মুক্তধারা

প্রথম দর্শনে প্রেম

হঠাৎ কেউ কেউ এমন করে জীবনে আসে- যা মনকে ভীষন নাড়া দেয়, আর কখনও দেখা নাও হতে পারে, কথা নাও হতে পারে তবুও মন থেকে মুছে ফেলা যায় না, সারা জীবনেও। রবীন্দ্রনাথ বলেছেন “ক্ষনিকের অথিতি” তাইতো লিখেছেন -” হে ক্ষনিকের অথিতি/তুমি এলে প্রভাতে”। ক্ষনিকের অতিথি হলেও সারাজীবনের জন্য মনে জায়গা করে নেয় কেউ কেউ। বনলতা সেন তেমনই একজন,যে কিনা কবির অস্তিত্বে মিশে ছিলো অথচ কবি লিখেছেন ক্ষনিকের দেখা তাদের। এ রকম ভাল লাগার নাম কি? এটাকেই কি বলে “প্রথম দর্শনে প্রেম”?
আসলেই কি প্রথম দর্শনে প্রেম হয়?হঠাৎ দেখায় কিছুটা ভাল লাগা বা চক্ষু জুড়ানো একটা ব্যপার হয় ঠিক কিন্তু সেটা প্রেম বলা যায় না, কারন এটার স্থায়িত্ব খুব বেশী না, বেশীর ভাগের বেলায় দেখা যায় দৃষ্টির বাইরে চলে গেলে মোহ কেটে যায়। তবে সবার বেলায় যে ভালো লাগার স্থায়িত্ব শুধু চোখের সমনে থাকার সময় টুকুই তা নয়, কারো কারো জীবনে সেটা পরিবর্তনের বার্তা নিয়ে আসে, কেউ কেউ সারাজীবন সেই স্মৃতি বয়ে বেড়ায়।
প্রেম মোহে আচ্ছন্ন এই সময় টাকে মনোবিঞ্জানীরা বলেন “অবসেশন পিরিয়ড “। এরকম অবসেশন পিরিয়ডে অনেকেই পরেছেন, এবং সেটা বিভিন্ন বয়সে। কবি, সাহিত্যিকদের মতে আসলে ” love at first side “এর কোন বয়স নেই। তাই শেষের কবিতায় লাবন্যর সাথে দেখা হওয়ার পর অমিত বলেছিলো- “শৈশব থেকে সমস্ত দিন অবচেতন মনে,যেনো তোমারই পায়ের শব্দ শুনে আসছি/ মনে হয়েছে কতদূর থেকে আসছো, তার ঠিক নেই/ শেষ পর্যন্ত এসে পৌছুলে আমার জীবনে”। আর জীবনান্দ দাস হাজার বছর পথ চলার পর দেখা পেয়েছেন নাটোরের বনলতা সেনের। অর্থাৎ যে কোন সময় হতে পারে প্রথম দর্শনে প্রেম।
তবে ভালোবাসা আর প্রেম এক নয়। ভালোবাসা যায় অনেককে, কিন্তু প্রেম অনেকের সাথে হয় না। একই সময় শুধু একজনের সাথেই প্রেম হয়। প্রেম জীবনে বহুবার আসতে পারে তবে এক সাথে না,আলদা ভাবে। প্রেম মানুষের জীবন ধারা কখনও কখনও বদলে দেয়,এটা একক কোন অনুভূতি নয়, অনেক অনুভূতির সমন্বয়ে প্রেম। এতে বিশ্বাস,ভালোবাসা,আস্থা যেমন থাকে তেমনি থাকে হারাবার ভয়, ইর্ষা।
প্রেম নিয়ে অনেক উপন্যাস, সাহিত্য, লোকগাথা লিখা হয়েছে,তার পরও রোমিও-জুলিয়েট, লাইলি- মজনু,রাধা-কৃষ্ণএখনও সবার মনে জায়গা করে নিয়েছে। রানী ক্লিওপেট্রা আর মার্ক অ্যান্টনি প্রথম দর্শনে একে অপরের প্রেমে পরে যায় বলে কথিত আছে। লাইলি কে শৈশবে প্রথম দেখেই প্রেমে পরে যায় কায়েস,আর লাইলির প্রেমে পাগল কায়েস কে তখন মজনু নাম দেওয়া হয়। প্রথম দর্শনে দুজনের প্রেম কাহিনী এখনও লোক মুখে। তবে গল্প উপন্যাস কেও ছাড়িয়ে গেছে অনেক সত্যি ঘটনা যার একটা”লাভার্স অফ ভালদারো”। সত্যিকার প্রেমের কখনও মৃত্যু হয় না যেটা প্রমান করেছে ছয় হাজার বছর আগের “লাভার্স অফ ভালদারো”।তবে সেটা “প্রথম দর্শনে প্রেম” ছিলো কিনা জানার আর উপায় নেই। তবে Love at first sight is the true test of love because a special person come and stole your heart.

লিখেছেন : সাজিয়া আফরিন 

লেখিকার আরো অন্যান্য লেখা পরুনঃ হুতুমপেঁচা ম্যাগাজিন -এ।