সেলুলয়েডের গল্প

ওঙ্কার | বইয়ের কথা

লেখকঃ আহমেদ ছফা
প্রকাশনীঃ স্টুডেন্ট ওয়েজ
মূল্যঃ ১৩২
মোট পৃষ্টাঃ ১২১

প্রথমেই বলতে হবে এত ছোট্ট পরিসরে একটি নির্দিষ্ট সময়ের অবস্থা তুলে ধরতে লেখকের তুলনা নেই, উপন্যাসের নায়ক এখানে গল্প বক্তা – শুরুটা হয় তার বাবার বর্তমান এবং তাদের তালুকদার বংশের গল্প দিয়ে, যেখানে নায়কের বাবার তালুকদারি চলে গেছে কিন্তু তার সেই অভ্যাস বা গরীবকে কীট ভাবার দৃষ্টি বদলায়নি, মামলার দেনা মেটাতে গিয়ে সবকিছু খোয়ান নিজের নিয়োগকারী মোক্তারের হাতে, সেই দায় মেটাতে করতে হয় নায়ককে তার বোবা মেয়েকে বিয়ে করে! এই একই সময়ে পূর্ব পাকিস্থানের পরিবেশ অস্থিতিশীল হয়ে পরে এবং আইয়ুব খান তার সৈন্য নিয়ে ঘাটি গাড়েন দেশে, মোক্তার সাহেব মানে শ্বশুর মশাই আইয়ুব খানের চামচামি করে বেশ সুবিধাজনক অবস্থানে পৌছানোর ফলে নায়ক ভীত হতে থাকে এই বুঝি তার সব গেলো! তার বউ যেহেতু কথা বলতে পারেনা সে দগ্ধে দগ্ধে মরে তবু মুখে কিছু বলতে পারেনা ভয়ে! শ্বশুরের কাছ থেকে পাওয়া বাড়িতে বোবা বোন এবং বউকে নিয়ে কাটে তার অস্থির এবং শোচনীয় জীবন, মানব চরিত্র বড়ই অদ্ভুত বিশেষ এক কারনে বিশেষ এক ঘটনায় নায়ক প্রেমে পরে তার বোবা বউয়ের – অদ্ভুত সংসার কিছু সোনালি রোদে মোড়া সুখের সময় পায়।
উপন্যাসের মূল টুইস্টটা আসে এর পর, যেহেতু এটি ছোট গল্পের চেয়ে একটু বড় তাই খুব সহজেই পড়ে ফেলা যায় এবং অবশ্যই একদমে কোথাও কোন বাড়তি বা অতিরঞ্জিত কিছু নেই, ছিমছাম এবং চমৎকার ভাষার ব্যাবহার দেখিয়েছেন লেখক, এক কথায় বলতে গেলে ছোট ছোট কথা গুলোও নতুন করে আবিষ্কার করা যায়, যেমন “দুর্বলরা ভারি সন্দেহবাতিকগ্রস্থ হয় ”
“পুরোনো মডেলের গাড়ি যেমন শহরের নতুন রাস্তায় ঠিকমত চলতে পারেনা, ঝঞ্ঝাট লাগায়, দুর্ঘটনা বাধায়, ধোয়া ছড়ায়, তেমনি আমার বাবা আমার কালে চলার যোগ্যতা হারিয়ে ফেলেছিলেন ”
পড়ে ফেলুন, হ্যাপি রিডিং, ধন্যবাদ।

লিখেছেনঃ আফরিন পারভেজ

আমাদের আরো অন্যান্য বইয়ের রিভিউ দেখুনঃ হুতুমপেঁচা ম্যাগাজিন– এ।

( হুতুমপেঁচা শুধুমাত্র মেয়েদের ম্যাগাজিন, আমাদের কাছে লেখা পাঠাতে হলে আপনার লেখা এবং ছবি আমাদের ফেইসবুক পেইজ হুতুমপেঁচা ম্যাগাজিন ইনবক্স করুন, এছাড়াও লেখা সংক্রান্ত আপনার মূল্যবান মতামত এবং পরামর্শ আমাদেরকে কমেন্ট করে জানান। হুতুমপেঁচা-র সাথেই থাকুন।)