অনুরণন

ভৌতিক গল্পের সিরিজঃ অশরীরী (পর্ব- ২)

এইবার না হয় তার সাথের পরিচয় পর্বটা বলে ফেলি।তার সাথে আমার অনুভূতি- অনুভূতি খেলা নতুন নয়। অনেক দিন আগের ঘটনা এটা,আমি তখন দশম শ্রেণীতে পড়ি,সামনে প্রি-টেস্ট / টেস্ট পরিক্ষা কিছু একটা ছিলো ঠিক মনে করতে পারছিনা। আম্মু-আব্বুর ঘেরর পাশেই আমার ঘর। বারান্দাটা আমার ঘরের সাথে।বাইরে থমথমে আবহাওয়া, কনো বাতাস নাই। প্যাচপ্যাচে গরম।প্রতিদিন রাত ৩টা পর্যন্ত পড়তাম। ৩টা বাজলেই পড়া বন্ধ। পরিক্ষা আসলেই রাত যেগে পড়া লাগতো আমার।কারন দিনের পড়া আমার কিছুই মনে থাকতোনা। যাইহোক,একদিন ২ টার সময় আমার মেহেদী দিতে খুব ইচ্ছে হচ্ছিলো,যেই ইচ্ছা – সেই কাজ মেহেদী দিতে বসে গেলাম। মনের মাধূরি মিশিয়ে যা মনে চাইলো তাই-ই আঁকি – বুকি করলাম। আঁকিবুকি এই কারনে বল্লাম যে,আমি তখন মেহেদি দিতেই পারতাম না। যাইহোক মেহেদী দেয়া শেষ,এখন শুকানোর পালা,হাত নিয়ে বশে আছি। তখন কার মেহেদি এতো তাড়াতাড়ি শুকাতো না।একটু সময় লাগতো। এখনকার মেহেদী তো একপাশ দিতে দিতে আরেক পাশ শুকিয়ে যায়।বসে থাকতে থাকতে হঠাৎ কখন যেনো চোখ বন্ধ হয়ে আসলো টের ও পাইনি। মেহেদী দেয়া হাতটা টেবিলের ওপর রাখা,আরেকটা হাত আমার কোলের ওপর রাখা। ঘুমের মধ্যেই অনুভব করলাম মেহেদী দেয়া হাতে কারো নিশ্বাস পরছে খুব ঘন ঘন,এবং নিশ্বাস টা যথেষ্ট গরম,ঘুমের মধ্যে ভাবছি হয়তো আমার আম্মু আসছে। তবুও কেমন একটা লাগলো।মা আসলে তো আমাকে ডাকবে। আমাকে ডাকছে না কেনো,এই সব ভাবতে ভবতেই খুব ঝট করেই,মানে এক ঝটকায় চোখ খুলে ফেল্লাম। অবাক কান্ড কেউ নাই।বারান্দার দিকে তাকালাম পর্দা নরছে। ওখান থেকে কেউ চলে গেলে অথবা বাতাসে পর্দা নরার কথা,কিন্তু বাইরে কনো ছিটে ফোটা বাতাস ও ছিলোনা। বাতাসে নরা আর ঝট করে কেউ চলে যাওয়ায় পর্দা নরার মধ্যে একটা পার্থক্য তো অবশ্যই চোখে পরার মতো।উঠে এদিক-ওদিক দেখলাম,নাহ্ কেউ নাই। শুধু তার নিশ্বাস এর অনুভুতি টুকু আছে। বই-খাতা গুছিয়ে লাইট বন্ধ করে শুয়ে পরলাম। আমি একদম পরিষ্কার ভাবে বলতে পারি হ্যাঁ ওখানে কেউ আসছিলো,যার নিশ্বাস আমার হাতে খুব ভালো ভাবেই অনুভব করতে পেরেছি।ঐ দিন -ই ছিলো আমার জীবনের প্রথম পাওয়া অশরিরি অনুভুতি।

বি: দ্র : আমি কিন্তু ঐ দিন একটুকুও ভয় পাই নাই। এবং এটা সত্যি কথা।

লিখেছেনঃ ফারজানা জেনি

লেখিকার আরো অন্যান্য লেখা পড়ুনঃ  হুতুমপেঁচা ম্যাগাজিন -এ।