অনুরণন

ভৌতিক গল্পের সিরিজঃ অশরীরী (পর্ব- ১)

কোলকাতার নতুন বাসায় খুব সখ করে জানালার কাছে নিজের খাট টাকে বসালাম। খুব তরঝর করে ভাই এর সাথে মোটামুটি একটা যুদ্ধ করেই রুমটা নেয়া। জানালার বাইরে একটু খানি ( ৫-৭ হাত) খালি জায়গা, তারপর একটা গাড়ি রাখার গ্যারেজ। পাশের বাসার লোকেরা গাড়ি রাখতো। জানালার ঠিক কোনা বরাবর একটা আতা গাছ। আগেই বলে রাখি যেখানে খাট রেখেছি তার পুরো দেয়াল জুরেই জানালা। আতা গাছটার পাশে একটা শিশু গাছ,তার পাশেই ছোট্ট একটা বট গাছ যেটা পাশের গ্যারেজ এর দেয়াল ফুরে বেরিয়েছে।
প্রথম তিন-চার দিন ভালোই ছিলাম। উওরি বাতাস খারপ না। হঠাৎ করে মনে হলো কেউ আমার গায়ের চাদর পায়ের দিক থেকে টেনে নিচ্ছে। খুব অস্বস্তি লাগছিলো। আবার টেনে উপরে উঠালাম। দুইবার এমন হলো।তারপর চোখ খুললাম। যেমন টা তেমনি ছিলো গায়ের চাদর। মোবাইল এ দেখলাম রাত ২:৩০ এর মতো বাজে। ঐ দিন আর কিছুই হলো না। পর দিন আবার এক-ই জিনিস ঘটলো। প্রায় সময়তে এমটা হতো,কাওকেই কিছু বলতাম নানা। এমন হলে দোয়া-দূরুদ পরতাম আর ডিস্টার্ব করতো না।
কয়েক দিন পর খুব বাজে ভাবে ঘটনাটা ঘটলো। এবার চাদর ঠিকই টেনে নামাচ্ছে,কিন্তু আমি আর টেনে ওপরে তুলতে পারছিনা। শরীর ভারি হয়ে গেলো,ভয়ে গাঁ-হাত একদম ঠান্ডা হয়ে যাচ্ছিল,আর অনেক ঘামছিলাম।মনে মনে দোয়া পরছি তো পরছি। কিন্তু, চাদর আর টেনে তুলতে পারছিনা। বেশ কিছুক্ষন এইরকম চলার পর দোয়া পরতে পরতে এক সময় হঠাৎ করে চাদরটা কে জেনো ছেরে দিলো। হাফছেড়ে বাচলাম, সাথে সাথে মা এর রুমে চলে গেলাম।এরপর দিন বিছানা পত্তর নিয়ে রুম সিফ্ট করে ফেল্লাম। ঐ রুম টাকে বসার রুম বানিয়ে দিলাম। এরপর ঐ বাসাটাতে চার বছর ছিলাম,তেমন আর কিছুই হয়নি।
এই রকম আরো অনেক ছোট ছোট ঘটনা আমার সাথে ঘটেছে,সেটা না হয় অন্যদিন বলবো। আজ এই পর্যন্ত থাক।
(চলবে……)

লিখেছেনঃ ফারজানা জেনি

লেখিকার আরো অন্যান্য লেখা পড়ুনঃ  হুতুমপেঁচা ম্যাগাজিন -এ।