মুক্তধারা

প্রিয় কাব্য | খোলা চিঠি

প্রিয় কাব্য

তুমি আকাশের ঠিকানায় চিঠি লিখতে বলেছিলে। তুমি কি এখন আকাশ জুরে থাকো? তুমি আকাশে উড়ে বেড়াও? তুলোর মতো, পাখির মতো? তুমি এই কাব্য কে ছেড়ে কোথায় চলে গেছো। তুমি আসলে বেঁচেই গেছো কাব্য। আচ্ছা, তোমার কি পাখি হয়ে উড়ে ফিরে আসতে ইচ্ছে করে না? তোমার সেই রাতের পর রাত কথা বলা মানুষের কাছে, ইচ্ছে করলেই পারো? ইচ্ছে তোমার হয় না এ আমি বিশ্বাস করি না, ইচ্ছে ঠিকই হয়, পারো না। অথচ এক সময় যা ইচ্ছে হতো তোমার তাই করতে। ইচ্ছে যদি হতো সারারাত না ঘুমিয়ে গল্প করবে- করতে। ইচ্ছে যদি হতো সারাদিন নৌকায়,পথে পথে হাটবে – হাটতে। কে তোমাকে বাধা দিতো? জীবন তোমার হাতের মুঠোয় ছিলো। এই জীবন নিয়ে যেমন ইচ্ছে খেলেছো। আমার ভেবে অবাক লাগে, জীবন এখন তোমার হাতের মুঠোয় নেই। তুমি তোমাকে নিজে থেকে রেখে এলে কাব্যের আড়ালে, তুমি প্রতিবাদ করতে পারোনি। সাথে আমাকে ও করতে দাওনি।

আচ্ছা, তোমার সেই আমি সব এই কথাটি কোথায় গেলো? তার উদ্দেশ্যে তোমার দিস্তা দিস্তা ডায়েরীর পাতা পড়ে, প্রেমের কবিতা দেখে আমি কি ভীষণ কেঁদেছিলাম একদিনো! তুমি আর কারো সঙ্গে প্রেম করছো, এ আমার সইতো না। কি অবুঝ ছিলাম আমি! তাই কি? যেন আমাকেই তোমার ভালোবাসতে হবে। যেন আমরা দু’জন জন্মেছি দু’জনের জন্য। যেদিন তোমাকে নিজে থেকে রেখে এলে কাব্যের আড়ালে, আমার খুব দম বন্ধ লাগছিলো।

যখন তুমি আমার প্রফেশন কে বড়ো করে দেখেছিলে? কখনো আমাকে ভালো করে বলোনি। আমি জানি যা আমি বলতে বলেছিলাম তা কখনো তুমি বুঝতেই পারনি। কখনো বোঝার মতো পাত্তাই তো দাও নি কাব্য। জানি এ কথাগুলো বললে তুমি আমাকে বলবে যে আমি তোমাকে একটি দোষ দিতেছি। না তোমার কোনো দোষ নেই কারণ আমি তো তোমাকে বলতেই পারিনি যে আমি তোমাকে আমার করে চাই্।

এই চাওয়াটা কোনোদিন ভালো করে চাইতে পারিনি বলে সেই ছোটবেলা থেকে ঠকেছি। প্রতিষ্টা পাই নি ভালো একটা, আবার মাঝপথে এখানেও পাস করতে পারিনি। দোষ সব আমার কষ্টার্জিত অধ্যাবসায়ের ফসল কাব্য। ঠিক যখন অবুঝ চিনি না জানি না যে একজনকে জীবনের জন্য স্থায়ী করে নিলাম। ঠিক দুজনের কথোপকথনের মধ্যে একসময় সবই হলো কেউ কাউকে পাইনি। শুধু দুজনই শব্দে কেদেছি যা কারো চোখে পড়েনি। এত কিছু লিখছি আর হৃদয়টাকে এতো ফাঁকা আর কখনো লাগেনি। আমার ঘরে তোমার লিখা চিঠিগুলো হাতে নিয়ে জন্মের কান্না কেঁদেছিলাম। আর মনে হচ্ছিল যে কেউ আমাকে অর্নব কান্ত বলে ডেকিছিলো। এতো কিছুর পরও তুমি বুকের মধ্যে রয়ে গিয়েছিলে ! সেদিন আমি টের পেয়েছি। কোথায় আমার কষ্টের পরিমান কতো?

