'ও ডাক্তার'

এবরশন

এবরশন শব্দটা জানেন তো ? ‘ইনডিউজড এবরশন’ নিয়ে বলবো। বাংলায় গর্ভপাত। দুটোই ভারী শব্দ।
সে কে না জানে। নিদারুণ সুবিধাবাদী একটা নিষ্ঠুর সমাজের আমরা আমরাই তো। স্বার্থপর, ভোগবাদী। আমিসর্বস্ব। সেখানে আমরা যার যার সুবিধামতো অধিকার শব্দটি ছাঁচে ফেলে তৈরি করি নতুন নতুন জীবনদর্শন। ক্ষমতাশীলের ব্যর্থতা ভারী কম। আমরা এবরশন জানবোনা,তা তো হয়না।

যা বলছিলাম, ভারী শব্দসমূহ। সম্ভবতঃ ততটা ভার শরীরে বোধ করিনা কিন্তু মনে বড়ো বেশি ভারী লাগে বলেই আমাদের সমাজে (এবং সারা পৃথিবীতে) এবরশনের সংখ্যা এতো বেশি। প্রতি দশটা প্রেগনেন্সির চারটা হয় ইনডিউজড এবরশন। কি মনে হয় বলুনতো? কম?

পৃথিবীর সর্বোচ্চ সংখ্যক এবরশনগুলো করা হয় প্রথমত তিনমাসের মধ্যে। মনে করা হয় সেসময় কিছুই হয়নি। প্রেগনেন্সি কে সহজভাবে আমরা নয়মাস বলেই জানিতো। একে তিনমাস করে বিভিন্ন পর্যায়ে ভাগ করি। সপ্তাহের বিভাজন আরেকটু সহায়ক বুঝতে আপনি কি ভয়ানক একটা ভুল করে বসেছেন, করছেন, করতে যাচ্ছেন।

সহজে বলি- প্রতিমাসে আপনার শরীরে ডিম তৈরি হয়ে রিলিজ হয় চমৎকার সাইক্লিক্যাল প্রসেসের মাধ্যমে। একে আমরা ওভুলেশন বলি। যে ডিমটি নিষিক্ত হতে পারলোনা,সেটি পরে ডিজেনারেট করে বা মেনস্ট্রুয়াল শেডিং এর সময় বেরিয়ে যায়। জাস্ট নষ্ট হয়ে যায়। যেটা ফার্টিলাইজড হয়, সেটিই শিশু নামের এক আশ্চর্য্য উপহার আপনার জন্য তৈরি করতে শুরু করে দেয়! বলতে গেলে নিষিক্ত হবার বারো থেকে চব্বিশ ঘন্টার মধ্যে শুরু হয়ে যায় এই অাজব কারিগরি। অভাবনীয় !

তো যাক, এইবার আসেন, এরপর আপনি হঠাৎ জানলেন আপনি প্রেগনেন্ট। ভাবলেন সমস্যা,ভাবলেন এখনই কি দরকার,ভাবলেন না,ব্যস চললেন এবরশনের দুর্গম পথে।

আপনি আসলে কি করলেন জানেন? হত্যা। ভ্রুণ ট্রুণ শব্দগুলো ভুলে যান। এগুলো আপনার ইমোশনকে ব্লক করবার জন্য চতুর শব্দবিশেষ। আপনি সত্যিই হত্যা করেছেন আপনার শিশুটিকে।

শুধু আপনি যখন জানলেন আপনি প্রেগনেন্ট, ততদিনেই আপনার বাচ্চাটির হার্ট ধুকধুক, ধুকধুক, ধুকধুক ….
পাঁচ সপ্তাহে একটা বাচ্চার হার্ট একটিভ হয়ে যায়।

