হুতুমপেঁচা বলছি

শাওন ডুব ফারুকী এবং আমরা

আমরা খুবই অদ্ভুত একটি জাতি,শুধু অদ্ভুত না আমরা আসলে খুবই মারাত্মক ভাবে হিপোক্রিয়েট জাতি। না প্লিজ অবাক হবেন না গালাগালি করে শুরু করতে হচ্ছে তাই। ডুব একটা সিনেমা,মেনেই নিলাম এখানে হুমায়ন আহমেদ কে নিয়ে বা তাঁর জীবনের একটি অংশ কে নিয়ে ফারুকী সাহেব একটা মুভি বানিয়েছে। ব্যক্তিগত মতামতে ফারুকী সাহেবের সিনেমা এবং নাটক আমার কাছে অত্যন্ত কুরুচিপুর্ন সব সময় মনে হয়েছে। কিন্তু আজ আমি তাঁর সমালোচনা করে আবার তাকে লাইম লাইটে আনতে চাই না উনি যা করেছেন বা করছেন হয়ত ভাল আমি বুঝতে পারছি না এবং বুঝতেও চাই না। কিন্তু ডুব আসার পর থেকেই কেন শাওনের ব্যক্তিগত জীবনকে এভাবে পিং পং বলের মত ছোড়া হচ্ছে? তাই ফারুকী সাহেবের এই বিষয়ে একটু দেখা উচিত বলেই মনে করছি।
আসল টপিকসে এসে যাই আমি একটা ইউটিউব ভিডিও দেখলাম যেখানে শাওন বলেছেন “ আমি বান্ধবীর বাবা কে বিয়ে করিনি, শিলা আমার বন্ধুর মেয়ে” – ব্যস এই একটা লাইনের উপরে সব্বাই মিলে যে নোংরামিটা দেখিয়েছেন এবং যারা দেখিয়েছেন তাদের কে আসলে কিছু বলার আছে আমার। আপনাদের মধ্যে কেও আসিফ নজরুল কে নিয়ে বলেন না কেন? কেন শাওন? আর শাওন কে নিয়ে বললে কেন শিলা আহমেদ কে নিয়ে বলা হচ্ছে না? উনি কিভাবে পারলেন আসিফ নজরুল বিবাহিত হবার পরেও বিয়ে করতে?
এর থেকেও বড় কথা যারা জাহান্নামী মেয়ে বলে আক্ষায়িত করছেন আরো অনেক গালিগালাজ করছেন আপনারা এতটা ফেরেশতা কেন? কিভাবে পারলেন আপনারা এরকম ফেরেশতা হতে? আপনাদের মধ্যে তো অনেকেই আছে যে অন্যর গার্লফ্রেন্ডকে ভাগায় নিয়েছেন সে সুন্দর বলে আবার অন্যলোকের বউকে বিকৃত মেসেজ দিয়েছেন বা হাসিমুখে করেছেন অনৈতিক জোকস “ভাবিতো বেশ ঠাসা পরক্রিয়া করলে আমারে দেইখেন” –এরকম উক্তি তো করেই যাচ্ছেন এই উক্তি কি আপনার পুরুষত্ব প্রকাশ করে? আবার অনেক মেয়েও তো অনৈতিক সম্পর্কে আছেন তারা জানেন না কিভাবে এই সব সম্পর্কে হয়? আমরা কমবেশি সব্বাই অনৈতিক সম্পর্কে থাকি এরমানে এই না যে আমাদেরকে এখন কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হবে আমাদের অনুভূতির বিশ্লেষণের জন্য। আর যদি দাঁড়াতেই হয় একা শাওন কেন? আরো অন্যদেরকেও দাঁড়াতে হবে। দাঁড়াতে হবে সেই সকল মেয়ে এবং পুরুষদের যারা একটি রিলেশনে থেকে অনেক বহুগামিতা করেন যারা অন্যর ভালবাসাকে নিকৃষ্ট প্রমাণ করে নিজেকে সাধু সাজায় অন্যদিকে নিজের ভালবাসার মানুষের সাথে “লিটনের ফ্ল্যাট” খুঁজেন। একা শাওনকে কেন দাঁড়াতে হবে?
একবারের জন্যেও কি ভেবে দেখেছেন শাওনের পক্ষে কি সম্ভব ছিলা একা একা এই সম্পর্কে আসা? সম্ভব কি ছিল ৪ সন্তানের বাবাকে নিজের দিকে শুধু শারীরিক প্রয়োজনে ভুলিয়ে নিয়ে আসা? এই সম্পর্ক তো শারীরিক থেকেও বেশি ছিল মানসিক। হুমায়ন আহমেদ চেয়েছিলেন একটি মানসিক আশ্রয় আর শাওন চেয়েছিল ভালবাসার মানুষের সাথে সংসার। এমন ভাবে এই জিনিষকে নোংরা করার কোন মানে আমি দেখি না যেখানে প্রেমটাই অনৈতিক সেখানে তো তারা শেষ পর্যন্ত বিয়ে করে নিজেদের ভালবাসাকে একটা নাম দিয়েছে। কিন্তু এই পরচর্চা কারিদের অনেকেই তো আছেন যাদের প্রেম শুধু বিছানার উষ্ণতার মধ্যে গিয়ে হারিয়ে গেছে আর কোন পরিণতি পায় নাই। কিন্তু শাওন তো তাঁর জীবনের কিছু অংশ ভালবাসায় কাটাতে পেরেছে। আর যারা এসবের মধ্যে ধর্ম নিয়ে আসেন তারা নিশ্চয় এই হাদিস জানেন “অন্যর সম্পর্কে গীবত করা আর নিজের ভাইয়ের গোস্ত খাওয়া একই রকম”।
পরিশেষে একটা কথায় বলতে চাই আমরা বিচার করার কেও না তাই কাওকে বিচার করতে যাবেন না। বিচার করতে হলে আগে নিজেকে বিচার করেন। আমরা এমন কোন বিচারকের কাছে যাই না যে নিজেও সেই একই অপরাধে অপরাধী। আর সকল সম্পর্ক শুধুমাত্র শারীরিক প্রয়োজনে হয় না, বাচ্চার মা হলেও তাঁর সাথে মানসিক মিল না থাকলে সে সম্পর্কে কোন শান্তি থাকে না। বিছানার উত্তাপ দিয়ে হৃদয়ের উত্তাপ মিটানো যায় না, হৃদয়ের উত্তাপ তাঁর কাছে এসেই মিলে যার সাথে প্রতিটা মুহুর্তে বেঁচে থাকতে ইচ্ছা হয়। যার শীতল চোখেও ঘর বাধার স্বপ্ন থাকে। অন্যকে অসম্মান করার আগে নিজেকে ভালবাসুন নিজেকে যত্ন নিন কারণ অন্যর দিকে এক আঙ্গুল তুললে বাকি চার আঙ্গুল নিজের দিকে থেকে যায়।

হুতুমপেঁচা বলছি……