সেলুলয়েডের গল্প

অর্ধেক নারী অর্ধেক ঈশ্বরী (প্রথম খন্ড)| বইয়ের কথা

লেখকঃ আহমেদ ছফা
প্রকাশনীঃ মওলা ব্রাদার্স
মূল্যঃ ১৭৬ টাকা
মোট পৃষ্টাঃ ১৪৬

ফ্ল্যাপ থেকেঃ সত্য কল্পকাহিনীর চেয়েও আশ্চর্যতরো। এটা অপ্তবাক্য। যে কাহিনীর। মূলে সত্যের স্পর্শ নেই, সে কাহিনী মূল্যহীন।
আহমেদ ছফার দুই খন্ডে সমাপ্ত আত্মজৈবনিক উপন্যাস অর্ধেক নারী অর্ধেক ঈশ্বরী একটি অসাধারণ প্রেমের উপন্যাস। নরনারীর প্রেম হলো সবচাইতে জটিলতম শিল্পকর্ম। প্রেমজ একটি অঙ্গীকার না থাকলে প্রেমের কাহিনী বয়ান করা যায়না।আহমেদ ছফা অর্ধেক নারী অর্ধেক ঈশ্বরী উপন্যাসের প্রথম খন্ডটিতে প্রেমজ অঙ্গীকার নিয়েই প্রেমের কথা বলেছেন। লেখক একেকটি নারী চরিত্রকে এমন জীবন্তভাবে উপস্থাপন করেছেন, নারীদের মনোগতের এমন উন্মোচন ঘটিয়েছেন ; গ্রন্থটি পাঠ করলে মনে হবে জীবনের করুনতম অভিজ্ঞতার উৎস থেকেই জন্মলাভ করেছে এই সমস্ত চরিত্র। প্রেমে পড়ার জন্য যেমন সৎ, একনিষ্ঠ হৃদয় বৃত্তির প্রয়োজন, তেমনি প্রেম কথা বয়ান করার জন্য আরেক ধরনের নিষ্ঠা এবং সততার। শক্তির সংগে সততার সম্মিলন সচরাচর ঘটে না। আহমেদ ছফা এই অনুপম রচনাটিতে সেই আপাত অসম্ভবকে সম্ভব করে তুলেছেন।

মনস্বীতাসম্পন্ন অনেক উপন্যাস আহমদ ছফার কলম থেকে বেরিয়েছে। নর-নারীর প্রেমকে উপজীব্য করে তাঁর উপন্যাস লেখার এটিই প্রথম প্রয়াস। অসাধারণ লিপি-কুশল লেখকের এই ধ্রুপদধর্মী উপন্যাসটিতে মানব-মানবীর প্রেম যে এক নতুনতরো
ব্যনঞ্জনায় দেদীপ্যমান হয়ে উঠেছে, সে কথা বলার অপেক্ষা রাখে না।

আমার কথা/ পাঠ প্রতিক্রিয়াঃ
শুরুতেই প্রেমিক তার প্রেমিকার রুপে মুগ্ধ হয়ে তাকে নতুন একটি নাম দিচ্ছে ” সোহিনী “, সেই সাথে সূক্ষ ভাবে নিজের মনের অবস্থা তুলে ধরে যখন সে তার মানসীকে প্রথম দেখেছিলো, প্রেমিক নায়ক
জাহিদ যেহেতু তার প্রেমিকার সাথে নিজের জীবনের সবকিছু ভাগাভাগি করে নিতে চায়, তাই সে খুব সহজ কিন্তু একে একে তুলে ধরে তার জীবনে আসা নারীদের কথা।
প্রথমেই আসে দুরদানার কথা, দুরদানাকে লোকে ডাকে দুর্দান্ত থান্ডার কারন দুরদানা মানেই স্বাধীনতা, যে পাকিস্থান শাসন আমলেও তার নিজের দ্বিচক্র যান চালিয়ে চষে বেড়াতো ঢাকা শহর এবং সেই সাথে দুরদানা হলো শহরের ত্রাস ইউনুস জোয়ারদারের ছোট বোন, যাইহোক তবুও প্রেম থেমে থাকেনা দুরদানা এবং জাহিদের মধ্যে গড়ে ওঠে এক অদ্ভুত প্রেম, যা সুপ্ত! সুপ্ত থাকা অবস্থায়ই বদলে যায় এই প্রেমের গতিপথ।

জাহিদের জীবনে আসে কন্যা শামারোখ, যিনি জীবন্ত সৌন্দর্যের প্রতীক। যাকে দেখে জাহিদের মনে জেগে উঠেছিলোঃ
ষষ্ঠ দিন শ্রম অন্তে প্রভু,
অপূর্ব বিষ্ময় ভরে করে উচ্চারণ
পরবর্তী সৃষ্টি হবে দিব্যি অনুপম।
তখনই ডাগরআঁখি মেলেছে নন্দিনী
মরি মরি দৃষ্টি হেরি,
আপন অন্তর তলে বিধাতাও
উঠেছে শিহরি।
শামারোখ ও স্বাধীনচেতা মানবী যিনি সদ্য স্বামী সন্তানকে ছেড়ে এসেছেন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতার চাকুরীটি পাওয়ার চেষ্টা করছেন কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভাগীয় প্রধানের চক্রান্তের স্বীকার হয়ে, পাচ্ছেন না তার প্রত্যাশিত চাকুরী। যেহেতু শামারোখ ডিভোর্সি অনেক পুরুষের অনেক ধরনের আগ্রহ তাকে নিয়ে, আর পরিচয়ের পর থেকে উনি অনেক পরিচিত মহলে আলোচনার বিষয় হয়ে ওঠে জাহিদ-শামারোখ জুটি।
যাইহোক এই ছোট্ট চলার পথেই জাহিদ দেখে ফেলে শামারোখের ভিন্ন একটি রুপ।

আমি যতদূর জানি এই বইটি অসমাপ্ত, লেখক দ্বিতীয় খন্ড লিখে যেতে পারেননি, তাই জানা যায়নি জাহিদের সাথে সোহিনীর বাকী কথা।

আমি বরাবরই আহমদ ছফার গল্প বলার ধরনের ভক্ত,এখানেও তার ব্যতিক্রম হয়নি। জাহিদ থেকে শুরু করে প্রতিটি চরিত্র উনি এত জীবন্ত ভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন তা আমার জন্য ভাষায় প্রকাশ করা শক্ত। মানুষের নোংরা দিক গুলোও কে সুন্দরের মোড়ক জড়িয়ে প্রকাশ কর যায়, মানুষকে দেখানো যায় তা উনি বাস্তব করে দেখিয়েছেন।

পড়ে দেখতে পারেন, আশা করি ভালো লাগবে।
হ্যাপি রিডিং।

লিখেছেনঃ আফরিন পারভেজ

আমাদের আরো অন্যান্য বইয়ের রিভিউ দেখুনঃ হুতুমপেঁচা ম্যাগাজিন– এ।