সেলুলয়েডের গল্প

বলিউড কুইনের স্পষ্ট বক্তব্য

বলিউড কুইন নামে খ্যাত কঙ্গনা রানাওয়াত  যার বলিউড ক্যারিয়ারে ছিল না কোন তথাকথিত “বলিউড গড ফাদার”। চ্যালেঞ্জিং সকল চরিত্রে অভিনয়ের জন্য যেমন তিনি মিডিয়াতে নিজেকে অন্যতম একজন ভারতীয় সেলিব্রেটি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন এবং একই ভাবে তার সৎ মতামত প্রকাশের জন্য জনসাধারণের কাছে বিশেষভাবে সুপরিচিত।

হিমাচলের মান্দি গ্রামে জন্ম নেয়া কাঙ্গনা ২০০৬ সাল থেকে বলিউডে ক্যারিয়ার শুরু করেন। গ্যাংস্টার” ছবি দিয়ে এই অভিনেত্রীর যাত্রা শুরু হয়। গত ৩ সেপ্টেম্বর ইন্ডিয়া টিভিতে “আপকি আদালাত” নামক একটি অনুষ্ঠানে এসে সরাসরি নিজের জীবনের অনেক প্রশ্নের উত্তর দেন এই অভিনেত্রী, উল্লেখ্য করেন বলিউডে সেক্স হ্যারাজমেন্টের কথা এছাড়াও আরো অন্যান্য বিষয়ে বেশ খোলামেলা উত্তর দেন এই অভিনেত্রী। আসুন জানা যাক অনুষ্ঠানে এসে কি বলেছিলেন এই বলিউড কুইন।

  • “আপকি আদালতে” কাঙ্গনা’কে তাঁর পরিবার সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলে তিনি উত্তরে বলেন-

“ তিনি এমন এক পরিবার থেকে এসেছেন যারা অনেক কন্সারবেটিভ ছিল, তাদের গ্রামে এবং আশে পাশের গ্রামে কোন সিনেমা হল ছিল না। তারা ভিসিআর –এ ছবি দেখতেন। তাদের পরিবারে মেয়েদের জন্য ছিল আলাদা নিয়ম আর ছেলেদের জন্য আলাদা নিয়ম, মেয়েদেরকে পরের ধন বলেই তাদের পরিবার মনে করতেন। ভাল করে পড় ভাল বর পাবে, কাজ শিখো না হলে শাশুড়ি বকবে। এরকম ধারনা রাখতেন তাদের পরিবার। আর এই সব কারণেই মাত্র ১৬ বছর বয়সে কাঙ্গনা ঘর ছাড়েন।

  • তাঁর কন্সারভেটিভ পরিবার তাঁর মুভি দেখে কিনা এই প্রশ্ন করলে কাঙ্গনা উত্তর দেনঃ

এখন তাঁর ছবি তাঁর পরিবার দেখে বলে তিনি জানান, সাথে এটাও বলেন- ১০ বছর আগেও ব্যাকলেস বা বিকিনি পড়া যেমন ভারতের ছবিতে পুরো ভারত মেনে নিতে পারত না যেখানে চুমু খাওয়াকেও অস্বাভাবিক মনে করা হত এখন তাঁর আমূল পরিবর্তন হয়েছে। এখন ইন্সট্রাগ্রামেও মানুষ নানান ছবি  দিতে পারে এবং এখন হলে ছবি দেখার লোক বেড়ে গেছে বলেই কাঙ্গানা জানান।