আমার বড়ো হাসি পায় দেখে, এখন তোমার সব আছে। যখন পয়সার অভাবে ভালো করে ঘুরতে পারতাম না মোবাইলে টাকার অভাবে কথা বলতে পারতাম না। তখন আমি তোমার সব ছিলাম এখন না হয় তোমার কেউ নই, তোমাকে ছেড়ে চলে এসেছিলাম বলে।

শেষদিকে তুমি এক ছেলেকে ভালোবাসতে। একসময় বিয়েটাও হলো। এখন একটা প্রজন্ম আছে আসলে এটাই হয় আমি জানি। আমাকে ওর গল্প একদিন করলে। শুনে … তুমি বোঝোনি যে আমার খুব কষ্ট হচ্ছিলো। এই ভেবে যে, তুমি কি অনায়াসে প্রেম করছো! তার গল্প শোনাচ্ছো! ঠিক এইরকম অনুভব একসময় আমার জন্য ছিলো তোমার! আজ আরেকজনের জন্য তোমার অস্থিরতা। নির্ঘুম রাত কাটাবার গল্প শুনে আমার কান্না পায় না বলো? তুমি তাকে নিয়ে কি কি করছো তা দিব্যি বলে গেলে! আমাকে আবার জিজ্ঞেসও করলে, কেমন হবে? আমি বললাম, আমি জানি না। আমি কোনোদিন তাকে দেখিছিলাম না, শুধু মনে হতে লাগলো আমার কষ্ট হচ্ছে। ভালোবাসো, যখন নিজেই বললে, তখন আমার কষ্টটাকে বুঝতে দেইনি। তোমাকে ছেড়ে চলে গেছি ঠিকই কিন্তু আর কাউকে ভালোবাসতে পারিনি। ভালোবাসা যে যাকে তাকে বিলোবার জিনিস নয়। যাকে নিয়ে এখন প্রজন্ম সৃষ্টির পরিকল্পনা করি সে তো আমার কোনো পরিকল্পনা বোঝে না কাব্য। সে এখনো আমার সেই ছোট্ট অবুঝ মানুষই আছে।

আকাশের সঙ্গে কতো কথা হয় রোজ! কষ্টের কথা, সুখের কথা। একদিন নি:ঝুম নিশুতি রাতে দুজন কথা বলছিলাম। কথার ফাকে ফাকে একটি গান আমি প্রায়শই বলতাম যে আকাশ এতো মেঘলা যেও নাকো একলা………. যেদিন এ গানটা না বলতাম সেদিন খেয়াল করে দেখতাম হয় তুমি বলতে না হয় আমি বলতাম কোনো কিছু বলিনি। কত রঙিন স্বপ্ন ছিলো আমাদের। আবার দু চারটি কষ্টের কথা বলে আমি গুন গুনিয়ে গেয়ে উঠতাম রুদ্র মোহাম্মদ শহীদুল্লার একটি গান “ভালো আছি ভালো থেকো, আকাশের ঠিকানায় চিঠি দিও”। মনে মনে আমি সারাক্ষন তোমার লেখা চিঠি পড়তে চাই। তোমর লেখা চিঠি পড়লে স্বপ্ন জগতে চলে যেতে ইচ্ছা করে। অনেক দিন ইচ্ছে তোমাকে একটা চিঠি লিখি। একটা সময় ছিলো তোমাকে প্রতিদিন চিঠি লিখতাম। কিন্তু কখনো তা পোষ্ট করেতে পারতাম না। জানি না তুমিও লিখতে কিনা। এবার মিরপুরের বাড়িতে বসে আকাশের ঠিকানায় একটি চিছি লিখলাম। তুমি পাবে তো এই চিঠি? জীবন এবং জগতের তৃষ্ণা তো মানুষের কখনো মেটে না, তবু মানুষ আর বাঁচে ক’দিন বলো? দিন তো ফুরোয়। আমার কি দিন ফুরোচ্ছে না? তুমি ভালো থেকো। আমি ভালো নেই।

ইতি,
সাহিত্য

লিখেছেনঃ জিন্নাতুন নেছা