মুক্তধারা

মিসেস শাহিদা বেগম (পর্ব-১)

আমাদের বাসায় একজন মানুষ আছেন যার নাম মিসেস শাহিদা বেগম।তিনি মো: শাহ্‌আলম এর স্ত্রী।যাকে অনেক সময় আমরা ডোরেমন বলেও ডাকি।
বাসায় যাই ঘটুক দিন শেষে স্বামিকে তার সারাদিন এ কি কি তিনি দেখেছেন,যা তিনি সহ্য করেছেন ( তার ছেলে-মেয়ের অত্যাচার) উপসংহার সহ জানাতে হবে।কারন, তিনি কথা বলতে খুব বেশী পছন্দ করেন।তার কথা বলতে থাকার প্রধান কারন হচ্ছে, কম কথা বললে তার দম বন্ধ হয়ে আসে।তাই,ওনার স্বামি হচ্ছে ওনার অক্সিজেন। তার ছেলে-মেয়ে কেউ তার কথা শুনেনা।উনি যেমন কথা বলতে ভালোবাসেন তেমনি হাসতেও খুব ভালোবাসেন।তাই তার হাসিমাখা মুখ খানি আমার সব চাইতে বেশী পছন্দ।কারন,তখন যা চাই তাই পাওয়া যায় কিন্তু, তিনি যখন রেগে যান আমার খুব কষ্ট হয়, খুব কান্না পায় তিনি তখন দিকবদিক জ্ঞানশুন্য হয়ে পরেন,কিন্তু সেই্টা বেশীক্ষণ থাকে না।

মানুষকে খুব ভালোবাসেন।মাঝে মাঝে মনে হয় আদর করতে করতে গিলে ফেলি , উনি যদিও উনার মেয়ের থেকে উনার ছেলেকে বেশি প্রাধান্য দেন। এক কথায় ছেলে বলতে অন্ধ। মেয়েটাও তার অনেক আপন।অনেক সুখ-দুখের কথা যা ছেলের সাথে বলা যায়না বা খুটিনাটি অনেক কিছু উনি বলেন উনার মেয়ের সাথে।মায়ে উনার অনেক ভালো বান্ধবি। মিসেস শাহিদা মেয়ের সাথে সব জায়গাতে যান।কিন্তু,উনার ছেলে উনাকে নিয়ে ঘুরতে গেলে আহল্লাদে একেবারে আটখানা হয়ে যান।উনি আর কেউ নন উনি যে আমার পরম মমতাময়ী “মা”।

অনেক সময় অনেক কিছু খেতে ইচ্ছে হয়,তা সব সময় মা কে বলা হয়না।কিন্তু, মা যেনো কি করে বুঝে ফেলে চট করেই হাজির হয়ে চোখের সামনে খাবার নিয়ে।’’মা” আর আমি অনেক ঘুরি অনেক… দুজন মিলে পারলে সারাদিন ঘুরে বেরাই.. আর সব পছন্দের খাবার গুলো খাই যেমন ঝাল মুরি,ফুচকা,বাদাম।কখনো কখনো দুজনে কোথাও বসে বসে মানুষের তা্মাশা দেখি।আবার কখনো কখনো মানুষের খিল্লি উরাই।আমার মা তার বয়স এর তুলনায় আবার আমার তুলনায় দেখতে অনেক ইয়াং এবং স্মার্ট।

তিনটি প্যারা / তিন হাজার প্যারা / হাজার হাজার লাইন লিখেও মায়ের কথা বলে শেষ করা যাবেনা। “মা” শব্দটি উচ্চারণ করা অনেক সহজ কিন্তু এর মর্ম সবাই বুঝেনা।আমি আমার মা-বাবা দুজন কেই অনেক অনেক অনেক বেশি ভালোবাসি। আল্লাহর কাছে অনেক অনেক শুকরিয়া আমার মাথার উপর মা-বাবার ছায়া এখন ও বিদ্যমান।

লিখেছেনঃ ফারজানা জেনি