হুতুমপেঁচা বলছি

মেয়েদের যত কথা

“স্বয়ং ঈশ্বর বলে মেয়েদের বুঝতে পারেন না – সেখানে মানুষ কোন ছাড়।” কথাটি অত্যন্ত সত্য কারন এখানে “মানুষ এবং মেয়ে” আলাদা আলাদা করে বুঝানো হয়েছে, আর সম্ভাবত ঈশ্বর নিজেও পুরুষ এই ধারনাই করেন সব্বাই। ধরেই নিচ্ছি মানুষ হিসাবে পুরুষ শ্রেণী কেই বুঝানো হয়েছে আর মেয়ে বলতে তো মেয়েই । তাই মানুষগণ মেয়েদেরকে বুঝতে পারেন না সাথে ঈশ্বর নিজেও।

মেয়েদের মনের অনেক কথা আছে বলতে গেলে প্রতিটি মেয়ে তাদের নিজেদের সাথে আরও ৪টা মেয়ে কে নিয়ে ঘুরে বেরায় – তাদের কেও মা , বোন , বান্ধবী , ভবিষ্যৎ সন্তান (যদিও তাদের জন্ম না হলেও মেয়েদের মাথার মধ্যে একটি কাল্পনিক পরিবার থাকে এবং সেখানে উক্ত সন্তানের অবস্থান রয়েছে)। উপরক্ত এই ৪টি মেয়েকে নিয়েই একটি মেয়ে তার মুখ থেকে উচ্চারিত শব্দগুলো বলে থাকে। তাই মেয়েদের বোঝা আসলেই অনেক দুস্কর হয়ে পরে । কারন মানুষ সমাজ তথা পুরুষশ্রেনী সর্বদা একজন নারীকেই দেখেন কিন্তু তার ভিতরের বাকি ৩জন নারী সম্পর্কে তিনি অবগত থাকেন না কখনোই।

মেয়েদের সব থেকে কমন সমস্যা থাকে অধিক প্রেম অথবা প্রেম টিকিয়ে রাখার জন্য নানা রকম অজুহাত , মিথ্যাচার। সবচে বড় এবং কমন মেটার হচ্ছে নিজের প্রেমিকের সামন্যে বার বার নিজেকে পারিবারিক ভাবে অত্যাচারিত , প্রেমিক ব্যতিত এই জীবনে কেহ নাই , মা -বাবা অত্যাচার করিয়া মেরে ফেললো এরকম একটি অতিকায় নাটকীয় মিথ্যাচার করা। এর কারন একটাই মেয়েরা সর্বদাই আদুরে এবং সেবা দাসী হয়ে থাকতে পছন্দ করে । কর্তা / প্রেমিক তাকে অবহেলা করতেই যাতে না পারে সেইজন্য বানিয়ে বানিয়ে হাবিজাবি তাদের কে বলা। কিন্তু মেয়েরা অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ভুলে যায় যে এই বানিয়ে বানিয়ে বলা কথাগুলো যে অপর পক্ষ সহজেই বুঝতে পারে। এছাড়াও মেয়েরা যখন নিজেরাই নিজেদের পরিবার নিয়ে এমন সব কথা বলে থাকে তখন কিভাবে তারা আশা করে যে অন্য একটি পরিবারের ছেলে তাদের কে আশ্রয় দিবে ?

একের অধিক প্রেম করা এবং প্রেমে ধোঁকা খাওয়াও মেয়েদের এখন কমন ব্যাপার । সম্পর্কগুলো লক্ষ্য করলে দেখা যাবে যে বেশিরভাগ মেয়েরা এত সস্থা আর কু-রুচি সম্পুর্ন ছেলেদের পছন্দ করে যা আসলেই বে- মানান। অন্যদিকে ছেলেরা তাদের থেকে ভাল স্মার্ট পড়াশোনা জানা মেয়েদের কেই প্রেমিকা হিসাবে গ্রহন করে। আজ পর্যন্ত কোন বিবাহ বিজ্ঞাপনে দেখেছেনঃ কাল-মোটা-খাট-কমশিক্ষিত/ অশিক্ষিত- বংশ মর্যাদাহিন পাত্রি চাই ?

