মুক্তধারা

নিঃস্বার্থ স্বর্ণ ভালোবাসা

ভালোবাসা! শব্দটা কি আশ্চর্যজনক কিছু? নাকি আশ্চর্যজনক হয়ে যাচ্ছে। মানবেরা জন্মগ্রহণ করেই ভালোবাসা পেয়ে পেয়েই বেঁচে থাকতে শিখে।প্রথমে মা তারপর বাবা তারপর পরিবার আত্মীয় স্বজন বন্ধু বান্ধব। সময়ের তালে তালে সবার সাথে ভাল মন্দের একটা সম্পর্ক তৈরি হয়।

একসময় স্বামী স্ত্রীর ভালোবাসাও নাকি মানিয়ে চলে শোনা যায়। আজকাল স্বামী স্ত্রীর ভালোবাসা নাকি খুব সহজেই শেষ হয়ে যায়। তা হয় কখনও আলোচনায় কখনও রক্তাক্ত ঘটনায়।

রক্তাক্ত! শব্দটা কি আশ্চর্যজনক কিছু? নাকি এটা নিয়ম হয়ে দাড়িয়ে যাচ্ছে। হয়তো ভালোবাসার পিছে ছুটছে বলে।
হায় হায়।রক্তাক্ত ঘটনায় যদি ভালোবাসার শেষ হয় সমাপ্তি টানার স্বার্থে।এটা কি তবে হাস্যকর নয় বটে।এটা কেমন কথা ভালোবাসা পাওয়ার জন্য নাকি ভালোবাসার সম্পর্ক শেষ করে ভালোবাসার পিছে ছুটে।এটা কি তবে হাস্যকর নয় বটে? বড়ই হাস্যকর বটে।ভালোবাসা শেষ করে ভালোবাসা পেতে চলে!

ভালোবাসা! এটা কি হাসির তবে? মোটেই না।সবটাই মনের ভাবনার কাছে লুকিয়ে।
ঐ কৃষকের বধূ দুপুর গড়িয়ে যখন বাড়ির কাজ সেরে ভাত তরকারি পুটলিতে বেঁধে খাবার নিয়ে কৃষকের জন্য ছুটছে বেশে।সেই খাবার খেতে বসে কৃষক যে তৃপ্তি মনে।সেটা কি ভালোবাসা!

কখনও বা পান্তা খেতে সরিষার তেলে ঝাঁঝে ঝাল ঝাল ভর্তা দিয়ে আর কচকচ করে কাঁচা মরিচ চিবিয়ে খেতে কৃষকের যে তৃপ্তি মনে।সেটা কি ভালোবাসা!
ঐ বধূর স্বামী পেট পুরে খেতে পারল কিনা।ঠিকমত খেতে পারছে তো তার স্বামী।খাওয়ায় ব্যস্ত কৃষকের সামনে বধূ যে তৃপ্তি নয়নে স্বামীর দিকে আলতো নয়ন বুলিয়ে।সেটা কি ভালোবাসা!

ঐ মাঝি যখন বাড়ি ফিরে এসেই বধূকে ডাকে। সেটা কি ভালোবাসা! সেই ডাক শুনে বধূ যখন ছুটে আসে। সেটা কি ভালোবাসা!
মাঝি খাবার খেয়ে যখন বিশ্রামে যায় বধূকে দু একটা গল্প শোনায়। সেটা কি ভালোবাসা!

যখন প্রেমিক প্রেমিকারা তাদের বর্তমান অন্য কাউকে পেয়ে যখন অতীত সঙ্গীকে ভুল মনে করে সঠিক সিদ্ধান্ত নেয়।সেটা কি ভালোবাসা! নাকি লোভলালসা।
যখন অভাবী স্বামীকে ছেড়ে অভাবের তাড়নায় অন্য লোকের হাত ধরে অজানার উদ্দেশ্যে পাড়ি দেয়।সেটা কি ভালোবাসা! নাকি লোভলালসা।
নাকি ভালোবাসার বড়ই অভাব।নাকি মানবের ছোটাছুটিটা একটু বেশিই বেড়ে গেছে।হয়তো লোভলালসা বেড়ে গেছে।হায়তো মনের শত্রু অসন্তুষ্টকে আকড়ে ধরেছে।
অসন্তুষ্ট! এটাকে কি সবাই বন্ধু মনে করে! তাইতো কি একে সবাই আকড়ে ধরে।

বাবা মা যখন সাধ্য অনুযায়ী সন্তানের চাওয়া পাওয়া পূরণ করে এতে সন্তান যদি ভুলে মনে করে তাদের চেষ্টায় ত্রুটি ছিল তখন তার কি অসন্তুষ্টি। সন্তান কি বিশ্বাস করে না বাবা মা তাদের সাধ্য অনুযায়ী চাওয়া পাওয়া পূরণ করার চেষ্টা করেন।
নাকি বিশ্বাসের অভাবেই তৈরি হয় লোভলালসা। তাইতো সন্তুষ্ট থেকে হয় বঞ্চিত।
সন্তুষ্ট! এটাকে কি সবাই অসম্ভব মনে করে? নাকি তা বিলুপ্তির পথে।
সন্তান যখন মা কে মা মা বলে ডাকে এতে মায়ের মনে যে তুষ্টি তা তো অবশ্যই সন্তুষ্টি। এটা কি তবে ভালোবাসা! অবশ্যই ভালোবাসা।নিঃসন্দেহে ভালোবাসা।

বিশ্বাস! এটাও কি তবে বিলুপ্তির পথে? তবে পৃথিবী দেখে হয়ত বলা যায় বিলুপ্তি পুরোটা হয় নি।তাইতো পৃথিবী এখনও এত সুন্দর।
তাইতো ঐ কৃষকের মুখে এখনও আছে ঐ তৃপ্তির হাসি।তাইতো ঐ বধূও আছে তার সঙ্গী ছায়ায়।
হয়ত কোথাও কোথাও হচ্ছে সে এক ভয়ংকর রক্তাক্ত ভালোবাসা শেষ করার নেশায় নতুন করে ভালোবাসা পাবার আশায়। তারা যদিও পৃথিবীটা অভিশাপ দিয়ে ভরিয়ে তোলে।

কিন্তু কিছু কিছু ভালোবাসার ছোয়ায় সেই অভিশাপ ঢাকা পরে যায় যে।ভালোবাসা ছোয়ার সৌন্দর্যে তখন পৃথিবী এক বিশ্বাস নিয়ে পথ চলে।
ভুলে যদি যায় ভালোবাসারা ভালোবাসার কথা রাখা।তবে নিঃস্বার্থ স্বর্ণ ভালোবাসারা শিখিয়ে দিবে কিভাবে রক্ষা করতে হয় ভালোবাসা।

লিখেছেনঃ জিলফিকা বেগম জুঁই