মুক্তধারা

প্রকৃতি দেখতে বাঁধা

প্রকৃতি দেখতে বাঁধা
লিখেছেনঃ জিলফিকা বেগম জুঁই

জীবনের প্রয়োজনে অচেনা এই শহরে
এসেছি চলে।
ব্যস্ত রুটিনে খাওয়া দাওয়া, ঘুম,পড়াশুনা
সবি চলে এই নিত্য জীবনে।
কথা, হাসি, আড্ডা
মাঝে মাঝে সিনেমা গান বিনোদন
সবি চলে এই আমার আপন ভুবনে।
কিন্তু প্রকৃতির সাথে দেখা কথা
হয়না কোন সময়ে।
ঘর থেকে যদি চাই
আমি দেখিতে,
পারি না পারি না কিছুতেই পারি না
শত শত বাঁধা যে।
শোবার বিছানার পাশে
জানালার ধারে,
দেখিতাম মন আপন ভরে,
আকাশের পানে রাতের আঁধারে
চাঁদের আলোতে মিটিমিটি হাসিতে
সুখের ঘুম পারিতে।
কিন্তু কোন একদিন জানালা
লাগাতে গেছিলাম ভুলে,
সকালে ঘুম থেকে দেখি উঠে,
চোর মোবাইল নিয়ে গেছে।
পরে ভাবিলাম পাশের জানালা
দিয়ে দেখিবো আকাশ,
চাঁদ, তারা আরো বিকেলের মিষ্টি আকাশকে।
কিন্তু কি করিবো
এখানেও যে বাঁধা।
অজান্তে দেখি অন্য পাশের ফ্লাটে
চোখাচোখি হয় যে।
ব্যাপারটা কেমন যেন বিরক্তিকর।
পরে ভাবি বারান্দার জানালা
দিয়ে প্রকৃতি কিছু কিছু তো
দেখিতে পাবো।
কিন্তু একি হায়!
এক ফ্লাটের স্ত্রী
আমাকে সন্দেহের দৃষ্টিতে
দেখে যে।
হয়তো ভাবে জানালার কাছে
দাড়িয়ে থাকার মতলব আছে নাকি।
আমি নিজেই মেয়ে তাই
অতি সহজেই নিজের অজান্তে
মেয়েটির দিকে চোখ যেতেই
ব্যাপারটা বুঝতে
পারি যে।
কি আর করিবো
অবশেষে ছাদে যাব
ভাবিলাম।
কিন্তু বাড়ির মালিক ছাদে যাওয়া
সহজ ভাবে নিবে না জেনে
ছাদে যাওয়া আর হল না।
তাই প্রকৃতির সাথে দেখা আমার
খুব কমই মেলে।
এই ছোট্ট ছোট্ট সমস্যাগুলো
পরোয়া না করিলে,
হয়তো প্রকৃতির সাথে
দেখা মিলিত।
কিন্তু মেয়েদেরকে বিশেষ
করে জানালায় অহেতুক
দাড়িয়ে থাকিলে বলি, বাইরের দৃষ্টিতে
বিশেষ কিছু নিয়ম ভঙ্গ হয় যে।
শেষে মালিকের কাছে আসিবে
সমস্যা বলে কত কথা।
আপনার বাসার মেয়েটা
প্রায় জানালায় দাড়িয়ে
থাকে কেন?
আরো কত কত কথা
এটা মনে হয় আর বলার
প্রয়োজন নাই।

(হুতুমপেঁচা শুধুমাত্র মেয়েদের ম্যাগাজিন। আমাদের কাছে লেখা পাঠাতে হলে আপনার লেখা এবং ছবি আমাদের ফেইসবুক পেইজ হুতুমপেঁচা ম্যাগাজিন ইনবক্স করুন।  এছাড়াও লেখা সংক্রান্ত আপনার মূল্যবান মতামত এবং পরামর্শ আমাদেরকে কমেন্ট করে জানান। হুতুমপেঁচা-র সাথেই থাকুন।)