মনে করিয়ে দিই, আগের মেনস্ট্রুয়েশনের পর এইবার চার সপ্তাহ পর আপনার নেক্সট মেনস্ট্রুয়েশন হবার কথা। হলোনা। কয়েকদিন অপেক্ষা করে টেস্ট করলেন এন্ড ইটস পজিটিভ। সামটাইমস ইটস পজিটিভ আ লিটল লেইট, আরো একসপ্তাহের পর হয়তো। ততদিনে,মানে,ছয় সপ্তাহে ব্রেইন ডেভেলপমেন্টও শুরু হয়ে গিয়েছে।

সেই হার্ট আপনি নিজের হাতে নৃশংসভাবে বন্ধ করে দিয়েছেন। সেই ব্রেইন আপনি দলিত মথিত করে দিয়েছেন। আপনি না বুঝে না জেনে মেরে ফেলেছেন আপনার অদেখা সন্তানকে, আপনার সোনামণিটিকে।

আপনি মেরে ফেললেন একটা প্রাণ, যে কিনা শুধু যে আপনারই অংশ,তা নয়,একইসঙ্গে যে কিনা আপনাকে পৃথিবীতে সবচে বড়ো রক্ষাকর্তার ভূমিকায় ছাড়া অন্য কিছু হিসেবে জানার কথা ছিলোনা। তাকে যদি দেখতেন পারতেন? তাই বুঝুন এবং আরেকবার ভাবুন।

আপনার সাধ্য কথাটা খুব হাস্যকর। হু আর ইউ? যিনি দেন তিনিই প্রতিপালক। আপনি উপলক্ষ্য মাত্র। দায়িত্বপ্রাপ্ত শুধু। কেন তবে বিরুদ্ধে যাবেন নিজের এবং তাঁর। আপনি শুধু সিদ্ধান্তে ক্ষমতাবান বলেই অসহায় শিশুকে মরে যেতে হবে?

আপাতত আমার এইটুকুই কাজ। এই লেখায় আমি শুধু তাদের সাবধান করতে চেয়েছি,বলতে চেয়েছি,জানাতে চেয়েছি,যারা না জেনে এরকম একটা ভয়ানক হত্যাযজ্ঞে সামিল হয়ে থাকেন। যদিও এরকম অনেক পাষণ্ড অমানুষই আছেন যারা কিনা পাঁচমাসের পূর্ণগঠিত শিশুকে এবর্ট করে আবার সাত বা আটমাসের পৃথিবীর বুকে হেসেখেলে বেঁচে থাকার যোগ্যতাসম্পন্ন,পূর্ণ তৈরি শিশুকে বার্থপ্রসেসের সময় বা বার্থ দিয়েই হত্যা করে,ছুঁড়ে ফেলে ডাস্টবিনে। কিন্তু আমি তাদের কথা বলছিনা।

আমি বলছি তাদের কথা,যারা জানেননা,নিজের অজান্তেই যারা হয়ে যান সন্তান হন্তারক, প্রাণঘাতক। আবার বলি মনে রাখবেন, আপনি জানতে জানতেই আপনার শিশুর হৃদপিণ্ড একটিভ হয়ে যায়,এবং প্রায়ই ব্রেইনও। সে তখন বুকে ব্যথা পায় কিনা জানিনা, সে তখন মস্তিষ্কের অলিগলিতে বিস্ময়ে জন্মদাত্রী /দাতা হন্তারক, এই বার্তাটি জেনে কষ্টে ডুবে যায় কিনা, আমি জানিনা কিছুই…

আমি শুধু অনুরোধ করতে পারি এইযে, Please stop killing your baby। এবরশন মানেই হত্যা। Say no to abortion.

কানপেতে শুনুন আপনার শিশুর বুক ধুকপুক, আপনার /আপনাদেরই শোনার কথা। রাখুন হৃদয়ে হৃদয়। শুনুন আপনার শিশুর আর্তনাদ, শুনুন,
সে ডাকে: Please don’t let me die.মা, বাবা, আমাকে বাঁচাও।