অনুরণন

অশ্রু

কেয়া বাড়ি ফিরছিলো পাশের বাড়ির ভাবি বললো ভাবি সব ভাল তো? কেয়া ভেবে পায়না ভাল না হওয়ার কি আছে! সব তো আছে সবার মতো। মুখে একটু হাসি টেনে বলে হ্যা ভাল। ঘরে গিয়ে দ্রুত কাজ সারতে শুরু করে কেয়া। কিন্তু কাজ তো এগোয় না, রাজ্যের ভাবনা মনে উকি দেয়।এই তো সেদিন স্কুলে রুপালী ভািব বললো তোমাকে নাকি কোন মহিলার সাথে কফি শপে কফি খেতে দেখেছে। আমি বলেছিলাম তুমি কি মাঝে মাঝে কফি খেতে যাও নাকি? তুমি তো অাকাশ ফুড়ে মাটিতে পড়লে! বললে কফি আবার আমার পছন্দ নাকি! ঠিকই তুমি তো চা – কফি খেতে পছন্দ করোনা কখনই। মনে মনে ভাবি থাকনা এতো সন্দেহ কিসের

আমি সেদিন মার্কেটে গিয়েছিলাম জানো তো? আমাদের সেই চেনা দোকান টায়।রুবেল ভাই বললেন ভাবি জামাটা পছন্দ হয়েছে? অনেক বেছে সবুজ – নীল ম্যাচিং জামাটা পছন্দ করলো ভাই। কি বলবো না পাইনি তো জামাটা, নাকি নীল – সবুজ আমার প্রিয় রং না। তুমি তো বলো মার্কেটে যেতে তোমার ভাললাগেনা। তাহলে কার জন্য ভাললাগতে শুরু করেছে। কেয়া মুখে শুকনো হাসি টেনে বলে হ্যা হবেনা কেনো ওর পছন্দ তো অনেক ভাল। সেদিন সারা রাস্তা ভেবেছে কেয়া কার জন্য জামাটা কিনে ছিলো রবি, তাহলে কি কফি খেতে যাওয়া জামা কেনা সবই একই মানুষের জন্য! এসব ভাবতে ভাবতে বাড়ি ফেরা। যাক কাজগুলো শেষ, ভাবে কেয়া। এবার চোখ মুখে একটু পানি দিতে হবে। ট্যাপটা ছেড়ে হাতে পানি নিয়েছে ঠিক তখনই চোখের কোল বেয়ে গড়িয়ে পরলো কিছু । অপমান বোধ কুঁড়ে কুঁড়ে খায় তাকে। এভাবে তুচ্ছ করা কেনো? তোমরা ছেলেরা বুঝি এরকমই! আবার চোখ ছলছল করে উঠে, কেয়া দ্রুত চোখে পানির ঝাপটা দেয় যেনো অশ্রুগুলো ধুয়ে মুছে যায় সবার অগোচরে।

লিখেছেনঃ সাজিয়া আফরিন