মেয়েরা এই প্রেমের সম্পর্কে অতীত প্রেমের ইতিহাসের বর্ণনা এবং সে কত ভালো ছিল সেগুলো বর্তমান প্রেমিককে বলতে বলতে নিজেদের মধ্যের সময় পার করে দেয় যার ফল স্বরূপ প্রেমে ব্রেকাপ এবং আবারো ইতিহাসের পদার্পন। অনেক সময় প্রেমিকের সাথে ভাঙ্গনের পর নিজেকে দোষারুপ করা , ঘুমের ওষুধ খাওয়া , আত্মহত্যা করা ইত্যাদি অনায়াসে করতে পারে কিন্তু নিজে শক্ত মজবুত একটি মেয়ে হিসাবে তৈরি করতে পারে না।

এখন মধ্য বয়সী মেয়ে বা আন্টিদের কথায় আসি- ছেলের বউয়ের কোন বান্ধবী ডিভোর্সি তা নিয়ে বলার সময় একবারও তাদের মনে হয় না যে আমার মেয়ে গত ২রাত বাসায় কাও কে কিছু না বলে বাইরে ছিল । মেয়ে সন্ধ্যায় বাসা থেকে বের হয়ে বিভিন্ন রেস্টুরেন্ট বা বান্ধবীর বাসায় আড্ডা দিয়ে রাত ১০টায় ফিরছে সে ভাল কিন্তু কোন মেয়ে বহুদিনের প্রেমিকের সাথে ছাদে দাঁড়িয়ে কথা বলেছে তো গেছে। আবার রাত ১০টায় অফিস থেকে ফেরা মেয়ের অফিসে খারাপ সম্পর্ক আছে এই কথাও বলে বেরাতে তাদের বাজে না। আন্টিরা তো অনেকেই আবার জানেন না যে আঙ্কেলরা ম্যারিড ব্যাচেলর  হয়ে আছেন । এই বিবাহিত ব্যাচেলর যে তাদের মেয়ের বয়সী মেয়েদের গোপনে মেসেজ করেন বা ঘুরতে যান তাও আন্টিরা জেনেও না জানার ভাব করে। আর জানলেও পরবর্তীতে ওই মেয়ের ১৪X১৪ জেনারেশন উদ্ধার হয়ে যায় । অপরদিকে পরক্রিয়ার কেস গুলো ঘেটে দেখুন আপনাদের তখন মনে হবে আন্টিদের নিয়ে কি জ্বালা আঙ্কেলদের এরকমই তো করবে – আসলেই তো করবে , অ্যান্টিরা আঙ্কেল বাসায় আসার সাথেই শুরু করেন এইটা সেইটা লাগবে উমুক তুমুকের উমুক এইটা কিনা দিসে আমারে দাও,  পাশের বাসার ভাবী উমুক করল , ওই মেয়ে এরকম চ্যাটাং কথা বলে , আল্লাহগো ছেলের স্কুলে স্লিভলেস ব্লাউজ কেমনে পরে গেসে মাগী বোলো তো ??? কিন্তু অ্যান্টিরা ভুলেই যায় যে এভাবে বলতে বলতে উমুক তুমুকের বউকে কেন কে কি কিনে দিচ্ছি জানতে গিয়ে বউয়ের বিষয়ে আঙ্কেলদের আগ্রহ বাড়িয়ে দেয়া হচ্ছে , পাশের বাসার ভাবির উমুক করা জানতে গিয়ে আর চোখে ভাবিকে ঝালিয়ে নেয়ার সাহায্য করা হচ্ছে, কোন মেয়ে চ্যাটাং কথা বলে তার সাথে চ্যাটিং করার উৎসাহ দিয়ে দেওয়া হচ্ছে, আর স্লিভলেস ব্লাউজের সাথে যে কিল্ভেজের সম্পর্ক থাকে তা আন্টিরা উল্লেখ্য না করলেও আঙ্কেলরা সে সম্পর্কে খোঁজ ঠিকই রাখচ্ছে।  অ্যান্টিরা তো আবার ভুলেই যান মাগী বলে যাদের গালি দিচ্ছেন এই শব্দের সাথে মাগীগিরি শব্দটি আসে আর তাতে যে পুরুষের কার্যকলাপ জড়িত। অন্যদিকে হাতে নাতে ফল পেলেও তারা সেবাদাসী থেকে উঠতে পারে না উলটা কলুপ আটকিয়ে বলবে স্বয়ং ভগবানের তো ভুল হয় সেখানে তো আমার স্বামী । অহহ ভুলেই গেছিলাম ঈশ্বর তো স্বয়ং পুরুষ আসনে অধিষ্ঠিত ।

