মুক্তধারা

কিছু কিছু শিকড়ের কথা

কথাটা যে কিভাবে শুরু করব বুঝতে পারছি না। নানান কথা মাথায় ঘুরপাক খাচ্ছে। আমি জানি কথাগুলো সবাই জানে। কেউ হয়তো খেয়াল করেছে বা কেউ করেনি। আবার কেউ সমাধান করতে পারে বা কেউ কেউ সমস্যায় আছে।হতেই পারে খুব স্বাভাবিক ব্যাপার। বেশি কথা না বলে এবার কথাটা বলি।
এক ছেলে ক্লাস ফাইভে পড়ে।সে খেলাধুলা,পড়াশুনা,বাবা মা র ভালোবাসা শাসন,পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের সাথে চলাফেরা বিভিন্ন নিয়মকানুন ইত্যাদি ইত্যাদির মাধ্যমে সে পরিপূর্ণ ভাবে বড় হবে এটাই স্বাভাবিক।
কিন্তু লক্ষ্য করলাম ছেলের মা কথায় কথায় ছলে বলে কৌশলে বিভিন্ন গল্পের মাধ্যমে সন্তানকে এমন সব গল্প বলেন। যেমন অমুক ছেলের বউ এমন করেছে, টমুক ছেলের বউ অমন করেছে।যার অর্থ ছেলের বউরা ভাল হয় না। তাদের শাসনে রাখতে হয়।যত শাসন তত ঠিক।এখনকার মেয়েরা বলে কথা। তাদের কথা শুনলে তারা মাথায় উঠবে।এই ধরনের সব কথাবার্তা।
সেই মায়ের গল্পের উদ্দেশ্য থাকে ছেলে যেন কোনদিন হাতছাড়া না হয়। ছেলের বউ যেন কোনদিন তার ভবিষ্যত কেড়ে নিতে না পারে।
সেই মায়ের জ্ঞানে তার( ভাষ্যমতে) জমিজমা,টাকা পয়সা,স্বামীর অধিকার,ভবিষ্যত কোনটাই তার ঠিক নেই। তাই তিনি এই অভিনব কৌশল চালিয়ে যাচ্ছেন ছেলেকে বশ করতে। ধিক্কার জানাই এইসব মা কে।
সেই মা এস. এস. সি পাশ। খুব কাছ থেকে আমার এই ঘটনা দেখা।সাধারণত এই ছেলে বড় হয়ে নারী জাতিকে অসন্মান করতে শিখবে। পারিবারিক অশান্তি সৃষ্টি হবে। জটিল আকার ধারণ করলে শেষে ছেলেটির দোষ হবে।যার থেকে সবার আগে আমরা ছেলেদেরকে সাধারণত দোষ দেই। এইসব ছেলেকে কখনও কখনও আইনের ঝামেলায় পরতে হয়। অবশেষে ফলাফল বিশৃঙ্খলা।
ঠিক এই ধরনের কৌশলের কাছাকাছি কিছু মা বোনদের এই কথাগুলো ব্যবহার করতে দেখেছি। ছেলে বা ভাইকে এইসব উল্টাপাল্টা শিক্ষা দেয়। যার থেকে ফলাফল বিশৃঙ্খলা।
বিশৃঙ্খলার কিছু কিছু শিকড় লক্ষ্য করা আমাদের উচিত।সেই মা না হয় এস. এস. সি পাশ। আর বাকি যাদের এইসব ঘটনা দেখেছি তাদের দুইজন এম. এ পাশ, একজন শুধু নিজের নাম লিখতে পারে,একজন ডিগ্রী পাশ আর একজন ক্লাস টেন পর্যন্ত পড়েছেন।
একটা ব্যাপার লক্ষ্যণীয় এদের কেউ আত্মনির্ভরশীল না।তারপরও এই সমস্যা তৈরির পেছনে তাদের উদ্দেশ্য তারা নিজেরাই ভালো জানেন।
এখানে কেউ বেশি লেখাপড়া, কেউ কম লেখাপড়া করেছেন।কিন্তু সমস্যাটা একই।
খুজে খুজে আমি আমার এই ছোট্ট গন্ডিতে দেখেছি এক মা ক্লাস ফাইভ পাশ আর এক বোন এম. এ পাশ।তারা তাদের ছেলে বা ভাইকে এইসব উল্টাপাল্টা কথা বলে না।আমি আমার জীবনে এখন পর্যন্ত এই দুইজনকে দেখেছি।বিশ্বাস করি পৃথিবীতে অনেক ভালো মা বোন আছে। আর পৃথিবীতে ভালোমন্দ থাকবে এটাই স্বাভাবিক।তবে সমাধানের জন্য আমাদের সমস্যা লক্ষ্য করা উচিত।
কিছুটা স্বস্তি,কিছুটা শান্তির জন্য আমাদের প্রত্যেকের দায়িত্ববোধ থাকা উচিত। বিশৃঙ্খলার প্রতি বেখেয়াল হলে দেখবেন একদিন আপনি নিজেই বিশৃঙ্খলা শিকার হয়ে গেছেন। অতএব সময় থাকতে সাবধান।
হয়তো অনেকে বলবেন কিছু কিছু মায়েরা তাদের মেয়েকে সংসারে অশান্তি করতে শেখায় কেন? হ্যা এমনও দেখেছি মা মেয়েদের সংসারে অশান্তি করতে শেখায়। কিন্তু ফলাফল ঐ একই বিশৃঙ্খলার শিকার।
নেগেটিভ চিন্তা নিয়ে চললে বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হবে এটাই স্বাভাবিক।গৃহযুদ্ধ লাগলে কি হয়? জোট শক্তি ক্রমশই কমে যায়।সত্যিকারের ভাল আর থাকা হয় না।
এখন কথা হচ্ছে,যে এই বিষয়টা নিয়ে সমাধানের পথ দেখাতে চায় তার দিকে নেগেটিভ মন্তব্য না ছুড়ে বরং বিষয়টা নিয়ে সমাধানের ভাবনা ভাবা উচিত। কিন্তু আমরা তা করি না।
একটি পরিবার মিলেমিশে নৈতিক চিন্তা নিয়ে সমস্যাগুলো সামলে নিয়ে চললে অনেক ভাল হয় পরিবারের প্রত্যেক সদস্যের জন্য।
কিন্তু আমরা তা না করে নৈতিক চিন্তা শব্দটা নিয়ে হাসাহাসি করি বা যে বলে সে সবার কাছে হাসির পাত্র হয়ে যায়। আর কত কথায় না ছোড়াছুড়ি হয়।
আমাদের বোঝা দরকার অনেক ছোট ছোট সমস্যা থেকেই বড় বড় সমস্যার সৃষ্টি।

লিখেছেনঃ জিলফিকা বেগম জুঁই

(হুতুমপেঁচা শুধুমাত্র মেয়েদের ম্যাগাজিন, আমাদের কাছে লেখা পাঠাতে হলে আপনার লেখা এবং ছবি আমাদের ফেইসবুক পেইজ হুতুমপেঁচা ম্যাগাজিন ইনবক্স করুন, এছাড়াও লেখা সংক্রান্ত আপনার মূল্যবান মতামত এবং পরামর্শ আমাদেরকে কমেন্ট করে জানান। হুতুমপেঁচা-র সাথেই থাকুন।)