সেলুলয়েডের গল্প

বয় ইন দি স্ট্রাইপড পাজামাস | বইয়ের কথা

বইয়ের নাম: বয় ইন দি স্ট্রাইপড পাজামাস।
লেখক: জন বয়েন
অনুবাদ: সালমান হক
প্রকাশনী: বাতিঘর
পৃষ্টা: ১৪৪
আসল প্রিন্ট মূল্য: ৪৮০ টাকা
মুদ্রিত মূল্য: ১৪০ টাকা।

বইয়ের প্লট:
গল্প শুরু হয় ব্রুনো নামক জার্মানির এক ৯ বছরের শিশুর দৈনন্দিন কাজ ও চিন্তা ভাবনা থেকে। মূলত ব্রুনোর গল্পই এটা। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় জার্মানির বার্লিনে ব্রুনো তার পরিবার নিয়ে বসবাস করতো। ব্রুনোর বাবা সেনাকর্মকর্তা,তার বাবার ওপর সুদৃষ্টি পরে ফিউরির সাহেবের,ফলাফল স্বরূপ তাকে প্রমোশন সহ এমন এক জায়গায় পাঠান যেখানে ব্রুনো ভালোলাগার মত কিছু খুঁজে পায়না। নিজের ঘরের জানালা দিয়ে তাকিয়ে দেখতে পায় কিছু কুঁড়েঘর যা কাঁটাতার দিয়ে আলাদা করা,শিশু বুঝতে পারেনা কারা সেখানে থাকে আর এই জায়গাটাই বা এমন কেন!

ব্রুনো স্বপ্ন দেখে বড় হয়ে সে একজন অভিযাত্রী হবে এবং কলম্বাসের মত খুঁজে বের করবে নতুন এক দেশ। ব্রুনোর এই অভিযাত্রী মন তাকে টেনে নিয়ে যায় সেই নিষিদ্ধ কাটাতারের কাছে। সেখানে সে আবিষ্কার করে তার মতই আর একটি শিশুকে- শুমেল (Shmuel) যার পরনে থাকে স্ট্রাইপড পাজামা এবং টুপি। শুমেল ইহুদী,সে ব্রূনোকে জানায় সে এখানে তার বাবা, দাদা এবং ভাইয়ের সাথে আছে।

শুমেল খুবই অদ্ভুত (ব্রুনোর দৃষ্টিতে),গার একই পোষাক, ভাবলেশহীন চোখ, খাপছাড়া কথা, শুমেলের সবকিছুই ব্রূনোকে আকর্ষন করে এবং ক্রমশ তাদের বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে। ব্রুনো প্রতিদিনই শুমেলের সাথে দেখা করতে চলে আসে, এমনকি ঝড় বৃষ্টি মাথায় করে। মাঝে মধ্যে তার অনুপস্থিতি ব্রুনোকে কষ্ট দেয়। আস্তে আস্তে ব্রুনো কাটাতারের ওপাশের জীবন সম্পর্কে জানতে পারে এবং একসময় বুনোর অনুসন্ধীচ্ছ মন তাকে নিয়ে আসে কাটাতারের ওপাশে। এই গল্পে লেখক ব্রুনোর চোখে ইহুদীদের ওপর নেমে আসা অভিশাপ জীবনকে তুলে ধরেছেন।

গল্পে অনেক অনুভুতি তুলে ধরা হয়েছে যা খুবই মানবিক। দুইজন শিশুর বন্ধুত্বের গল্প।আমি বইটি পরেছিলাম ২০০৯ সালে। শেষ মুহূর্তে চোখের পানি ধরে রাখতে পারিনি।

অনুবাদটি ভালো এবং সুপাঠ্য। আসল বইটিও সহজ ইংরেজিতে। আমার মতে অবশ্যপাঠ্য একটি বই। এছাড়া বই থেকে একটি মুভিও তৈরি করা হয়েছে।

আমার রেটিং : ৪.৮/ ৫