  • আদিত্য পাঞ্চলি প্রসঙ্গে কাঙ্গনাকে প্রশ্ন করলে উনি জানানঃ

তিনি প্রথমে দিল্লিতে একটা ছোট থিয়েটার “আস্মিতা” গ্রুপে জয়েন করেন সেখান থেকে তিনি মুম্বাই আসেন নিজের ক্যারিয়ার বানাতে মাত্র ১৬ বছর বয়সে। মুম্বাই আসার পর তাঁর বাবার বয়সী আদিত্য পাঞ্চলি তাকে পরামর্শ দেন যে সে হোস্টেলে থাকলে কোন ভাবেই ক্যারিয়ার বানাতে পারবে না এবং তাকে আলাদা বাসা নিতে বলেন। তিনি আলাদা বাসা নিলে আদিত্য তাকে গৃহবন্দি করে ফেলেন এবং তাঁর সাথে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করেন। পরবর্তীতে কাঙ্গনা আদিত্যের স্ত্রীর কাছে সাহায্য  চান, তিনি এটাও উল্লেখ্য করেন আদিত্যের স্ত্রী তাকে সাহায্য করেন নাই বরং বলেন তারা এতেই খুশি যে আদিত্য আর তাদের ঘরে আসবে না, কাঙ্গনা যা ভাল মনে করে করতে পারেন। উলেক্ষ্য যে কাঙ্গনা আদিত্যের মেয়ের থেকেও ১ বছরের ছোট ছিলেন। এরপরেও আদিত্য তাঁর পিছু নিতেই থাকে কাঙ্গনা আরো উল্লেখ্য করেন আদিত্য থেকে বাচার জন্য উনি জানালা থেকে লাফ দিয়ে পালিয়ে এক হোটেলে আশ্রয় নেন আদিত্য সেখানেও পৌছিয়ে যান। এরপর আরেকদিন কাঙ্গনা শুটিং থেকে ফেরার পথে আদিত্য তাকে তারা করলে তিনি অনুরাগ বসু এবং তাঁর স্ত্রীর কাছে সাহায্য চান তারা ১৫দিন কাঙ্গনাকে তাদের অফিসে লুকিয়ে রাখেন। এরপরেই কাঙ্গনা পুলিশের কাছে আদিত্যের নামে অভিযোগ করেন।

  • ৩ বার রাষ্ট্রপতি পুরস্কার পাওয়া কাঙ্গনা বলেনঃ

ইন্ডিয়াতে হওয়া সকল এওয়ার্ড অনুষ্ঠান ফ্রড এবং এগুলো দেখা থেকে বিরত থাকুন। এরা গ্রুপিং করে নিজেদের খাতির জমানো লোকদেরকেই এওয়ার্ড দিয়ে থাকেন এসব ভুয়া। আর ন্যাশনাল এওয়ার্ড সম্পর্কে বলেন এখানে টি আর পি এর কোন ব্যাপার থাকে না তাই আমার ন্যাশনাল এওয়ার্ড ফাংশন নিয়ে কোন সমস্যা নাই, কিন্তু অন্যান্য এওয়ার্ড ফাংশনে টি আর পি এর জন্য এওয়ার্ড দিয়ে থাকে এবং তারা এতটাই ডেস্পারেট থাকে যে ফোনে ব্যান করে দেয়ার হুমকি পর্যন্ত দিয়ে থাকেন।

  • আপকি আদলতে কাঙ্গনাকে প্রশ্ন করা হয় “ফ্লিম ইডাস্ট্রির সেক্সচুয়ালিটি বেশি, ফ্লিম ইন্ড্রাস্টিতে ৪টা খানদান এর প্রভাব চলে, ফ্লিম ইন্ড্রাস্টিতে ডিরেক্টরদের সময়জ্ঞান নেই” এই বক্তব্য গুলো কেন করেছেন কঙ্গনাঃ

কঙ্গনা সকল বক্তব্য স্বীকার করে নেন এবং বলে ফ্লিমি পরিবারের ছেলেমেয়েদের আগের থেকেই মেকাপ চুল এবং সমস্ত ট্রেনিং থাকে এবং তাদের সাথে আগের থেকে পরিচালক আর সাংবাদিকদের খাতির থাকে যার জন্য তাদের কে সব সময় পারফেকশনিশট দেখায়। অপর দিকে যারা স্ট্রাগল করে আসে তাদের সঠিক মেকাপ থাকে না চুল ঠিক থাকে না এবং তাদের কোন ট্রেনিং থাকে না বলে কেও কাজে নাই না। আবার যদি কেও কোন কাজে নিয়েও নেয় সাংবাদিক বন্ধু থাকে না বলে পাবলিসিটিও মিলেনা। কাঙ্গনা অনেক পরিচালকের মধ্যে করন জোহরকে পিঠ পিছে সমালোচক বলেও আখ্যা দেন।

  • আপকি আদালতে” কাঙ্গনাকে হৃতিক রোশন সম্পর্কে বলতে বলা হলে তিনি জানানঃ

হৃতিক রোশন এবং তাঁর ২০১৪ সালেই সম্পর্ক শেষ হয়ে যায়। কুইন” মুভি রিলিজের আগে হৃতিক তাঁর সাথে সম্পর্ক রাখতে অস্বীকার করেন, কিন্তু কুইনের সাফল্যের পরে তাঁর সাথে রিলেশন বজায় রাখতে চান। তিনি আরো জানান, যে তিনি হৃতিকের নামে কোন কেস করেন নাই, হৃতিক নিজেই করে নিজেই ধরা পরেছেন। ২০১৬ সালে হৃতিক তাঁর উপরে কেস করেন যে হৃতিককে তিনি সাইবার হ্যারাস করছেন এবং ১৪৩৯ মেইল পাবলিশ করেন হৃতিক রোশন, পরবর্তীতে তিনি  বলেন কঙ্গনা এইসন ইমাজিনেশন করেছেন এবং যার সাথে করেছেন সে হৃতিক নিজে না কেও হৃতিক সেজে তাঁর সাথে সম্পর্ক রেখেছে।

