মুক্তধারা

“আফ্রোদিতি, নেফ্রোদিতি আর দিমিত্রির”- বাবা শুনছো?

হুম্ম তুমি কি শুনতে পাচ্ছো? জ্বি জনাব আমি তোমাকেই বলছি, আমি জানিই না তুমি কোন চুলায় বসে আছো?পৃথিবীর কোন প্রান্তে বসে  আমার মত দেশ উদ্ধার করছো? আসলেই তুমি কি জন্মাইসো আমি তাও জানি না – একদম হাসবা না। তোমার খরগোশের মত দাঁত বের করা হাসি আমার সহ্য হয় না।

এইবার শুনো তোমাকে তো আর আমি চায়নাতে ওর্ডার করতে পারবো না আর আমার এত টাকাও নাই যে তোমাকে কিনতে পারবো। আমি তোমাকে কেমন কেমন চাই আজ তোমাকে সেটাই জানাবো। দাঁত বের করবা না, শুধুমাত্র আমার কুমড়োর বিচির মত দাঁত গুলোই বের হবে আর কারো না। এইবার মনোযোগ দিয়ে শুনো তোমাকে লম্বা হইতে হবে কারণ আমি ছোটখাটো মানুষ আমাকে যেহেতু তোমার প্রায় কোলে নিয়ে ঘুরতে হবে তাই তোমাকে লম্বা হইতেই হবে। তোমার মাথাভর্তি কালো লম্বা চুল থাকবে আমি ঝুটি করে দিবো, চশমা পড়তে হবে আর অবশ্যই তোমার নাক খাড়া হতে হবে। আমি আবার খাড়া নাক অনেক পছন্দ করি। আর হুম তোমাকে চকলেট কালারের গায়ের রঙের অধিকারী হতে হবে এই রঙটা সম্ভাবত মাটি মাটি কালার। রঙ নিয়ে তামাশা করবা না আমি কিন্তু সিরিয়াস।

আর শুনো তোমাকে কুকুর ভালবাসতেই হবে কারণ আমি আমার এক্সের নামে কুকুর পালব, চিল্লাবানা একদম না গলায় কামড় দিয়ে দিবো। আর আমাকে কখনো বকা দিবা না একদম না-মানে না। আদর যত্ন করে রাখবা। সকালে ঘুম থেকে উঠে নাস্তা বানায় খাওয়াবা এই একবেলা তোমাকেই রান্না করতে হবে কারণ – রোম জয় করা সহজ কিন্তু সক্কালে ঘুম থেকে উঠা আমার জন্য না। এরপর আরো কথা আছে তুমি কিন্তু আমাকে রান্নার কাজে সাহায্য করবাই করবা , আমি কোন বুয়া রাখতে পারবো না তুমি সপ্তাহের শেষে আমার সাথে কাপড় ধুবে, আর বাথরুমটা তুমি নিজেই ধুবে। চিৎকার করোনা কারণ আমার মত পাগলী কোথাও আর পাবে না। ভেবে দেইখো! আর আমাকে যদি রাগাইসো তোমার টুথব্রাশ দিয়ে বেসিন পরিষ্কার করে আসবো। হুম।

আর হ্যাঁ বাবুদেরকে তুমিই সামলাবে, আমার কিন্তু যমজ মেয়ে চাই না দিতে পারলে তুমি ওদের নিয়েই থাকবা আমি নাই এসবের ভেতর। আর আমার ঘুমানোর ঘর আমার একার হবে আমাকে ঘুম পারায় এরপর তুমি যাবা। ও হ্যাঁ তুমি আমার পাশের রুমেই থাকবা বাবুদের নিয়ে। ভাবতেছো এত দজ্জাল বউকে নিয়ে কিভাবে থাকবা? থাকতেই হবে কারণ তুমিই আমার কুটুশ পুটুশ হবা।আর শোন আমি কখন কি জামা পরবো আর আমাকে কেমন লাগচ্ছে সেটা আমাকে জানাবা, আমার অনেক অনেক ছবি তুলে দিবা, আমাকে নিয়ে মুভি দেখতে যাবা এসব তো করবাই।

এখন বলি আমি কি করবো তোমার জন্য- আমি তোমার মাথায় তেল দিয়ে দিবো, তোমাকে রান্না করে দিবো, তোমার হাতে করে খাবার খাবো, তোমার কোলে ঘুমাবো, জার্নি করার সময় একটুকু নড়তে দিবো না কারণ তোমার কাঁধে আমি ঘুমাবো।তোমাকে নিয়ে সুমুদ্র দেখতে যাবো নীল জলরাশির মাঝে তোমাকে নিয়ে সাগরের তীরে বসে থাকবো। কারণ আমি সাঁতার পারি না। তোমাকে মাঝে মাঝে গিটার বাজায় শুনাবো, তোমার সাথে তারা ভরা রাতের আকাশে ছাদে গিয়ে প্ল্যানচেট করবো, ইচ্ছেমত শাড়ি পড়ে হাতে বেলুন বেঁধে ঘুরবো। রাস্তার সকল খাবার টেস্ট করবো আর “যেখানেই দেখিবে কাবাব সেখানেই করিবে হামলা” -এইটা মনে যেন থাকে। তোমাকে মাঝে মাঝে চিরুকুট লিখবো, তোমাকে জানাবো আমি তোমাকে কত্ত ভালোবাসি। তুমি হবে আমার কান্না করার সাথী। ও ভুলে যেও না আমি কিন্তু তোমার কোলেই ঘুমাবো। তোমাকে নিয়ে হাত ধরে খালি পায়ে ঘাসের উপরে হাঁটবো, পাহাড়ের ঝর্নাতেও গোসল তোমার সাথেই করবো।আচ্ছা যদি কখনো ধাক্কা টাক্কা মেরে বসি তুমি ভয় পেওনা কিন্তু।

এখন তুমি যেখানেই আছো সেখানেই থাকো, অহহহ তোমাকে তো বলতেই ভুলে গেছি আমার ছোটবেলার ক্রাশদের কথা –ফেলুদাকে নিয়ে কিচ্ছু বলবা না , আর সালমান খান আমার অল্টাইম ক্রাশ। আমার কিন্তু অকেই বিয়ে করার কথা ছিল কিন্তু সে ধীরে ধীরে বুড়ো হয়ে যাচ্ছে তো তাই তোমাকে খুঁজে বেড়াচ্ছি। এখন তুমি তো সব জানলে তাই তাড়াতাড়ি চলে আসো।

তবে তাড়াতাড়ি আসার দরকার নাই ৩ বছর পরেই আসো আগে আমি একটা ভাল চাকরী পেয়ে নেই,না হলে তোমাকে রাখবো কই? এরমধ্যে পারলে তুমি রান্নাটা শিখে নিও। এমন আর কি বেশি চাইসি বলো? গাড়ি বাড়ি টাকা পয়সা কিছুই চাই না খালি তুমি আমাকে কেতু যত্ন করে রেখো আর ভাল ভাল খাবার রান্না করে খাওয়াবে এটাই তো চাইসি, আর বাবুদের দেখা-শোনা করবে, ব্যস। এখন চোখ মুছে নাও বেশি আবেগী হওটা ভাল না। ভাল থেকো আর কম মেয়ে বান্ধুবি বানাও।

ইতি

তোমার

“আফ্রোদিতি, নেফ্রোদিতি ও দিমিত্রির”- মা

 

লিখেছেনঃ আনিকা সাবা