এখন প্রাতিষ্ঠানিক কথায় আসি – ছোটবেলায় ছেলে মেয়েদের মানুষ কি তা শিখানো হয় না , শিখানো হয় নারী কি । মেয়েদের সাথে কথা বললেই তা প্রেম – ভালবাসা, শিখানো হয় মেলায় যে মেয়েরা যায় তারা খারাপ, উচ্চস্বরে হাসা মেয়েরাও খারাপ । মেয়েদের অন্তবাস দেখা গুনাহ । মেয়েদের শরীরে হাত দিলে মেয়ে অপবিত্র হয়ে যাবে। এর ফলাফল গুলো কি জানেন ?? কোন মেয়ে একটু হেসে কথা বললেই ছেলেদের আজন্ম ধারনা তার সাথে প্রেম হয়েই গেল, মেলায় তো খারাপ মেয়েরাই যায় সুতরাং তাদের কে নিয়ে ছোঁয়াছুঁয়ি খেলা খেলায় যায়। আর অন্তবাস দেখা যেহেতু গুন্নাহ তাইলে তো আরও বেশি অমান্য করাই উচিৎ। আর উচ্চস্বরে হাসা মেয়েরা তো গনিমতির মাল চাইলেই পাওয়া যায়- জ্বি আপনার আমার ঘরের পুরুষগুলো এইগুলো শুনে দেখে শিখে বড় হয়েছে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের মধ্যেও আমরা একই বীজ বপন করে যাচ্ছি।

হুমায়ন আহমেদ স্যারের একটি কথা ছিল যে – ফুর্তি করার দুইটি বিষয় হচ্ছে মদ ও মেয়ে, আর এই দুইটির মূল্য নির্ধারন হয় তার চাহিদা অনুযায়ী। স্যারের কথার সাথে মিল রেখেই বলি মদের দাম তো উর্ধমুখি তাইলে নারীর দাম এত নিম্নমুখি কেন ? বাংলাদেশের জরিপেই দেখা গেছে যে অধিকাংশ নারী নির্যাতনের কেস ভুয়া। বেগম রোকেয়ার ভগ্নীগন কোন দিন অর্ধাঙ্গীনী হতে পারেন নাই পারবেও না কারন তারা সব সময় ঈশ্বর তথা পুরুষের সেবা দাসী হয়েই থাকতে চেয়েছেন। আর হয়ত সেই কারনেই সকল গালি স্ত্রীলিঙ্গ , পুংলিঙ্গ কোন গালি আর নেই। অবশ্য এই গালি পরিবর্তনের জন্যেও আমাদের মেয়েদের কোন মাথা ব্যাথা নেই কারন তারা তো নিজেরাই দাসত্ব স্বীকার করে নিয়েছে।

ভাত-কাপড়-সন্তান-আর শারীরিক চাহিদা পুরুষ মেটাতে পারলেই তাকে ঈশ্বরের আসনে বসিয়ে দেওয়া যে কত বড় ভুল তা আজও বুঝতে পারেন নাই আমাদের মেয়েজাতী। আর পরিবর্তনের যে হাওয়া আসছে তা যে খুব একটা সুখবর আনতে পারবে বলে মনে হচ্ছে না , তবু আশাবাদী মানুষ হিসাবে পরিবর্তন দেখতে চাই। মেয়েরা নিজেদের আত্মসম্মান আর ব্যক্তিত্ব নিয়ে বাঁচতে শিখুক ২০১৭এর যাত্রা পথে শুধু এই কামনাই থাকল। নিজেকে আগে ভালবাসুন , সম্মান করুন তাইলে অবশ্যই আপনি সব্বাইকে নিয়ে ভাল থাকতে পারবেন।

হুতুমপেঁচা বলছি……