সেলুলয়েডের গল্প

ডিজিটাল ফরট্রেস | বইয়ের কথা

লিখেছেনঃ ড্যান ব্রকাউনএওসস
অনুবাদঃ মাকসুদুজ্জামান খান
প্রকাশনীঃ অন্বেষা প্রকাশন
মুদ্রিত মূল্যঃ ৩৮০ টাকা
মোট পৃষ্ঠাঃ ৩৬৫

বইয়ের পিঠ থেকেঃ
আমেরিকার সবচে গোপন এবং সবচে মূল্যবান ইন্টেলিজেন্স সংস্থা এন এস এ। এর অব্যর্থ, অসাধারণ কোড ব্রেকিং মেশিন এমন এক কোডের সম্মুখীন হল যা ভাঙা যাচ্ছে না। এজেন্সি সাথে সাথে তাদের চিফ ক্রিপ্টোগ্রাফার সুসান ফ্লেচারের শরণাপন্ন হল। গণিতবিদ মেয়েটা একই সাথে মেধাবী এবং রুপবতী। ব্যাপারটা ধরতে পারার পর কেপে উঠল গোটা প্রতিষ্টান। এন এস এ কে জিম্মি করা হয়েছে। বন্দুকের মুখে নয়, নয় বোমার মুখে ; বরং এক অসাধারণ, অপ্রতিরোধ্য জটিল কোডের দ্বারা। ইউ এস ইন্টেলিজেন্সকে ঘোল খাইয়ে ছাড়বে সেটা। ক্রমবর্ধমান গোপনীয়তা আর মিথ্যার বেড়াজালে আটকা পড়েও সুসান তার বিশ্বস্ত এজেন্সিকে রক্ষা করার জন্য উঠেপড়ে লাগে। সবদিক থেকে প্রতারিত হয়ে অবশেষে সে নেমে পড়ল নিজ দেশকে রক্ষার কাজে…. নিজেকে রক্ষার কাজে… ভালবাসার মানুষটিকে রক্ষার কাজে।

আমার কথা / পাঠ প্রতিক্রিয়া:
ন্যাশনাল সিকিউরিটি এজেন্সি ( এন এস এ) এই প্রতিষ্টানের মূল কাজ দেশের বিরুদ্ধে চলমান যত জটিল চক্রান্ত আছে তা ভেস্তে দেয়া, কোড ব্রেকিং তাদের অন্যতম কাজ সেই সাথে দেশের অন্য অন্য সংস্থাকে ইনফরমেশন দিয়া সাহায্য করাও তাদের কাজ। কমান্ডার ট্রেভর জে স্ট্র‍্যাথমোর এন এস এর একজন ডিরেক্টর এবং সেকেন্ড ইন কমান্ড, মূলত উনার উদ্যোগেই তৈরী হয় এক দানবীয় কম্পিউটার (ট্রান্সলেটর) যা যে কোন কোড ভেঙে দিতে পারে চোখের নিমিষে, সেই সাথে চোখ রাখতে পারে যে কোন ব্যাক্তিগত ইমেইল বা যে কোন ধরনের ডাটা ট্রান্সফার যা ইন্টারনেটের মাধ্যমেই হয়, মোদ্দা কথা ট্রান্সলেটর হলো এন এস এ এবং আমেরিকান গোয়েন্দা বিভাগের মেরুদণ্ড এবং তথ্য সরবরাহকারী। সুসান ফ্লেচার কোড ভাঙা ভাঙি ডিপার্টমেন্টের হেড এবং স্ট্র‍্যাথমোরের খাস লোক। যৌবনের শেষ প্রান্তে এসে সুসান প্রেমে পরে ভাষাবিদ প্রেফেসর ডেভিড বেকারের, দুজনের প্রেম জমে ওঠা অবস্থায়ই, এক শনিবারের সকালে স্ট্র‍্যাথমোর ডেকে পাঠান সুসানকে জরুরী অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে এন এস এ তে। ট্রান্সলেটর তার নিজের যুগে একটি কোড ভেঙে ফেলতে সময় নিয়েছে ম্যাক্সিমাম ৩ ঘন্টা কিন্তু স্ট্র‍্যাথমোর এমন একটি কোড ট্রান্সলেটরে দিয়েছেন যা ঘুরছে প্রায় ১২ ঘন্টা ধরে। এই আনব্রেকবেল কোডের জনকের নাম এনসেই টানকাডো যিনি একজন জাপানি এবং প্রোগ্রামিং জিনিয়াস হিরোশিমায় পারমানবিক বোমার তেজষ্ক্রিয়তার শিকার একজন মানুষ, সবচেয়ে মজার ব্যাপার ট্রান্সলেটরের জন্মের সময় যে কয়েকজন কন্ট্রিবিউটর ছিলো তিনি তাদের একজন কিন্তু টানকাডো যখন জানতে পারলেন যে ট্রান্সলেটর যে কারো পারসোনাল প্রাইভেসি নষ্ট করতে পারে, তখন তিনি বেকে বসেন এবং এন এস এ কে বলেন যে ট্রান্সলেটরের কথা পৃথিবীর সবাইকে বলে দিতে কিন্তু এন এস এ তা করে না, এর ফলশ্রুতিতেই টানকাডো বানান আনব্রেকবেল কোড যার নাম দেন ডিজিটাল ফরট্রেস, সেই সাথে এটা সবার জন্য উন্মুক্ত করতে নেটে ফ্রি ডাউনলোডের জন্য ছেড়ে দেন একটি তালা দেয়া ভার্সন, মানে এনক্রিপ্টেড কপি, যদি ট্রান্সলেটেরের কথা দুনিয়ার সামনে প্রকাশ না করা হয় তবে সে এই তালার চাবি তুলে দেবে সবচেয়ে বেশি বিড করা সফটওয়্যার কম্পানিকে। ভয় পেয়ে যান স্ট্র‍্যাথমোর যখন ট্রান্সলেটর ১২ ঘন্টায়ো ভাঙতে না পারে উনি সুসানের সাথে পুরো ঘটনা শেয়ার করেন এবং টানকডো যে স্পেনে মারা গেছেন এটাও বলেন, টানকাডোর মৃত্যুর পর স্ট্র‍্যাথমোর ডেভিড বেকারকে পাঠান স্পেনে টানকাডোর রেখে যাওয়া চাবি ( পাস কি) র খোঁজে। এর পরের ঘটনা পুরোই জমজমাট, যারা ড্যান ব্রাউনের বই পড়েছেন তারা জানেন উনার থ্রিলার মানেই চমক আর চমক, টুইষ্ট আর টুইষ্ট, অনুবাদক মাকসুদুজ্জামানের অনুবাদ ভালো লেগেছে বেশ সাবলীল, কিছু কিছু জায়গায় একটু ছন্দপতন হয়েছে কিন্তু তা অগ্রাহ্য করাই যায়।

জমজমাট টেকনো থ্রিলার, পড়ে দেখতে পারেন, হ্যাপি রিডিং – ধন্যবাদ।

লিখেছেনঃ আফরিন পারভেজ

আমাদের আরো অন্যান্য বইয়ের রিভিউ দেখুনঃ হুতুমপেঁচা ম্যাগাজিন– এ।