মুক্তধারা

কন্যা সর্বরুপে তুমি স্বার্থক

তুমি কন্যা, তুমি বাবা মার অতি আদরের,নয়নের মনি।পরিবার তোমার জন্মে কত কথা বলেছে। তবুও কন্যা তুমি পরিবারকে সাজিয়েছো তোমার মনের সৌন্দর্য দিয়ে। পরিবার যখন বলেছে মেয়েকে এতো মাথায় তুলোনা, অন্যের ঘরে যাবে সে ভাবে বড় করো। মা সাথে সাথে কথা ঘুরিয়ে নিয়েছেন যেনো ছোট্ট মনে কোন ছায়া না পরে। পরিবার বলেছে মেয়েকে এতো পড়ালিখা করানোর কি দরকার? মা সাহস দিয়ে বলেছেন ভেবোনা তুমি এগিয়ে যাও। স্বার্থক তোমার ছেলেবেলা। ভাই যখন তোমার খেলার সাথী ভাইকে কোন ভাবেই হারতে দিতে রাজি নয় তার বোন। খেলার ছলে মাটামারি তাতেও নিজে হারতে ভালো লাগে। কারন তুমি আদরের বোন।
ক্লান্ত বাবাকে এক গ্লাস পানি এগিয়ে দিতে গিয়ে বলতে ইচ্ছে করে “বাবা আমি এভাবেই তোমার পাশে রবো যতো দূরেই থাকি না কেনো”,কারন তুমি কোমল হৃদয়ীণী, বাবার রাজকন্যা। কন্যা তুমি যখন ষোড়শী, শকুনের দলের লুলোপ দৃষ্টি তোমার কোমল হৃদয় ক্ষত- বিক্ষত করেছে, মনে পরে কত জ্বালিয়েছিলো ওরা? সব নিরবে পিছনে ফেলে এগিয়েছো সামনে।এই নিরবতার অর্থ সহমত ভেবে নিওনা তোমরা ।এ নিরবতা পুরো নারী জাতীর সহন ক্ষমতা আর ধৈয্যের প্রকাশ। নির্বোধ তাই তোমরা বোঝনা।
কন্যা যখন তুমি প্রেমিকা, কত ভালোবাসায় তাকে জড়াতে চেয়েছিলে।ভালোবেসেছিলে তো মন প্রান উজাড় করে। আর পুরুষ তুমি করেছো সে মন নিয়ে খেলা আর দিয়েছো প্রতারণা । ভালোবাসা কিন্তু তখনও মরে যায় নি। ঠিক আগের মতোই আছে। আর কখনও যদি সেই ভালোবাসা নামের সোনার হরিন হাতে ও এসেছে, কটা বছর তার পর সুখ পাখি হয়ে উড়ে গেছে জানালা দিয়ে। যেদিন পুরুষ তোমার ভালোবাসার উষ্ণ হাত নির্দয় হয়ে এগিয়ে এসেছিলো ভেবোনা কন্যার নরম হাতে তোমাকে থামিয়ে দেওয়ার সাহস বা শক্তি ছিলোনা। শুধু সে ভেবেছিলো এটা কোন যুদ্ধক্ষেত্র নয় যে শক্তি প্রদর্শন করতে হবে,এটা ভালোবাসায় গড়া নীড়। তাই তো সব মানিয়ে নিতে হয়েছে, কারন কন্যা তুমি এখন কারো স্ত্রী কোন বাড়ির বৌ। যত্ন ভালোবাসায় সংসারটাকে আগলিয়ে রাখার অপর এক নাম। হঠাৎ নিজের মাঝে অন্যের উপস্থিতি টের পেয়ে আনন্দে আত্মহারা। সন্তানের মুখ দেখবার জন্য অধীর, প্রতিটা দিন প্রতিটা মিনিট যেনো নতুন নতুন অনুভূতি, সন্তান জন্মের সময় বুঝেছে সে, “মা “কি? এটা এক অনুভূতি,যা কন্যা শুধু তুমিই পেতে পারো। । যেদিন সন্তানের মুখে মা ডাক শুনে আনন্দে চোখ ভিজে গিয়েছিলো কন্যা সেদিন তোমার জীবন ধন্য হয়েছিলো আর মনে হয়েছিলো “বারবার কন্যা হয়েই জন্ম নিতে চাই”।
কন্যা আজ তুমি শাশুড়ি হতে যাচ্ছো। মনে মনে ঠিক করে রেখেছো তুমি যা পেয়েছো তা তুমি দিতে চাওনা আর যা চেয়েও পাওনি তা আজ প্রান ভরে দিতে চাও। আজ তুমি মা নয় বান্ধবী হতে চাও।নিজেদের কষ্ট,ভালো লাগা না লাগা গুলো বৌ- শাশুড়িতে ভাগাভাগি করে নিতে চাও। তবে শুধু তুমি চাইলেই তো হবেনা আর অতীতেও তা হয়নি, তাইতো ছেলের শখের গোলাপ বাগানে পুরোনো বৃক্ষের জায়গা হয়নি। তুমি তো তা আগেই বুঝেছিলে যেদিন বাবার বাড়ি থেকে স্বমীর বাড়ি, তারপর ছেলের বাড়তে তোমার একটা ঘর মিলেছিলো,বাড়ি নয়। চার শয্যার ছোট্ট ঘরে, দরজার পাশের বিছানায় বসে এখনো ভাবো গুটি গুটি পায়ে যখন ছেলে মেয়েরা পুরো বাড়ি ঘুরে বেড়াতো তুমি মুগ্ধ হয়ে দেখতে, সন্তানদের একটু শরীর খারাপেই কতটা ভাবনায় পরে যেতে। আজও ওদের হাসির শব্দ কানে বাজে। ভালো থাকুক ওরা ওদের নতুন করে সাজানো বাগানে এটাই তো তোমার চাওয়া কারন মায়া, মমতা,স্নেহ, ভালোবাসায় ভরা কন্যা হৃদয় যেটা শুধু সময়ের সাথে সাথে কখনও কন্যা কখনও বোন, কখনও প্রেমিকা, স্ত্রী, মা রুপে তার রুপ পাল্টিয়েছে। তাই তো কন্যা আজ সর্বরুপে তুমি স্বার্থক করেছো তোমার জন্ম।

লিখেছেন : সাজিয়া আফরিন 

লেখিকার আরো অন্যান্য লেখা পরুনঃ হুতুমপেঁচা ম্যাগাজিন -এ।