হুতুমপেঁচা বলছি

সমাজের ছেলেরা এবং আমার সকল প্রশ্ন (পর্ব-১)

একটা মজার ব্যাপার হল আমার নামের সাথে একটা তকমা আছে আমি নারীবাদী কিন্তু আমি মটেও নারী বাদী নই।আমার সমস্যাহল, আমি পুরুষদের বহুরূপী মানুসিকতাটা একদম পছন্দ করি না। আমাদের পুরুষদের ছোটবেলা থেকেই একটা অদ্ভুত আগ্রহ নিয়ে বড় হয় আর তা হল মেয়েদের যৌনাঙ্গ নিয়ে তাদের অতীব কৌতূহল আর তার সাথে  মেয়েদের অন্তবাস আর প্রসাধনী। আমি আজ পর্যন্ত বুঝতে পারিনা মেয়েদের অন্তবাস নিয়ে তাদের এত মজা পাবার বা কৌতূহল হবার কারণ কি? এই অন্তবাসের মধ্যে তারা কি এমন দেখতে পায়?আবার মেয়েদের প্রসাধনীর কথায় আসি মেয়েদের প্রসাধনী মাখা নিয়ে তাদের বিদ্রূপের কোন সীমা নেই আবার সখ করে ভালবাসার মানুষের জন্য টাকা বাচায় সুন্দর এবং দামি প্রসাধনী কিনে দিতে তাদের আনন্দের সীমাও থাকে না তাইলে এই প্রসাধনী মাখা নিয়ে নিজের আপনজন ব্যাতিত অন্যদেরকে নিয়ে বাজে মন্তব্য করতে আপনাদের কেন এত ভাল লাগে?

প্রসাধনীর কথায় একটা মজার কথা বলি আমি কিছুদিন আগে একটি ব্ল্যাক মাক্স সম্পর্কে জানতে চাই ফেইসবুকের একটি বেশ জনপ্রিয় গ্রুপে। যেখানে অনেকেই সাহায্যের জন্য কমেন্ট করেন অনেকে আবার আমার নিজের কাছেই জানতে চান তাদের মধ্যে কোথা থেকে একজন এসে বললেন আমাকে ম্যনহলের ময়লা মুখে মাখতে সেই কমেন্টে আবার ৪ জন লাইক দিল –আমি কিছু বলি নাই কারণ যে কমেন্ট করেছে এবং যারা কমেন্টে  লাইক দিয়েছেন তাদের কাছে হয়ত জাস্ট ফান বা সারকাজম বলে মনে হয়েছে কিন্তু আমাদের কাছে তাদের সম্পর্কে কি ধারনা হয়েছে তা বলতে গেলে তাদের পুরুষত্বতে আবার আঘাত আসবে।

এইবার আসি আরেকটা মজার কথায়। আমার কুকুর খুব প্রিয় একটি প্রাণী এছাড়াও আমার পাখি অনেক ভাল লাগে। মূলত আমি পশুপাখি অনেক পছন্দ করি। আমি কুকুর ভালবাসি এই নিয়েও অনেক ছেলেদের অনেক রকম কথা অনেকের মতে মানুষ কে কেন ভালবাসি না, কেন কুকুর ভালবাসি? আমার সব থেকে বেশি হাসি পায় এই ভেবে কুকুর তো একটা পালিত প্রাণী বিশেষ তাকে ভালবাসা আর একটা মানুষকে ভালোবাসা কি এক? কেন কুকুর আর মানুষকে(পড়ুন পুরুষ মানুষকে) সমান করে দেয়া হয়। আরও মজার ব্যাপার হল বিয়ে না করা । বিয়ে করি না কেন কুকুর কেন পালি বা পালতে চাই এই নিয়ে এত বেশি জল্পনা কল্পনা যে একজন আমাকে বলেছে আমি ভবিষ্যতের সাহারা খাতুন হয়ে যাব। যদিও আমি এতটুকুই জানি যে সাহারা খাতুন একজন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব আর যেহেতু রাজনীতি করেন তার মানে তিনি অনেক ক্ষমতাধর সুতরাং তার মত হতে আমার কোন সমস্যা নাই বরং আমি খুশিই হবো। এখন আমার প্রশ্ন হচ্ছে বিদেশে সবারই কম বেশি একটা কুকুর বা অন্য কোন পোষা প্রাণী থাকে তাহলে আমাদের থাকতে সমস্যা কি? আর অনেকেই তো বিয়ে না করে জীবন কাটায় তাহলে কুকুর পালা আর বিয়ে করা কে এক করে ফেলে কেন?

