'ও ডাক্তার'

লাভ অবসেশন | ডাক্তারের পরামর্শ

যখন কোন ব্যক্তি বিপরীত লিঙ্গের কারো প্রতি এত তীব্র আকর্ষণ বোধ করে যে সারাক্ষণ শুধু তাকে নিয়েই ব্যস্ত থাকে এবং তার উপেক্ষা,অবহেলা বা ত্যাগ করে চলে যাওয়ার প্রতি তীব্র প্রতিক্রিয়াশীল হয় যদিও সে উপলদ্ধি করতে পারে যে ব্যাপারটা বাড়াবাড়ি হয়ে যাচ্ছে কিন্তু সে বিষয়ের উপর তার কোন নিয়ন্ত্রণ থাকেনা,তখন তাকে লাভ অবসেশন বা প্রেম রোগ বলে। যদিও এটাকে লাভ অবসেশন বা প্রেম রোগ বলা হচ্ছে কিন্তু আসলে এখানে প্রেমের কোন অস্তিত্ব থাকে না;এটা মূলতঃ একটা আকর্ষণজনিত সমস্যা।

লাভ অবসেশন এর পর্যায়ক্রমিক ৪টি ধাপ রয়েছে। এগুলো হলোঃ-

১।আকর্ষণ পর্যায়

– সাক্ষাতের কয়েক মিনিটের মধ্যেই কারো প্রতি রোমান্টিক আকর্ষণ অনুভব করা।

– সময় নিয়ে ভাবনা-চিন্তা না করে তাড়াহুড়ো করে প্রেমে জড়ানোর উন্মাদনা।

– পছন্দের মানুষটি তার ব্যক্তিগত,পারিবারিক,সামাজিক ও ধর্মীয় বিবেচনায় উপযুক্ত কিনা তা বিবেচনা না করা।

– তাকে আকৃষ্ট করার জন্য অতিরিক্ত গিফট দেওয়া,ব্যক্তিগত বিষয়ে খোঁজখবর নেওয়া,এক দৃষ্টিতে তার দিকে তাকিয়ে থাকা।

২।অস্থিরতা পর্যায়

– বিপরীত লিঙ্গের কারো সাথে ভালবাসার মানুষটির মেলামেশা সহ্য করতে পারেনা।

– সারাদিন সে কী করে ,কার সাথে কথা বলে,কোথায় যায় সে ব্যাপারে খোঁজখবর ও খবরদারি আরম্ভ করে।

– সবসময় চোখে চোখে রাখতে চেষ্টা করে।সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখার চেষ্টা করে।

-ভালবাসার মানুষটিকে সবার সাথে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রাখতে মরিয়া হয়ে উঠে।

– তার উপর মানসিক ও শারীরিক নির্যাতনও শুরু করতে পারে(যেমন চড় মারা,গালিগালাজ করা,নোংরা কথা বলা,খোঁচা দিয়ে কথা বলা….)।

– নিজের উপরও সে নির্যাতন শুরু করে,যেমন-ব্লেড দিয়ে কেটে ভালবাসার মানুষটির নাম নিজ হাতে লেখা।

৩।অবসেসিভ পর্যায়

– পরিবার-পরিজন,বন্ধু-বান্ধব ও শুভানুধ্যায়ীদের আদেশ-নিষেধ বা পরামর্শ কোন কিছুই তাকে এ পথ থেকে ফেরাতে পারে না।

– পড়াশোনা বা চাকুরী-ব্যবসা লাটে উঠে।

– ভালবাসার মানুষটি তাকে পাত্তা দিচ্ছেনা,অন্য কারো সাথে প্রেম করছে কিংবা তার সাথে প্রতারণা করেছে এরুপ ভাবনা থেকে ভালবাসার পরিবর্তে তার প্রতি ঘৃণা জন্মাতে শুরু করে।

– গোয়েন্দাগিরির মাত্রাও তীব্র আকার ধারণ করে।

– এক পর্যায়ে সে এই তীব্র মানসিক যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পেতে সম্পর্ক ভাঙ্গার চেষ্টা করে কিন্তু অধিকাংশ ক্ষেত্রে রোগ তাকে মুক্ত হতে দেয়না।

– যতই সে তাকে ভুলে থাকার চেষ্টা করে ততবেশী করে তার কথা মনে পড়ে যায়।

৪।ধ্বংসাত্মক পর্যায়

– আক্রান্ত ব্যক্তি তীব্র মাত্রার বিষন্নতায় ভুগতে শুরু করে।

– আত্মমর্যাদা কমে যায়।সম্পর্কের পূর্বাবস্থায় ফিরে যাওয়ার জন্য ব্যাকুল হয়ে উঠে।ভালোবাসার মানুষটিকে অনুরোধ করা,হাতে-পায়ে ধরা,“আমি তোমাকে ছাড়া বাঁচব না” এ জাতীয় কথা বলা। “আমি তোমাকে আর কোনদিন কষ্টদেবনা”, “আমি আর আগের মত নেই,অনেক পাল্টে গেছি”,“তুমি যেমন চাও আমি সেভাবেই চলব” ইত্যাদি কথা বলে তাকে সম্পর্কে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করা।

– নিজেকে তুচ্ছ মনে করা,বার বার ভাগ্য বা নিজেকে দায়ী করা।

– ঘৃণা ও প্রতিশোধপরায়ণতা তীব্র আকার ধারণ করে।“আমি তোমাকে না পেলে অন্য কারোর হতেও দেবনা”-এ প্রতিজ্ঞা বাস্তবায়নে ঝাঁপিয়ে পড়ে।

– ভালোবাসার মানুষটিকে অপহরণ,এসিড নিক্ষেপ বা প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া,তার পরিবারকে ভয়ভীতি দেখানো,বিয়ে ভেঙ্গে দেওয়া,তার চরিত্র নিয়ে খারাপ কথা রটানো,অন্তরঙ্গ মুহূর্তের কথা,চিঠি বা ছবি প্রকাশ করা বা তা দিয়ে ব্ল্যাকমেলিংয়ের চেষ্টা করা ইত্যাদি।

– ঘুমের ঔষধ খাওয়া,নেশা করা,অপরাধমূলক কাজ করতে গিয়ে জেলে যাওয়ার মত ঘটনাও ঘটতে পারে।

– এ পর্যায়ের সবচেয়ে খারাপ বৈশিষ্ট্যটি হলো “মারো,না হয় মরো” টাইপের চিন্তা।ভালোবাসাজনিত খুন বা আত্মহত্যা বা এগেুলোর চেষ্টা করা এ পর্যায়েই ঘটে থাকে।

কোথায় চিকিৎসা পাবেন?
জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট,শ্যামলী,ঢাকা;বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল ইউ. হাসপাতাল(পিজি হাসপাতাল)-এর মানসিক রোগ বিভাগে;সকল মেডিকেল কলেজের মানসিক রোগ বিভাগে।এছাড়াও মনোরোগ বিশেষজ্ঞদের ব্যক্তিগত চেম্বারে আপনি এ চিকিৎসা পাবেন।

সূত্রঃ “Confusing Love with Obsession” by John D.Moore