচ সময় কম। একটা কিছুতে ঢুকতে হবে যে করেই হোক,তবে তার আগেই না সব আবার হাতছাড়া হয়ে যায় সেই ভয়ও পেয়ে বসেছে। তাই মজাজটা খুবই খারাপ হয়ে আছে

মৌমিতা রিক্সয় যেতে যেতে ভাবতে থাকে সাদিক যে কথাগুলো ওকে বলেছিলো সেগুলো যদি নাহিল ভাই বলতো কত যে ভাল লাগতো। সেই কবে থেকে অপেক্ষায় আছে নাহিলের জন্য। একবার ভেবে ছিলো ছবিকে বলবে কিন্তু পরে ঠিক করেছে বলতে হলে নাহিল কেই বলবে প্রথমে। শুধু সময়ের অপেক্ষায়। কিন্তু সে মানুষটা
ও কেমন জানি বোঝে না। অবশ্য বুঝতে দিলে তো বুঝবে?সেরকম কিছু তো হয়নি কখনও। ভাবতে ভাবতে কলেজ পৌঁছে যায় মৌমিতা।

(চলবে…………)

৭১’এর ছবি
লিখেছেনঃ সাজিয়া আফরিন