মুক্তধারা

মূর্খ শিক্ষিত

আমি শিক্ষিত সমাজের শিক্ষিত মানুষ
যে এই ৩০ বছরে কারো উপকার করেনি,
কারো বিপদে পাশে থাকেনি,
বিপদের গল্প শুনেছি,কখনো চোক্ষে দেখেছি
কিন্তু কারো পাশে গিয়ে দাড়াইনি,
কখনো কখনো মায়ার ভাবের মনে চোখের পানি ফেলেছি,
কিন্তু কারো পাশে গিয়ে দাড়াইনি।
দেখেছি কোনো এক বধূ স্বামীর হাতে মার খাচ্ছে,
কিন্তু সেই বধূর পাশে দাড়াইনি।
দেখেছি কোনো এক শিশু ক্ষুধার জ্বালায় মায়ের আচঁল ধরে সারামুখে অশ্রুসিক্ত হয়ে চিৎকার কান্না,
কিন্তু সে শিশুর মুখে একবারের জন্য হলেও খাবার তুলে দেইনি।
দেখেছি রাস্তার ধারে ময়লার বস্ত্র আবরণে জীবন্ত শরীল নিয়ে রাস্তায় পরে ভিক্ষে করতে,
সেই ভিক্ষুকের কাছে ছিলো রাতদিন সমান,
রাস্তায় কষ্টের ক্লান্তে শুয়ে ভিক্ষে করতে,
তাকে আমি একরাত আমার বাসার ছাদের নিচে ঘুমাতে দেইনি,
দেইনি তাকে একদিন আশ্রয়।
এই ৩০ বছরে আমি একটি ভালো কাজ করিনি।
আমার এই লেখা,
এই কলমের ভাষা,
তাদের কাছে হাসির মেলা।
কারন এই লেখা লিখলে কি হবে,
আমি তো তাদের পাশে কখনো দাড়াইনি।
তাইতো তাদের সামনে গিয়ে এ লেখা পড়তে পারবো না,
আমার এই লেখা নিয়ে তাদের সামনে দাড়াতে অনেক লজ্জা।
কারন আমি এই ৩০ বছরে একবারের জন্য তাদের বন্ধু হয়ে পাশে থাকিনি।
অনেক গল্প শুনি, দেখি বা পড়ি,
কিন্তু তাদের পাশে একটি বারের জন্য দাড়াইনি।
একদিনের জন্যও তাদের বন্ধু হইনি।
এই ৩০ বছরে একটি ভালো কাজ আমি করিনি।
তাদের বিপদে পাশে আমি কখনো দাড়াইনি।
আমি এই শিক্ষিত সমাজের শিক্ষিত মানুষ
শিক্ষার সার্টিফিকেট আমার আছে,
কিন্তু মানুষ হতে পারিনি আমি।
মানুষ হয়ে মানুষের পাশে দাড়াইনি কখনো।
এই ৩০ বছরে শুধু একবার,শুধু একবার,
কারো পাশেই দাড়াইনি।
আমি হাজারো শিক্ষিত মানুষের মাঝে সেই জন
যে এই ৩০ বছরে একবার কারো পাশে দাড়াইনি।

লিখেছেনঃ জিলফিকা বেগম জুঁই

আমাদের আরো অন্যন্য কবিতা পড়ুনঃ হুতুমপেঁচা -তে।