মুক্তধারা

মেয়েটি আর নিঃশব্দ অপরাধী

মেয়েটি ছিলো দেখতে
কালো মিষ্টি সুন্দরী।
যার শরীরের শক্তি ছিলো
পাথরের মতো শক্ত।
শীত বা গরম তাকে
কখনও পারতো না কাবু করতে।
তাই মেয়েটি গরমেও ছুটতো,
শীতেও অনেক কাজ করতো,
মিষ্টি মুখে সব সময়
হীরের মতো হাসি লেগে থাকতো।
মেয়েটি আর কেউ না
এক বাড়ীর কাজের মেয়ে।
তার বাড়ীতে যাওয়ার ছিলো মানা,
মাসের টাকা সেও ছিলো,
মালিকের কাছে জমা।
কাজ করতে করতে প্রায় আধমরা হয়ে যাচ্ছিলো সে,
ক্লান্তি ফুরোতে ছিলো না তার কোনো সময়,
ভোরে নাস্তা তৈরি শুরু থেকে
সারাদিন মিলে রাতের মাঝে কাপড় ভাজ করে,
তারপর পেতো ঘুমোনোর সুযোগ।
আবার শুরু হতো তার ছক বাঁধানো
কাজের রুটিন।
কিন্তু বাড়ী যাওয়ার ছুটি মেলে না,
টাকারও হিসেব দেয় না।
একদিন হঠাৎ চুরির অপবাদে,
শীতের বিকেলে কনকনে শীতে
পটাস পটাস করে খেলো কত চড়
শুধুই কি চড়, লাথি গুড়ি, কিল ঘুষি
কোনোটাই ছিলো না বাদ।
পা ধরেও মেয়েটি কোনভাবেই,
পাচ্ছিলো না নিস্তার।
সেই মারের শব্দ এখনও বাজে কানে।
ভাবি এই শীতে যে শরীরে থাকার কথা
গরম পোষাক।
কিন্তু ঠান্ডায় হিম শীতে মেয়েটির শরীরে
গরম পোষাক না থেকে
পরছে শুধু মার।
অবশেষে অনেক দিন পর
কোনো একদিন,
মেয়েটির মা এলো মেয়েকে দেখতে।
দেখে বলে, আমার মাইয়ার টাকা দেন,
আমি মাইয়ারে নিয়া যাই।
আর মনে মনে ভাবে,
মাইয়ার দিকে দেহন যায় না।
শেষে চুরির অপবাদ,
টাকার নাই কোনো হিসাব,
তর্কে কথা গরে যায়।
মা বলে,চাইনা টাকা,
মাইয়ারে আমি নিয়া যাই।
অবশেষে দুবছরের টাকা,
পারেনি আদায় করতে।
তারপর কি আর করার,
মা মেয়ে চলে যায়
তাদের আপন ঠিকানায়।
আর আমাদের মতো অপরাধীরা এসব
দেখে,লেখে আর ছাপায়।
যার নাম নিঃশব্দ অপরাধী।

লিখেছেনঃ জিলফিকা বেগম জুঁই

লেখিকার আরো অন্যন্য কবিতা পড়ুনঃ হুতুমপেঁচা  ম্যাগাজিন -এ ।