মুক্তধারা

আমি মুগ্ধ তাকে দেখে- অমর নায়ক সালমান শাহ্‌

আমার খালাতো বোন বললো: একটা সিনেমা দেখলাম খুব সুন্দর, কেয়ামত থেকে কেয়ামত। দেখেছিস?
বললাম না। সে বললো চল দেখে আসি। আম্মু কিছুতেই যেতে দিবেনা, শেষে খালা বললো আমি সাথে নিয়ে যাবো, কোন সমস্যা নাই। আমরা দেখতে গেলাম।

ভীষন ভীর, টিকিট পাওয়া যাচ্ছে না।অনেক চেষ্টার পর টিকিট পেলাম আমরা। কি দেখলাম কি বুঝলাম জানিনা ফিরে এলাম একজনকে মনে নিয়ে সে সালমান শাহ্।শয়নে স্বপনে শুধু সালমান । আমি মুগ্ধ তাকে দেখে। খালি আমি না সে সময় এমন কোন ছেলে বা মেয়ে নেই যাদের হার্টথ্রব সালমান শাহ্ না। সালমানের অভিনীত সিনেমা মানে সেটা ব্যবসা সফল। সব শ্রেনীর দর্শকের মন জয় করে নিয়েছিলো তার প্রথম অভীনিত ছবি দিয়েই।

পেপারে তার ছবি, পোষ্ট কার্ড, তখন ভিও কার্ড সব কিছুতে সালমান। সালমানে কে নিয়ে লিখা, কার্ড,ভিউ কার্ড যা পাওয়া যেতো, সেগুলো কে কতটা জমাতে পারে সেরকম একটা প্রতিযোগীতা হতো আমাদের বান্ধবীদের মধ্যে। সংগ্রহ করা কার্ড গুলো এখনও আছে বহাল তবিয়তে। কিন্তু হঠাৎ তার মৃত্যুর খবরে আমার ছোট্ট মন বড় কষ্ট পেয়েছিলো।

শুধু আমি না দেশের প্রতিটা মানুষ সেদিন কষ্ট পেয়েছিলো। কেউ মেনে নিতে পারেনি তার আত্মহত্যার খবর। চারদিক থেকে শুনছিলাম অনেকে তার মৃত্যুর খবরে আত্মহত্যাও করেছে। পুরো ফ্লিম ইন্ডাস্ট্রি যেনো থমকে গিয়েছিলো, হলগুলো দর্শক শূন্য হয়ে পরেছিলো।

আমাদের সময় প্রতিটা মেয়ের প্রথম প্রেম সালমান শাহ্,আর ছেলেদের আইডল। সব ছেলেরা সালমান শাহর মতো করে পোষাক পরতে পছন্দ করতো। হাল ফ্যাশন মানে সালমান শাহ্ যা পরেছে-সালমানের সানগ্লাস,সালমানের টুপি, সব। একবার একটা রুমাল বাধলো সালমান তার মাথায় ব্যাস সে ফ্যাশন চলেছে বহু বছর বিনা বাক্যে।

সালমান যেভাবে সবার মাঝে নিজের জায়গা করে নিয়েছিলো আর এখনও নিয়ে আছে সেটা আর কেউ এখন পর্যন্ত পারে নি। তাই তার মৃত্যু এখনও মেনে নিতে কষ্ট হয় সবার। এবং সবচেয়ে অবাক করা বিষয় হচ্ছে এযুগের ছেলে মেয়েরা যারা বাংলা সিনেমা বললে মুখ ফিরিয়ে চলে যায় তারাও তাকে চেনে,আর তার পোষাক,বাচন ভঙ্গি, স্মার্টনেস নিয়ে কথা বলে।

লিখেছেন : সাজিয়া আফরিন 

লেখিকার আরো অন্যান্য লেখা পরুনঃ হুতুমপেঁচা ম্যাগাজিন -এ।