অনুরণন

ভৌতিক গল্পের সিরিজঃ অশরীরী (পর্ব- ৩)

এরপর অনেক গুলো বছর পেরিয়ে গেলো।অনেক দিন তার কনো দেখা নাই। যদি ও সে আমার সামনে আসা মানেই বিপদ। যে কনো ধরনের দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে। কিন্তু,কেনো যানি আমি চাইতাম সে আশুক। আজো জানিনা কি তার কারন। কি হাস্যকর বলুন তো? কোথায় আমার ভয় পাবার কথা,তা না করে… বরং আমি তাকে সাদর সম্ভাশন জানাচ্ছি। যাইহোক তার সাথে আমার তৃতীয় বারের মতো এবং এখন পর্যন্ত শেষ বারের মতো দেখা হয় যখন আমি সাউথ কোরিয়াতে তখন। কোরিয়া যাওয়ার ঠিক মাস দুই পরের কথা।
সকাল হয়েছে অনেক আগেই, বরাবরের মতো শুয়ে গড়াগড়ি খাচ্ছিলাম।ঠান্ডা পরছে খুব মাইনাস আট (-৮) চলছে তখন।যখানে আমার সোনার বাংলার ঢাকাতে এখন শীতের দেখাই মেলেনা। সেখানে (-৮) আমার জন্য তো সেই রকম বেপার সেপার। শুয়ে নিজের দেশের কথা ভাবছিলা। ভাবছিলাম কিছু আপন এবং পর মানুষের কথা। কিছু সুখের এবং কিছু দুঃখের স্মৃতিরর কথা। হঠাৎ মনে হলো মা বুঝি আমার পাশে খাটের ওপর এসে বসেছে। মা আমার রুমে আসলে টের পাই। এইবার টের পেলাম না তবে কেউ একজন আমার খাটের ওপর এসে বসেছে তা ঠিক বুঝতে পারলাম।কারন,যখন একই খাটে দুইজন থাকে একজন নড়লে আরেক জন অবশ্যই টের পায়। আমি দেয়াল এর দিকে মুখ করে শুয়ে ছিলাম। পায়ের দিকে বেলকনির দরজা আর মাথার দিকে ডাইনিং এর দরজা।তার পিঠ ছিলো বালকনির দিকে,বুঝতে পারলাম ঔ দিক দিয়েই আসছে। আস্তে, আস্তে ঘরটা কেমন বিদঘুটে একটা গন্ধে ভরে যাচ্ছিলো,নরার চেষ্টা করেও লাভ হলোনা। কোমর এর উপর মনে হলো ১মন ওজন এর কিছু রাখা হইছে হাড্ডি মনেহয় এখনই গুড়া হয়ে যাবে। সেটা আর কিছুনা তার হাত। গন্ধটা তিব্র থেকে তিব্র হচ্ছিলো,বুঝার বাকি রইলোনা সে কাছে আসতেছে। ও আল্লাহ আমাকে বাঁচাও তখন কার আর্তোনাদ আমার এটাই ছিলো। মনে মনে সূরা পরা শুরু করলাম। আমার গলায়, ঘারে তার নিশ্বাস টের পেলাম। ও আল্লাহ কি বিদঘুটে অনুভূতি, বিদঘুটে গন্ধ। একেবারে আমার সামনা সামনি আসতেই আমি সাথে সাথে চোখ খুললাম। কিছুই দেখতে পেলাম না। সুরা চলছে,দেখলাম পরদা নরছে। বুঝতে বাকি রইলোনা সে চলে গেছে। সাথে তার গন্ধ টাও।হাফ ছেড়ে বাচলাম। আজ খুব ভয় পেয়েছিলাম। আর কিছুক্ষন থাকলে অশরীরী হাওয়ার সাথে আমিও মিশে যেতাম,পালিয়ে / হাড়িয়ে যেতাম অনেক দূরে.. ।
এই ছিলো তার সাথে আমার শেষ। মোলাকাত। এরপর এখন পর্যন্ত তার আর কনো যোগাযোগ হয়নি। যাই হোক,যখানেই থাকো,ভালো থাকো,মানুষকে ভয় দেখায়ও না। অশরীরী আছে, অশরীরী থাকবে। আমাদের নিত্যদিনের সন্ঙি হয়ে।কখন ও কাছে / কখন ও দুরে।কেউ টের পাবে আর কেউ পাবেনা।কিছু মানুষ রুপি অশরীরী ও বসবাস করে আমাদের মাঝে মানুষে রুপে।

লিখেছেনঃ ফারজানা জেনি

লেখিকার আরো অন্যান্য লেখা পড়ুনঃ  হুতুমপেঁচা ম্যাগাজিন -এ।