মুক্তধারা

মেয়েদের সচেতন হতে হবে

অপু বিশ্বাস আমাদের মনে করিয়ে দিল মেয়েরা যে অবস্থানেই থাকুক না কেন সে পুরুষের হাতের পুতুল। মজাটা নিয়ে মেয়েদের বেশ্যা আর মাগী হিসেবে সমাজে পরিচিত করিয়ে দেয়াই হচ্ছে পুরুষ সমাজের কাজ। ছেলেরা প্রেমিকাকে যা ইচ্ছা প্রস্তাব দিতে পারবে ওটা কেউ বলবে না। বলবে তখনই যখন মেয়েটা মুখ খুলল। কমন একটা কথা বলা হয় মেয়েরা না দিলে নাকি কোন পুরুষ এমনটা করতে পারে না। এই কথার সাথে আমিও একমত। তাইতো কেন আবেগের কাছে বারবার নিজেকে হারিয়ে ফেলা! মেয়েরা কবে সচেতন হবে! একজন মেয়েকে বেশ্যা বলা হলে সেটা যে অন্য মেয়েদের জন্যও লজ্জার।

সেদিন এক ছেলেকে বলতে শুনলাম এখন নাকি প্রেম শারীরিক সম্পর্ক ছাড়া টিকে না!  আমার কথা হচ্ছে না টিকুক। এমন সম্পর্কের কি দরকার! যে ছেলেটি মেয়ে তোর সম্মান নষ্ট করতে চাইছে তাকে কেন তুই ধরে রাখবি? জীবনে কি ওই একটি ছেলেই তোর সব কিছু? সে কি তোর পতি? তার জন্য নিজের সব কিছু বিলাতে হবে! মেয়েদের মনে রাখা উচিত যদি এমন অবৈধ সম্পর্কে জড়িয়ে যাস তাহলে তোর নিয়তি খারাপই হবে।

দুই তিন বছর বা তার আগে আমার এক বান্ধুবির একটা ব্লগ পড়েছিলাম। তার প্রেমিক তার সাথে ব্রেকআপ করেছিল, কারন  সে তার কুপ্রস্তাবে রাজি হয়নি বলে। আমার বান্ধুবীটি চাইলে নিজেকে বিসর্জন দিতে পারতো। কিন্তু সে তা করেনি। একটি বুদ্ধিমতি মেয়ের পরিচয় দিয়েছে। আমার সেই বান্ধুবীটি আজ জীবনে একজন সুখী মানুষ হিসেবেই দেখছি। তার উপযুক্ত একজনের সাথে বিয়ে হয়েছে। তার সেই প্রেমিক কখনই তার উপযুক্ত ছিল না।

মেয়েরা বলে রাখছি যে ছেলে তোর কাছে শারীরিক সম্পর্ক চাইবে সে কখনই তোকে ভালবাসে না অথবা সে তোর উপযুক্ত নয়। আমার এই লেখাটি তাদের জন্য যারা সম্পর্কে জড়িয়েছে অথবা ভবিষ্যতে জড়াবে। একটা কথাই মনে রাখতে হবে ভাল ছেলে কখন তোমাকে বিছানায় নিবে না। কোন ছেলে যদি এমন প্রস্তাব দেয় কোনভাবেই সাড়া দেয়া চলবে না। এখন প্রেম টিকুক আর না টিকুক।

আরেকটা ইস্যু হচ্ছে লুকিয়ে বিয়ে করা। এমন অহরহ ঘটনা ঘটছে ছেলেরা লুকিয়ে বিয়ে করছে শুধুমাত্র শারীরিক সম্পর্কের জন্য। দেখা যায় কদিন বা কয়বছর পর বা মেয়েটি প্রেগন্যান্ট হলেই ছেলেদের টালবাহানা শুরু হয়ে যায়। এসব পরিস্থিতিতে এখন অনেক মেয়েই পড়ছে। যেসব মেয়েরা বিয়ের আগে শারীরিক সম্পর্ক করতে চায় না বা যাদের বিছানায় নেয়া সম্ভব হচ্ছে না তাদের জন্য এই ফাঁদ। এসব ছেলেরা বিয়ে করার নাম করে ভোগ করে যাবে কিন্তু সামাজিকভাবে কোন কিছুতে আগ্রহ দেখাবে না। এই ঝামেলা থেকে মেয়েদের বাঁচার উপায় লুকিয়ে বিয়ে থেকে দূরে থাকা।

হ্যাঁ, এর মাঝে সত্যিকারের প্রেমিক আছে। আমার কথা হচ্ছে আমার কোন দরকার নেই নিজেকে বিপদে ফেলে ভালবাসার পরীক্ষা করা। আমি সুস্থ্য সম্পর্ক করবো এটাই হচ্ছে মূল কথা। মেয়েরা আবেগের প্রশ্রয় দিবে না। নিয়মিত ধর্মীয় চর্চা অনেক বিপদ থেকে রক্ষা করতে পারবে। নিজেকে সম্মান করতে শিখাটা অনেক জরুরি।  আমি নিজে কি চাই সেটাকে গুরুত্ব দিতে হবে। নিজের সম্মান নষ্ট হবে এমন কাজ করা যাবে না। বাবা মা কে ভালবাস।

আজকের অপু আমাদের মেয়েদের বুঝিয়ে দিল মেয়ে তুমি আর যাই করো কখনো নিজেকে হারিয়ে ফেল না। কারন যার ভালবাসার জন্য এতো কিছু করছো সে তার মর্যাদা নাও দিতে পারে। ভবিষ্যতে কি হতে পারে আমরা তা কেউ জানি না।

লিখেছেনঃ আনিকা ইসলাম  মৌরী