অনুরণন

মিসলেইনিআস (Miscellaneous…..!!!)

ঘন্টা তিনেক হবে । ঠাই বসে রয়েছি তিন তলার ছাদের কিনারে । রেলিং দেয়ার পয়সা যোগাড় না হওয়ায় পাশাপাশি লোহার রড গুলো আমার সঙ্গ দিচ্ছে । ৭টা সিগরেট শেষ করে আধ ঘন্টা যাবত উসখুশ করছি । কিন্তু এখান থেকে এক চুল নড়ে সিগ্রেট কিনতে যাবার কথা ভাবা যায়না । সিগ্রেট এর অবশিষ্ট ৭টাই থাকার কথা। কিন্তু রয়েছে ৫ টা আমার ডান পাশে জড়ো করা। এ অভ্যেস বহুদিনের.পকেটে জড়ো করি পোড়া সিগ্রেট । যেদিন ৩০টার বেশি সিগ্রেট খাওয়া হয় , সেদিন খুব সুখ হয় । এ জন্যে ৭টা থেকে হারানো দুটোর তালাশ করা , আমার জন্য খুব জরুরি হয়ে দাড়িয়েছে । সামনের বাড়ির কার্রেন্ট এর তারের উপর সারি সারি কিছু কাক বসে ছিল। আমি গুনিনি তারা কজন ছিল , যদিও বার কয়েক তাদের সঙ্গে আমার রেষা-রেশি জনিত দৃষ্টি বিনিময় হয়েছিল । তবে কাকেরাও যে সিগ্রেট খাচ্ছে ! এ তথ্য নতুন !!

ক্যামেরাটা ক্ষুধার্ত চোখে বার কয়েক তাকিয়েছে । রাত তিনটে থেকে মাথায় ঘুরপাক খাচ্ছে । “মানুষ!!” মানুষ ধরবো আজ । রং-বেরঙের জাত বেজাত মানুষ । রাশি রাশি হাসি খুশি মানুষ ।ফোকলা দেতো, পান খেকো, গাল পারানি…..ঘুম গাওয়ানি…সব ধাচের মানুষ ধরবো । ভিন্ন ধাচের মানুষ না ….. মানুষ কেবল মানুষ !

সাড়ে তিনটের দিকে এ রাস্তার লাইটপোস্টটার নিচে এক লোক এসে দাড়ালো …. একবারও এদিক ওদিক না তাকিয়ে জল বর্ষণ করলো লাইট পোস্ট এর ওপরে । বেশ আনন্দময় অনুভুতি হবে হয়ত তার । মনে হলো তাই । তার একটা স্ন্যাপ নিলাম।

আজানের কিছু আগ দিয়ে দুটো ছেলে রোগা-পটকা ছেলে-ছোকরা চকচকে কিছু হাতে নিয়ে হেলতে দুলতে এসে দাড়ালো লাইটপোস্টটার নিচে . তাদের ধরলাম ক্যামেরায়।

ক্রিং ক্রিং শব্দে এগিয়ে আসা রিক্সা থেকে টান দিয়ে নামালো মাঝ বয়েসী এক মহিলা আর ৯-১০ বছরের এক ছেলেকে । বোরকা পরা নারীর শরীর হাতরে কিছুই হাত হলোনা বোধ হয়…. অগ্যতা জীর্ণ-শীর্ণ কালো ব্যাগটা কেড়েই মুক্তি দিল তাদের । কিছুটা নাটকীয় কাটা-ছেড়া আশা করেছিলাম । আশায় গুড়ে বালি দিয়ে এ খেলা এভাবেই খতম হলো । ধরেছি সবটাই ।

“আল্লাহু আকবার আল্লাহ …..হু আকবার ”

শার্ট –লুঙ্গি – টুপি ….হেঁটে যাচ্চ্ছে ….তাকেও ধরলাম .

এখন কিছুটা ভোর …..৭ নম্বর সিগ্রেট অনেক আগেই জ্বলেছে .

একটা কুকুর ধরলাম এবার ……লাইট পোস্ট টা চাটছে ….নতুন স্বাদ পেয়েছে ।

কথা ছিল মানুষ ধরবো …..তাতে কি ?! কুকুর বলে কি মানুষ না!!

লিখেছেনঃ রুমানা আফরোজ শ্রাবণী