এইবার আসি আমাদের জাতীয় সমস্যা নিয়ে । যে কোন বাসে মেয়েদের জন্য কিছু সিট থাকে আপনি যখনই বাসে উঠেন না কেন দেখবেন কিছু “পুরুষ”(পরুন বুদ্ধি প্রতিবন্ধী) সেখানে বসে আছে। অনেকেই আছেন ভদ্র যারা কোন মেয়ে উঠেছে দেখলে আগের থেকেই সিট ছেড়ে দেয় আবার বেশিরভাগ আছে সিট থেকে চিল্লায় “ধুর বাল” একটা মহিলা মানুষ উঠছে সিট ছাড়তে হবে, আবার আরেক প্রজাতি আছে মেয়েরা উঠে গিয়ে বললে যে সিট ছাড়ুন এইটা মহিলা সিট তারা –“তাই নাকি??” বলে একটা চুকচুক আওয়াজ করে , আমার মাঝে মাঝে মনে হয় তাদের সেই চেহারাটা ছবি তুলে বা ভিডিও করে দেখাই যে তাদের দেখতে তখন কেমন লাগে তাহলে সম্ভাবত তারা বুঝতে  পারত যে পুরুষ মানুষ হলেও তাদের দেখতে কেন জানোয়ারের মত লাগে। এরপর আসি আরেক জাতের পুরুষের কথায় তারা সিট থেকে উঠেও গালাগালি করে তাদের একটাই কথা পুরুষ সিট তাইলে কোনটা? কেন তাকে উঠানো হল ইত্যাদি ইত্যাদি। আমি আসলেই চাই এই ধরনের পুরুষ মানুষদের জন্য মেয়েদের মাঝে বসার ব্যবস্থা করা হোক কারণ আমার মতে তারা নারীদের সাথে থাকতেই নিরাপদ বোধ করেন পুরুষদের সাথে পুরুষ আসনে বসতে বা তাদের সাথে দাঁড়াতে ভয় পায়। না হলে মাত্র ৯টা সিটের দখল করা তাদের কাছে পুরুষত্ব রক্ষার মত হয়ে যায় কেন?

বাসে আরেকটা মজার ব্যাপার হচ্ছে দাড়িয়ে থাকা মেয়েদের গায়ে হাত বুলানো অথবা তাদের শরীরের বিভিন্ন অংশে ছুঁয়ে দেখা। আমার প্রশ্ন হচ্ছে এতে কি আনন্দ হয়? মেয়েদের ছুঁয়ে দিলেই কি পুরুষদের শারীরিক প্রয়োজনীয়তা মিটে যায়? যদি এত অল্পতেই হয় তাইলে কি তাদের জন্ম দেবার ক্ষমতা থাকে? নাকি তাদের শারীরিক অক্ষমতার জন্য তারা বাসে চড়ে ঘুরে ঘুরে বেড়ায় ছোঁয়াছুঁয়ি খেলার জন্য? এখন তো আবার নতুন একটা ট্রেন্ড এসেছে কোন মেয়ে ভাল লাগল ছুঁয়ে দিতে পারছে না তার গায়ে “থুথু” মেরে দিচ্ছে এমন ভাবে যেন আস্ত একটা মেয়ে কে সে দেখেই নাই একদম অদৃশ্য ছিল আর এই থুথু মেরে দিলে যেন একদম বীর্যপাতের সুখলাভ করলেন।

ধর্মীয়মত অধিক জানেন কিন্তু ধর্ম পালন করতে নারাজ প্রজাতি পুরুষদের কথায় আসি, তাদের কাছে মেয়েদের ওড়না সরে যাওয়া একটি গুরুত্বর অপরাধ এতে তাদের মতে মেয়েরা যৌন আহবান জানিয়ে দেয়। তারা হিজাবের পক্ষে, এবং তারা মেয়েরা বাইরে বের হওয়া মানেই গনিমতির মাল হয়ে যাওয়া মনে করে। আমার প্রশ্ন হচ্ছে তারা নিজেরা কেন ইসলামী পোশাক পরেন না? নামাজ কেন মসজিদে পরেন না? আবার ইসলামে ছেলেদের যে দৃষ্টি সংযত রাখতে বলা হয়েছে তা কেন করেন না? বাইরে মেয়ে বের হলেই গনিমতির মাল হয়ে যায় তাদের নিয়ে যা ইচ্ছা করা যায় তবে তারা কেন তাদের মা বোনদের জন্য সেই মেয়েদের শিক্ষক হিসাবে রাখেন? অথবা সেই সব মহিলা ডাক্তারদের কাছেই বা নিয়ে যান কেন? আর হিজাব পরলেও কেন ছোঁয়াছুঁয়ি খেলতে থাকেন? হিজাব বা পোশাকের কথাতে মনে পড়ল এইসব পুরুষেরা কিন্তু আবার ছোট ছোট মেয়েরাও ওড়না না পড়লে তাতেও তাদের যৌন উত্তেজনা সৃষ্টি হয় এবং তারা মনের ভুলেই বাচ্চা মেয়েগুলোর উপরে ঝাঁপিয়ে পরে।

আজকের জন্য আর বেশি কিছু লিখতে ইচ্ছে হচ্ছে না, জানি এই লেখা পরার পড়ে অনেক পুরুষের পুরুষত্বের গায়ে লেগে যাবে, একবার ফেবুতে এক ডাক্তারের কমেন্ট পড়েছিলাম যে –“সব চিন্তাই পুরুষেরা বিচির নিচ দিয়ে করে” । আমি এমন পুরুষ নই আমাকে এই কথা বলতে না এসে আপনার আশেপাশে যেসব পুরুষরা এসব করে তাদের কে বরং ভাল হতে সেখান। নিজের পুত্র সন্তানকে সেখান কিভাবে মেয়েদের প্রতি সম্মান দেখাবে। আর কেন এই কাজ করবেন জানেন? কারণ যেভাবে মেয়েরা ছোটবেলা থেকে ক্ষোভ নিয়ে বড় হচ্ছে সেইদিন আর বেশি দূরে নাই যেদিন পুরুষদের জন্য আলাদা সংরক্ষিত আসন বাসে থাকবে হয়ত আর বছর ১২ এরপর পুরুষেরা হয়ত স্মৃতিচারণ করবে আগে তারা রাস্তায় নির্ভয়ে হেটে বেড়াত, বিড়ি ফুঁকতো।

হুতুমপেঁচা বলছি…..