পরবর্তীতে এসকল কিছু প্রমাণ পাওয়া না গেলে হৃতিক রোশন তাদের পরিবারের সম্মানহানি হয়েছে এসব বলে কাঙ্গনাকে প্রেসের সামনে মাফ চাইতে বলেন না হলে তাঁর খারাপ ছবি এবং ভিডিও ছেড়ে দেয়ার হুমকি দেয়। কাঙ্গনার মতে, যদি এত কিছু  হৃতিক একাই করে থাকেন এখানে তাঁর তো কোন ভূমিকা নাই কারণ সে কিছুই করেন নাই তাই সে সমস্ত প্রমাণ সহ হৃতিককে কেস করতে বলেন এবং হৃতিকের বাবা রাকেশ রোশন কেও তিনি প্রকাশ্যে চ্যালেঞ্জ করেন যে রাকেশ রোশন ১ বছর আগে বলেছে এই মেয়েকে আমি দুনিয়ার সামনে এক্সপোজ করবো, কঙ্গনা বলেনঃ আমি অপেক্ষা করছি কবে তিনি আমাকে এক্সপোজ করবনে। কঙ্গনা সরাসরি রাকেশ এবং হৃতিক রোশনকে তাঁর কাছে মাফ চাইতে বলেন। কারণ তাদের এই মিথ্যা নাটকে তাঁর অসম্মান হয়েছে বলে জানান। কাঙ্গনা কাউন্টার এট্যাকে বলেন হৃতিক ১ বছর ধরে কেন তাইলে মেইল জমা করছিল যখন সে বলেছে আমাকে সে চিনেই না, তাঁর বিরক্ত লাগলে কেন না সে আগেই এসব প্রকাশ করে নাই। আর এই মেইল দেয়ার জন্য ভারতের সব থেকে বড় ক্রিমিন্যাল ল’ইয়ার কে কেন হায়ার করা হলেও কোন প্রমাণ পাওয়া গেল না। এছাড়াও বেলন আমার এত সমস্যা জেনেও আমার জন্মদিনে কেন সে নেচেছিল বা আমার সাথে কেন ২টা মুভি সে করল?

তিনি আরো জানান আমাদের মধ্যে সম্পর্ক থাকা কালীন আমি তাকে যে ইমেল করেছিলাম উনি সেগুলো কপি পেস্ট করে সেই ফ্রড ইমেলের মধ্যে দিয়ে দিয়েছে আর দুনিয়ার মানুষের কাছে তা প্রকাশ করে দিয়েছে, যেহেতু আমি তাকে ভালবাসতাম এবং আমাকে সে এতটাই অপমান করেছে তাঁর এই অপমান আমার কাছে ২য় মৃত্যুর সমান। এবং কি কাঙ্গনা এও বলেন আমার পারসোনাল ছবি এবং ভিডিও যাতে সে পাবলিক না করে এই জন্য মার বোন রাঙ্গুলি “ওমেন কমিশনে” যায় সেখানকার মম্বাই প্রধান এত হাই প্রোফাইল কেস দেখে প্রথমে বলেন তারা সব দেখে নিবে কিন্তু পরবর্তীতে রাকেশ রোশনের অফিস থেকে ফোন আসে এবং তাদের মধ্যে বন্ধুত্ব আছে বলে জানা যায়। এরা সব্বাই টাকার কাছে বিক্রি হওয়া বলে তিনি জানান।

আপকি আদালত” অনুষ্ঠানে কাঙ্গনা আরো জানান মেয়েদের এসব বিষয়ে কখনো ভয় পাওয়া উচিত না তাদের অবশ্যই পুলিশের কাছে যাওয়া উচিত এবং অধিকার সম্পর্কে সচেতন হওয়া উচিত। পরিশেষে তিনি বলেন তাঁর জীবনের অনেক উত্তান পতন গিয়েছে অনেক অপমান হছেন কিন্তু তাঁর জিদ তাকে সামনে এগিয়ে নিয়ে গিয়েছে।

ইন্ডিয়া টিভির “ আপকি আদালত” অনুষ্ঠানে দেয়া কঙ্গনা রানাওয়াত  এই এক্সক্লুসিভ ইন্টার্ভিউ প্রমাণ করে যে তিনি শুধু অভিনয়েই কুইন নন, সাহস এবং নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য উনি যে সকল পদক্ষেপ নিয়েছেন তা আসলেও কুইন তথা রানীর মতনই।

সম্পাদনায়ঃ আনিকা সাবা